মেইন ম্যেনু

পরম কারুণিক বুদ্ধ ক্ষমা করেননি একজনকেই! কিন্তু কেন? জানুন বুদ্ধ ধর্মের একটি ঘটনা…

মানবজীবনের সবথেকে বড় শত্রুদের চিহ্নিত করেছিলেন বুদ্ধদেব। সেই শত্রুদের মধ্যে ‘কোধে’ বা ক্রোধ, ‘মানে’ বা অহঙ্কার, ‘নিথুলিয়ে’ বা নিষ্ঠুরতা অন্যতম। এই চরিত্রবৈশিষ্ট্যগুলি মানুষকে হীনতর অস্তিত্বে পর্যবসিত করে। একমাত্র ক্ষমাই মানুষকে উদ্ধার করে পারে এই নিম্নগামিতা থেকে। বুদ্ধ ক্ষমাকেই পরম ধর্ম হিসেবে মেনেছিলেন। তাঁর সারাজীবনে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছেন, এমন ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। কিন্তু অশ্বঘোষ বিরচিত ‘বুদ্ধচরিত’ এবং বৌদ্ধ নিকায়গুলিতে উল্লিখিত কাহিনিগুলি থেকে জানা যায়, এই বিরুদ্ধাচারীদের প্রত্যেককেই বুদ্ধ ক্ষমা করেছিলেন। কিন্তু একটি ক্ষেত্রে ক্ষমা নিঃসরিত হয়নি পরম কারুণিকের হৃদয় থেকে।

কী সেই ঘটনা?

একবার এক বণিক ক্রুদ্ধ হয়ে বুদ্ধের সমীপে উপস্থিত হন। তাঁর বক্তব্য— বুদ্ধ এক অন্যায় কাজ করে চলেছেন। তাঁর পুত্ররা বুদ্ধের কাছে প্রতিদিন কিছুক্ষণ ধ্যান করতে যেত। তিনি ভাবেন, এতে সময় নষ্ট হচ্ছে। ধ্যান না করে তারা যদি পারিবারিক ব্যবসায় সময় দিত, তা হলে তিনি আরও বেশি করে লাভের মুখ দেখতেন। দিনের পর দিন এই কাণ্ড দেখতে দেখতে তিনি অধৈর্য্য হয়ে পড়েন এবং বুদ্ধকে সমুচিত শিক্ষা দেবেন মনস্থ করে তাঁর সমীপে উপস্থিত হন।

বুদ্ধের কাছে আসতেই সেই বণিকের বাকি সব চিন্তুা লুপ্ত হয়। কেবলমাত্র ক্রোধ ছেয়ে থাকে তার চৈতন্য। ক্রোধে তাঁর কথা বলার ক্ষমতাও লুপ্ত হয়। তিনি আর কিছু করতে না পেরে বুদ্ধের সামনে পৌঁছে তাঁর মুখে থুতু ছুড়ে দেন। বুদ্ধের প্রতিক্রিয়া ছিল আশ্চর্য রকমের শান্ত। তিনি বণিকের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসেন। বুদ্ধের শিষ্যরা বণিকের উপরে মারাত্মক চটে যান। কিন্তু তথাগতের উপস্থিতিতে তাঁকে কিছু করতে পারেননি। বুদ্ধকে নির্বিকার দেখে বণিক সেই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তার পরে সারা দিন সারা রাত সেই বণিক অস্বস্তিতে ছটফট করতে থাকেন। তিনি বুদ্ধের শান্ত হাসিটেকে ভুলতে পারছিলেন না। পরের দিন তিনি আবার বুদ্ধের কাছে যান। এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু সমবেত সকলকে স্তম্ভিত করে দিয়ে বুদ্ধ জানান, তিনি তাঁকে ক্ষমা করতে পারছেন না। আপামর প্রাণীকুলকে ক্ষমা করতে পারেন যে পুরুষ, তিনি কেন এই ব্যক্তিকে ক্ষমা করতে পারছেন না, তা জানতে সকলে উৎসুক হয়ে পড়ে। বুদ্ধ জানান— সেই ব্যক্তি এমন কিছু করেননি, যার জন্য তাঁকে ক্ষমা করতে হবে। কোনও অন্যায় তো এই ব্যক্তি করেননি!

তখন সেই বণিকই আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, গতকাল তিনি বুদ্ধের মুখে থুতু ছুড়ে দিয়েছিলেন। সেটা কি কোনও অন্যায় নয়? বুদ্ধ উত্তরে জানান, না, যে ব্যক্তি সেই কাজটি করেছিল, সে আর নেই। তাঁর সামনে যিনি দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তিনি অন্য লোক।

ক্ষমার যে অন্য ধরণ হয়ে পারে, তা দেখে বুদ্ধের শিষ্যরা হতবাক হয়ে যান। ক্রোধ যে সবথেকে বর্জনীয় একটি রিপু, সেকথাও বুদ্ধ এই ঘটনায় বুঝিয়ে দেন।






মন্তব্য চালু নেই