মেইন ম্যেনু

পরী নাম্বার টু, প্রিয়ন্তি নাম্বার ওয়ান!

বাংলা চলচ্চিত্রে যারা নায়িকা হিসেবে শুধু পরী মনিকেই চেনেন তাদের জন্য নতুন এক পরীর খবর এটা। একদম বলতে গেলে পরী নাম্বার টু। কিন্তু প্রিয়ন্তি নাম্বার ওয়ান। কেননা তার নাম প্রিয়ন্তি পরী। সত্যি বলতে ঠিক প্রিয়ন্তি পরীও না। আদি নাম প্রিয়াংকা পরী। এবার কি ভাবছেন প্রিয়াংকা চোপড়ার ঘরেও হানা? না সে কথা মানা। প্রিয়াংকা নাম বদলে তাকে প্রিয়ন্তি নাম উপহার দিয়েছেন নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। কেননা এ নির্মাতার সিনেমা চুপি চুপি প্রেম দিয়েই শুরু তার। তাহলে কি নামে ডাকবেন তাকে?

প্রিয়ন্তি পরী বললেন, পরী নামটা আমার বাবা রেখেছেন। নামটার মধ্যে মধ্যে অনেক আদর খুঁজে পাই আমি। তাই আমার নাম আসলে পরীই। কিন্তু সিনেমায় আমাকে লোকে প্রিয়ন্তি নামেই চিনুক।’

তাহলে প্রিয়ন্তি নামই ফাইনাল। প্রিয়ন্তির বেড়ে ওঠা ঢাকায়। মিরপুরে তার স্থায়ী নিবাস। বাবা ব্যাবসায়ী আর মা গৃহিনী। প্রিয়ন্তি নায়িকা হবেন এমন স্বপ্ন কিন্তু প্রিয়ন্তির নয়। স্বপ্নটা তার মায়ের। মা তার তুমুল ইচ্ছার ফসল হিসেবেই প্রিয়ন্তিকে গড়ে তুলেছেন ছোটবেলা থেকে।

নাচ শিখেছেন বাফাতে। ছোট থেকেই নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মঞ্চে তার যাতায়াত। নাচটাই তার ভালো লাগতো। মা বললেন অভিনয়টাও করো। তাই অভিনয়েও যুক্ত হওয়া। শিশু শিল্পী হিসেবে নাটকে ও নাচে বিভিন্ন চ্যানেলে পারফর্ম এর অভিজ্ঞতা জমে ঝুলিতে।

তারপরের গল্পটা বড় হওয়ার পর। পরী থুক্কু প্রিয়ন্তি তখন কলেজ গার্ল। হুট করে দেশে এলো ভিট চ্যানেল আই তারকা প্রতিযোগীতা। প্রিয়ন্তির মায়ের নজরে পড়লো সেটা। প্রিয়ন্তির ছবি তুলে পাঠিয়ে দিলেন শর্ত পূরণ করে। ডাক এলো প্রিয়ন্তির। প্রিয়ন্তি যখন জানতে পারলেন তখন তার সে কি রাগ। ‘রিয়েলিটি শো’ তে গিয়ে না টিকে ফিরে আসতে হলে সে অপমান প্রিয়ন্তি নেবেন না। তবু তার মা গোঁ ধরলেন। ‘তোকে যেতেই হবে…’

প্রিয়ন্তি গেলেন। কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা দশে ঢুকে তবেই ফিরলেন। সেরা তিনে জায়গা হলো না। সে মন খারাপ তার রয়েই গেলো। পৃথিবীতে অন্যদিকে তখন নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক তার আসন্ন সিনেমার জন্য নায়িকা খুঁজছেন। নির্মাতা মুশফিকুর রহমান গুলজার তখন খোঁজ জানালেন প্রিয়ন্তির। ডাক পড়লো মানিকের দরবারে। তারপরের গল্পটা নায়িকা প্রিয়ন্তির।

ক্যামেরার সামনে লজ্জা ভাঙ্গার গল্পটা বললেন প্রিয়ন্তি। জানা গেলো খুব উপভোগ করেছেন সিনেমায় কাজ করতে। বিশেষ করে যে চরিত্রটিতে তিনি কাজ করেছেন সে চরিত্রটিতে কাজ করার কথা ছিলো শাবনূরের। শাবনূরের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে নিজের অবস্থান ভেবে মনে মনে গর্বও হচ্ছিলো খুব।

এখন স্বপ্ন তার নায়িকা হবার। যত না নায়িকা তারও অধিক অভিনেত্রী হওয়া চাই তার। বাংলাদেশের সিনেমায় দ্বিতীয় শাবনূর হতে চান তিনি। হতে চান রোমান্টিক ঘরানার নায়িকা। স্বপ্নের নায়ক তার শাহরুখ। কিন্তু দেশে তিনি আরিফিন শুভকেই স্বপ্নে দেখেন। ইতোমধ্যেই আরো দুটি চলচ্চিত্রে যুক্ত হয়েছেন তিনি। আনুষ্ঠানিক ঘোষনা আসছে শিগগিরই। জানা গেছে এর মধ্যে একটি চলচ্চিত্রে আরিফিন শুভর কাজ করার কথা রয়েছে। স্বপ্ন হলো সত্যি!

জিগেস করলাম কোনদিন ঘুম থেকে উঠে যদি দেখো পরী হয়ে গেছো? তখন কি করবে? প্রিয়ন্তি বললো, ‘প্রথমেই নিজের ডানা দুটো কেটে নিবো। ডানা থাকলে আমিতো আর নায়িকা হতে পারবো না।’ ডানা কাটা পরী হতে চান প্রিয়ন্তি। তাই বলে ওড়ার যে সাধ নেই তাও কিন্তু না।

পরী উড়তে চান তার স্বপ্নের ভিতর…যে স্বপ্নে তিনি হাজারো দর্শকের ঘুম হারাম করা প্রিয়ন্তি হয়ে উঠবেন…

সাক্ষাৎকারটির আংশিক ভিডিও চিত্র






মন্তব্য চালু নেই