মেইন ম্যেনু

পরকীয়ার টানে লন্ডন থেকে বংলাদেশে, অতপর…

সুনামগঞ্জ: রশিদের সঙ্গ ছেড়ে লন্ডনে থাকা স্বামী আজাদের কাছে ছুটে গেছেন সিলেটের আলোচিত ‘লন্ডনি বধূ’ রুমেনা বেগম। বললেন, ‘সরি- ভুল হয়ে গেছে’। কিন্তু আজাদ তার কথায় কর্ণপাত করলেন না। পুলিশ ডেকে এনে স্ত্রীর কার্যকলাপ সম্পর্কে অবহিত করলেন। বাংলাদেশে এসে রুমেনার হেফাজত বন্দি হওয়ার ছবি ও ফুটেজ লন্ডন পুলিশকে অবগত করেছিলেন তিনি।

রুমেনা লন্ডনে যাওয়ার পর ওখানকার পুলিশ আজাদ ও রুমেনাকে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এরপর দুজনকে আপাতত পৃথক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল বিশ্বনাথের আজাদ জানিয়েছেন, যে স্ত্রী তার সন্তানকে ভুলে যায় তার সঙ্গে আর ঘর করা যায় না।

ওদের পরিবারের ভাই, বোন সবাই দুই বিয়ে করেছে। অবশেষে রুমেনাও সেই পথে এগুচ্ছে বলে জানান তিনি। বিশ্বনাথের খালপাড় রহিমপুর গ্রামের ছিদ্দিক আলীর ছেলে আজাদ মিয়া ২০০৪ সালে বিয়ে করেন রুমেনা বেগমকে। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু গত ২-৩ বছর ধরে লন্ডনে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে যায় রুমেনা বেগম। স্বামী আজাদ মিয়ার অবাধ্য হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তবে, এবার দেশে আসার আগে রুমেনা স্বামী আজাদের সঙ্গে সব দূরত্বের অবসান ঘটান।

চিকিৎসা করানোর কথা বলে স্বামীর কাছ থেকে দুই সপ্তাহের ছুটি নিয়ে দেশে আসেন। দেশের আসার সময় আজাদের স্বজনদের দেয়ার জন্য নিয়ে এসেছিল ৭ হাজার পাউন্ড ও ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। কিন্তু দেশে এসেই রুমেনা ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপহৃত হন। বিশ্বনাথের দুর্যাকাপন (এজাহারে বর্ণিত চানশিরকাপন) গ্রামের রশিদ ওরফে ল্যাংড়া রশিদ ও তার সহযোগীরা বিমানবন্দর থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এরপর রশিদকে প্রধান আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করেন রুমেনার আপন ভাই দেশে থাকা রফিকুল ইসলাম। ওই মামলার এজাহারে তার বোনকে অপহরণের কথা বলা হয়। এদিকে অপহরণ মামলা পর পুলিশ যখন উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে তখন ১৫ই জুন আদালতে হাজির হন রুমেনা। এ সময় রুমেনা আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে আদালত রুমেনাকে সিলেট নগরীর বাগবাড়িস্থ ‘সেইফ হোমে’ পাঠিয়ে দেন।

এরপর ২২শে জুন নিজ জিম্মায় চলে যান রুমেনা বেগম। নিজ জিম্মায় গেলেও তিনি নিজের বাড়ি বিশ্বনাথের দৌলতপুরে যাননি। কিংবা স্বামীর বাড়ি বিশ্বনাথের খালপাড় রহিমপুর গ্রামেও যাননি। ফলে রুমেনাকে নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়। তাকে নিয়ে নতুন করে দুচিন্তায় পড়েন দেশে থাকা মা জমিলা খাতুন।

ওদিকে, লন্ডনে থাকা রুমেনার সন্তান রেদুয়ান ও রায়হান অস্থির হয়ে উঠে। দেশে থাকার সময় রুমেনা তার দুই সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। দেশে থাকা আজাদের ভাই মতিন মিয়া জানিয়েছেন, হঠাৎ করে তারা দেশ থেকে আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে তারা আজাদকে নিয়ে টেনশনে পড়েন। পরে আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানতে পারেন রুমেনা লন্ডনে চলে গেছে। এরপর আজাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুজনকে পৃথক পৃথক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ কারণে তারা আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেননি।

এদিকে, রুমেনা দেশে এসে অপহৃত হওয়ার পর পরই লন্ডনের পুলিশকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন আজাদ মিয়া। এ সময় তিনি রুমেনার কিছু ভিডিও ফুটেজ ও ছবি লন্ডন পুলিশের কাছে দেন। রুমেনা কোনো উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি-না বিষয়টি খতিয়ে দেখতে লন্ডন পুলিশকে অনুরোধ করেন আজাদ। এরপর গত শুক্রবার হঠাৎ করেই লন্ডনে আজাদের বাসায় গিয়ে হাজির রুমেনা। এ সময় রুমেনা আজাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চালায়।

তার জীবনে যা ঘটেছে সে সম্পর্কে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইতে যায়। কিন্তু আজাদ বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন। এবং রুমেনা লন্ডনে আসার খবর জানার পর পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। পরে আজাদকেও ডেকে নেয় পুলিশ। দুজনকে পৃথকভাবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত দুই সন্তানকে নিয়ে আজাদের বাসায় রুমেনাকে থাকার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। আর আজাদকে অন্য একটি বাসায় বসবাসের সুযোগ দিয়েছে পুলিশ।

লন্ডনে থাকা আজাদ জানিয়েছেন, রুমেনাকে নিয়ে পুলিশের সন্দেহ অনেক। এ কারণে পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সময় নিয়েছে। আর এই সময়ে দুই সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব রুমেনাকে দিয়েছে। আজাদ জানিয়েছেন, লন্ডনে বাঙালি কমিউনিটির কাছে রুমেনার আসল চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে।-মানবজমিন।






মন্তব্য চালু নেই