মেইন ম্যেনু

পরীক্ষা নিয়ে আর কত পরীক্ষা?

পৃথিবীর যেকোনো দেশে শিক্ষা খাতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। অথচ স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কতকিছুই না করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনযন্ত্রের সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। হরতাল-অবরোধের আতঙ্ক পাড়ি দিয়ে পরীক্ষার হলে গিয়েও শান্তি নেই।

৩২ সেট প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে আতঙ্কে। যেখানে পৃথিবীজুড়ে “ও” এবং “এ” লেভেলের পরীক্ষার্থীরা একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিচ্ছে সেখানে আমাদের দেশে কেন ৩২ সেট প্রশ্নের যন্ত্রণা মাথায় নিয়ে পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে হবে?

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের পর এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

শিক্ষা মহলে বলাবলি হচ্ছে-আলাদা প্রশ্নপত্রের কারণেই এবছর এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় হয়েছে। ৩২ সেট প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা রীতিমতো বৈষম্যের শিকার হয়েছে।

গত ছয় বছরের মধ্যে এতো খারাপ ফল আর হয়নি। এ বছরের ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে এ পদ্ধতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা আগের সৃজনশীল এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এ বছর আমরা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার জন্যই সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করেছিলাম। এসএসসির ২০টি বিষয়ে কিন্তু অভিন্ন সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আলাদাভাবে এইচএসএসির প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়েছি।

পরীক্ষা নিয়ে আর কত পরীক্ষা?
এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার কারণেও তো প্রশ্নফাঁস বিতর্ক থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষা প্রশাসন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সেটা নিয়েই এখন ভাবছি। আমরা ডিজিটাইজেশন পদ্ধতিতে চলে গেলে হয়তো আর এ সমস্যা হবে না। সেদিকেই আমরা এগুচ্ছি।

তিনি বলেন, সামনের পরীক্ষাগুলো আমরা অভিন্ন প্রশ্নে ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতিতে নেবো। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শিগগিরই নেয়া হবে।

তবে তিনি শিক্ষকদের নৈতিকতার বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমাদের পুরো শিক্ষক সমাজ যদি নৈতিক চেতনায় বলীয়ান না হয় তাহলে সমাজ থেকে কীট দূর করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, কিছু অনৈতিক শিক্ষকদের কারণে আমাদের প্রশ্নপত্র ফাঁসের কলঙ্ক নিতে হচ্ছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তবে অপরাধীদের ধরতে কাজ চলছে। আশা করছি তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেলে আর এ সমস্যা থাকবে না।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়। শিক্ষানীতির আলোকে সৃজনশীল পদ্ধতিতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম দুটি বিষয় (বাংলা ও ধর্ম শিক্ষা) সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয় ।

বর্তমানে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সব বিষয়ে এবং এইচএসসিতে আংশিকভাবে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়েছে। সৃজনশীল পদ্ধতি সম্পর্কে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ জনগণের ব্যাপক অংশের সুস্পষ্ট ধারণা নেই। এই কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান,পরীক্ষা-পদ্ধতি, পাবলিক পরীক্ষার ফল এবং পাস করা শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে ভুল ধারণা দিয়ে সহজে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সৃজনশীল পদ্ধতিতে তিন ঘণ্টার একটি প্রশ্নপত্রের দুটি অংশ আছে। প্রথম অংশে সৃজনশীলে ৬০ নম্বর এবং দ্বিতীয় অংশে বহুনির্বাচনীতে ৪০ নম্বর। প্রশ্নের উভয় অংশে শুধু মুখস্ত করে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্র সীমিত। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে ভালো করতে হলে পুরো পাঠ্যবই পড়তে হবে এবং বিষয়বস্তু বুঝতে হবে। এ কারণে শিক্ষার্থীকে চিন্তা করতে হবে বেশি, লিখতে হবে কম।

এ বছর এইচএসসি ফলাফল খারাপের পেছনে সৃজনশীল পদ্ধতিও দায়ী বলে খোদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন।

এবার ১২টি বিষয়ের ২৩টি পত্রে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে সৃজনশীল বিষয়গুলোর প্রশ্নপত্র সব বোর্ডে অভিন্ন হতো। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবার প্রথমবারের মতো বোর্ডগুলো আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়েছে। আগে আন্তঃবোর্ড মিলে চার সেট প্রশ্ন করত। সেখান থেকে লটারির মাধ্যমে এক সেট বাছাই করে পরীক্ষা নেওয়া হতো। এবার প্রতিটি বোর্ডের জন্য চারটি করে মোট ৩২ সেট প্রশ্নপত্র করা হয়। সেখান থেকে লটারি করে বোর্ডগুলো আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ বলেন, কয়েক বছর ধরে সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে, সে বিষয়ে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবার হঠাৎ করে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ায় পরীক্ষার্থীরা কিছুটা সমস্যায় পড়ে। সার্বিক ফল খারাপের জন্য এটাও বড় কারণ বলে তিনি জানান।






মন্তব্য চালু নেই