মেইন ম্যেনু

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগে ব্যয় হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেল লাইন সংযোগ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মাধ্যমে সেতুর ওপর দিয়ে চলবে বাস ও অন্যান্য যানবাহন এবং নিচ দিয়ে চলবে রেল। এজন্য পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে ১৬৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেল লাইন নির্মাণে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে; যা রেল লাইন নির্মাণ সংক্রান্ত এ যাবৎ কালের সর্ববৃহৎ প্রকল্প।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ রেলপথটি সম্পন্ন হলে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত যাতায়াতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এছাড়া এই রেলপথের মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ান আঞ্চলিক রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হবে।

রেলওয়ে সূত্র মতে, রেললাইন সংযোগের কাজ দুটি ধাপে শেষ হবে। প্রথম ধাপে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে মাওয়া থেকে ঢাকা আসার সংযোগ সড়ক তৈরি হবে। তবে এই অংশের কাজ শেষ হতে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। সেতুর ওপর রেলপথ হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। প্রথম ধাপে কেরানীগঞ্জ, নিমতলা, শ্রীনগর, মাওয়া, জাজিরা, শিবচর এবং ভাঙ্গাতে সাতটি নতুন স্টেশন হবে। এ সেকশনে মোট ১২৫টি ছোট-বড় রেলসেতু নির্মাণ করা হবে। অবশ্য বর্তমানে কমলাপুর থেকে গেন্ডারিয়া পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার রেললাইন রয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ভাঙ্গা-নড়াইল-যশোর পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার লাইন নির্মিত হবে। ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন থেকে কাশিয়ানী, লোহাগড়া হয়ে ওয়াই কানেকশনের মাধ্যমে যশোরের দিকে রূপদিয়া স্টেশন এবং খুলনার দিকে সিঙ্গিয়া স্টেশন পর্যন্ত লাইন নির্মিত হবে। বর্তমানে যশোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত রেললাইন চালু রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মুকসুদপুর, মহেশপুর, লোহাগড়া, নড়াইল, জামদিয়া এবং পদ্মবিলাতে ৮টি স্টেশন স্থাপন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ ২০২১ সাল নাগাদ শেষ হতে পারে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও চীন দু’দেশের মধ্যে জি টু জি পদ্ধতিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের কাজ করার জন্য চীন সরকার তাদের দেশের চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানিকে চূড়ান্ত করেছে।

মোট ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা ব্যয় সংবলিত রেলপথটি নির্মাণে ৩৬৫ হেক্টর জমির প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ৯২ হেক্টর সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) প্রায় ১৯ হেক্টর সেতু কর্তৃপক্ষ এবং ১০ হেক্টর সরকারি জলমহাল থেকে পাওয়া যাবে। অবশিষ্ট অধিগ্রহণ করা হবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি; যা ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক সাগর কৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, সেতু উদ্বোধনের দিন থেকেই চলবে ট্রেন। শিগগিরই নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথ প্রকল্পের ফেইজ-১ এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। দ্বিতীয় ফেইজে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত লাইন নির্মাণ ২০২১ সালে শেষ হবে।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ৩২ কিলোমিটার, সেতুর ওপর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার, সেতু সংলগ্ন দু’পাশে ৪ কিলোমিটার ও সেতু থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৩১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ভাঙ্গা-নড়াইল-যশোর পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার লাইন নির্মিত হবে। এ রেলপথে ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। প্রথম ফেইজে মোট ১২৫টি ছোট-বড় রেলসেতু নির্মাণ করতে হবে। দ্বিতীয় ফেইজে নতুন ৮টি রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই