মেইন ম্যেনু

ভোলা সদরের ইউনিয়ন যুবদলের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলকে ঘিরে

পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা গ্রুপিং, লবিং করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন

ফজলে আলম, ভোলা প্রতিনিধি : ভোলা সদর উপজেলা যুবদলের অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদলের কাউন্সিলকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠছে রাজনৈতিক মাঠ। পদ পেতে গ্রুপিং, লবিং সহ বিভিন্ন ভাবে কাজ শুরু করেছে পদ প্রত্যাশিরা। সদর উপজেলার ১৫টি সাংগঠনিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আন্দোলনকে বেগবান করতে বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদল এর পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। পরিক্ষিত, ত্যাগী কর্মীদের দিয়েই ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুবদলের নেতারা। দীর্ঘ কয়েক বছর পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় অনেক ইউনিয়নের যুবদলের কার্যক্রম অনেকটা বিঘিœত হয়ে পড়েছিল। বর্তমান ভোলা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি দ্রুত ইউনিয়ন কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন। ভোলা সদরের ২নং পূর্ব ইলিশা, রাজাপুর, কাচিয়া, পশ্চিম ইলিশা, বাপ্তা, ধনিয়া, শিবপুর, আলীনগর, চরসামাইয়া, ভেদুরিয়া, উত্তর দিঘলদী, দক্ষিন দিঘলদী ইউনিয়নের কমিটি দ্রুত গঠন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা যুবদল।

বিগত আন্দোলনগুলোতে সরকার দলের মামলা-হামলার ভয়ে অনেক ইউনিয়ন যুবদলের মূল নেতাদের ভূমিকা ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের কার্যক্রম অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। আবার অনেকে সরকারি দলের সাথে আতাত করে লিয়াজো ম্যান্ডেন করে রাজনীতি করছেন। ফলে সাধারন নেতাকর্মীরা পড়েছেন বিপাকে। তবে অনেক ইউনিয়নে যুবদলের পদ-পদবীতে থাকা নেতাকর্মীদের চেয়ে সাধারন সদস্যরাই আন্দোলন সংগ্রামে বেশি ভূমি পালন করেছে। তাই সকল দিক বিবেচনা করেই ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি গঠন করা হবে। সমর্থকদের আশা যাতে কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়, ষড়যন্ত্রকারী, হাইব্রীড, আতাতকারী কেউ কমিটিতে স্থান না পায়। কমিটিতে সৎ, যোগ্য, ত্যাগী ও আগামী আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে পাওয়া যাবে তেমন কর্মীদের হাতেই ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃত্ব আসবে বলে সাধারন নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা।

