মেইন ম্যেনু

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি বিশ্বব্যাংক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যা ছিল সেতুর কাজ বন্ধের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।

শনিবার সকালে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদীশাসন কাজের ফলক উন্মোচনের পর এক সুধী সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। নির্মাণ প্রকল্পে অনেক বাধাবিপত্তি ছিল। আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের প্রকল্প হাতে নিলে বিশ্বব্যাংক এগিয়ে আসে। কিন্তু হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই তারা দুর্নীতির অভিযোগ আনে। আমরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিএনপি সরকারের সময়ের দুটি দুর্নীতির কাগজ দেখায়। এ ছাড়া তারা কোনো দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বনামধন্য ও বিশ্ববিখ্যাত এক ব্যক্তি একটা ব্যাংকের প্রধান ছিলেন। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে একটা মামলা করেছিলেন। মামলায় হেরে গিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রধানের পদ হারান। এর পরই বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট (রবার্ট জোয়েলিক) তার শেষ কর্মদিবসে পদ্মা সেতুর অর্থ ছাড় বন্ধ করে দেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাঙালি জাতি কারো কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না। আমরা সেই জাতি, যে জাতি সম্পর্কে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘‘কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না”, আজকেও সেটি প্রমাণ হতে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এ দেশের মানুষের সহযোগিতা, সাহস নিয়ে পদ্মা সেতুর কাজে হাত দিয়েছি। এ দেশের মানুষের সাহসই আমার শক্তি। এ দেশের অনেকেই এ সেতু নির্মাণ করতে চেক দিয়েছিলেন কিন্তু আমরা সেগুলো গ্রহণ করিনি। দেশের মানুষ এ সেতু নির্মাণ করতে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। দেশের মানুষের সাহস ও শক্তিই আমাকে শক্তি জুগিয়েছে, অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কাজে সবার সহযোগিতা কাম্য। এতে এপার-ওপার দুই পারের মানুষই সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। শুধু আমাদের দেশের জন্য নয়, এতে আঞ্চলিক উন্নয়নও হবে। গতিশীল হবে বাংলাদেশের মানুষ।’ পদ্মা সেতু নির্মাণে যারা ভিটেমাটি দিয়েছেন, তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যরা সবাই অবহেলার চোখে দেখেছে। আমরা নতুন পোর্ট করেছি, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। সেই সঙ্গে উন্নত রেলওয়েও করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এখন শুধু ক্রিকেটেই সেঞ্চুরি করছি না, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেও সেঞ্চুরি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়নের ৯০ শতাংশ নিজেদের অর্থায়নে করতে পারি। বাংলাদেশ স্বাবলম্বী হবে। কারো কাছে হাত পেতে নয়। আমরা উৎপাদন করি। দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’

সুধী সমাবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর নদীশাসন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নদীশাসনের কাজ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। ব্যয় হবে ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর পুরো প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। এই সেতু দিয়ে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে দক্ষিণ জনপদের ২১ জেলা।






মন্তব্য চালু নেই