মেইন ম্যেনু

পরকীয়ায় বাধা, স্ত্রীকে হত্যা করলেন ঘরজামাই!

পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছেন ঘরজামাই স্বামী। পরে জামাইকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। শুক্রবার সকালে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে ঘরজামাইয়ের হাতে স্ত্রী হত্যার এ ঘটনা ঘটে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শাহাবাজপুর গ্রামে।

নিহত গৃহবধূর নাম রওশন আরা (২৫)। তিনি শাহাবাজপুর গ্রামের আবু বাক্কারের মেয়ে। বছর সাতেক আগে নরসিংদী জেলার আবদুল বাতেনের ছেলে আমজাদ আলীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

রওশন আরার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামী আমজাদ আলীকে বর্তমানে তাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ঘটনা নিশ্চিত করে রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, বিয়ের পর থেকে শ্বশুর বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবেই থাকতেন আমজাদ আলী।

নিহতের মা সেলিনা বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, তিন বছর থেকে ঢাকায় গার্মেন্টসের এক মেয়ের সঙ্গে আমজাদের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমজাদ প্রায় সময় মোবাইলে ওই মেয়ের সঙ্গে কথা বলে এবং মাঝে মধ্যে তার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার মেয়ে প্রতিবাদ করে। এরপর থেকে প্রায় সময় কারণে অকারণে তার মেয়েকে নির্যাতন করতো আমজাদ।

সেলিনা বেগম আরো জানান, শুক্রবার ওই মেয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য ঢাকা যেতে চাইলে তার মেয়ে বাধা দেয়। এ সময় তাকে হত্যা করে হলেও ঢাকায় যাবে বলে রওশন আরাকে হুমকি দেয় জামাই। পরে এর জের ধরে শুক্রবার ভোরে নিজ ঘরে বালিশচাপা দিয়ে মেয়েকে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেন তার মা।

এদিকে, হত্যার বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের নয় বছরের ছেলে রাশেদুল ইসলাম কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিবেশীরা গিয়ে আমজাদ আলীকে হাতেনাতে আটক করে। পরে স্থানীয়রা আমজাদকে গণপিটুনি দিয়ে থানায় খবর দেয়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, আমজাদকে বর্তমানে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। স্বীকারোক্তি দিলে শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে। না হলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এছাড়া গৃহবধূর মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করবেন বলে জানান তিনি।






মন্তব্য চালু নেই