২নং পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন যুবদলে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় এক যুগ আগে। ইকবাল হাওলাদারকে আহ্বায়ক, কামাল সিকদারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তবে এই কমিটি গঠনের পর থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে কিছু কিছু নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল প্রশ্ন বিদ্ধ। তবে পদ-পদবীতে থাকা নেতাকর্মীদের চেয়ে সাধারন সদস্যরাই আন্দোলন সংগ্রামে বেশি ভূমি পালন করেছে। জেলা যুবদলের সদস্য মো: স¤্রাট হাওলাদার কিছু উদীয়মান নেতাকর্মীদের নিয়ে বিগত আন্দোলনগুলোতে ইলিশা ইউনিয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে আল আমিন, নোমান, রুবেল রাঢ়ী, রাসেল হাওলাদার, সিরাজ বিএনপির ডাকা যে কোন আন্দোলগুলোতে রাজপথে সক্রিয় ছিলো। সরকার পতনের আন্দোলন করায় স¤্রাট হাওলাদারের বিরুদ্ধে কয়েকটি রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় স¤্রাট হাওলাদার জেল খেটেছেন। বর্তমানে ইউনিয়ন যুবদলের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলকে ঘিরে পদ-পদবীর জন্য নেতাকর্মীদের দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে। পদ পেতে গ্রুপিং, লবিং সহ বিভিন্ন ভাবে কাজ শুরু করেছে পদ প্রত্যাশিরা। পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদের জন্য জোর লবিং করে যাচ্ছেন জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন সিকদার ও জেলা যুবদলের সদস্য ত্যাগী নেতা মো: স¤্রাট হাওলাদার। সভাপতি পদে আরও লবিং করে যাচ্ছেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরে আলম পাটোয়ারী। তবে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় মোঃ স¤্রাট হাওলাদারকে এগিয়ে রাখছেন নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, বিএনপির ডাকা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে মোঃ স¤্রাট হাং নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। স¤্রাট হাং এর যোগ্য নেতৃত্ব নেতাকর্মীদের মূগ্ধ করেছে। আবার অনেক যুবদলকর্মী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন সিকদারকে সভাপতি পদে এগিয়ে রাখছেন। তারা কামাল সিকদারকে সভাপতি হিসেবে যোগ্য মনে করছেন। তারা বলেন, কামাল সিকদার ইউনিয়ন যুবদল ও জেলা যুবদলের কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। তাই তিনি সভাপতি হবেন এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া সাধারন সম্পাদক পদে জোর লবিং করে যাচ্ছেন, যুবদল নেতা মো: শামিম, অমি হাওলাদার, হাসান মোল্লা, মো: ইব্রাহিম, মো: রহিম। সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য লবিং করে যাচ্ছেন, মো: রাসেল হাওলাদার, মো: নিজাম উদ্দিন, সিরাজ, আল আমিন, নোমান, রুবেল রাঢ়ি প্রমুখ। তারা পদ পেতে গ্রুপিং, লবিং করে নেতাকর্মীদের মন জয় করার জন্য রাজনৈতিক মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, ইউনিয়ন যুবদলের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলকে ঘিরে বাপ্তা ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহের আমেজ বিরাজ করছে। পদ পদবী পেতে গ্রুপিং, লবিং শুরু করেছে পদ প্রত্যাশি নেতাকর্মীরা। সভাপদি পদে লবিং করে যাচ্ছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এইচ এম সোহেল তালুকদার, নজরুল ইসলাম, যুবদল নেতা আবুল হোসেন, জাকির হোসেন। তবে সভাপতি পদে এগিয়ে আছেন বিগত আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এইচ এম সোহেল তালুকদার। জানা যায়, বিএনপি ডাকা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় সোহেল তালুকদার একাধীক মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় একাধীকবার জেল খেটেছেন সোহেল তালুকদার। এছাড়াও নেতাকর্মীদের সাথে রয়েছে তার সু-সম্পর্ক। তাই তিনি সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন। তবে অন্যান্য নেতাকর্মীরাও পদ পেতে জোর লবিং, গ্রুপিং ও জেলা নেতাদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সম্পাদক পদে লবিং করে যাচ্ছে ইউনিয়ণ যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন তালুকদার, নাজিম উদ্দিন, মো: দুলাল হোসেন। তারও পদ পেতে বিভিন্নভাবে গ্রুপি, লবিং করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদল নেতাকর্মীরা পদ পদবীর জন্য জোর লবিং, গ্রুপি করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারা নেতাকর্মীদের মন জয় করার জন্য দৌঁড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন।

পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা বলেন, ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে বিগত আন্দোলনে যারা রাজপথে থেকে সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছেন এবং সরকারের মামলা হামলার শিকার হয়েছে সে সকল ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকে জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ ইউনিয়ন যুবদলের দায়িত্ব দিবেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে আরো শক্তিশালী করে আগামী আন্দোলন সংগ্রামে তারা রাজপথে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলে তারা জানিয়েছেন।

ভোলা সদর থানা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন সবুজ বলেন, আগামী আন্দোলন সংগ্রামে সামনে যেতে এসময়ের মাঝামাঝি থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিটি গঠন শুরু হবে।

ইউনিয়ন সম্মেলনের ব্যাপারে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম কায়েদ বলেন, ইউনিয়ন যুবদলের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে আরো শক্তিশালী করে সরকার পতনের আন্দোলনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন যুবদল কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন সেসব ত্যাগী নেতাকর্মীরাই এবারের কমিটিতে সুযোগ পাবেন।






মন্তব্য চালু নেই