মেইন ম্যেনু

পর্যায় সারণীতে যুক্ত হলো একেবারেই নতুন ৪টি মৌল

ছোটবেলায় রসায়ন বইতে যে পর্যায় সারণী (পিরিয়ডিক টেবল) পড়েছেন, তা ভুলে যান। কারণ খুব সম্প্রতি এই পর্যায় সারণীতে নতুন চারটি মৌল যোগ হয়েছে। তবে এর সবগুলোই মানুষের তৈরি মৌল।

International Union of Pure and Applied Chemistry (IUPAC) গত সপ্তাহে এই পরিবর্তন আনুমদন করে। ফলে পর্যায় সারণীর সপ্তম সারি সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। মনুষ্যসৃষ্ট এসব মৌলের নাম সাময়িকভাবে দেওয়া হয়েছে ১১৩, ১১৫,১১৭ এবং ১১৭। ২০১১ সালের পর এই প্রথম কোন মৌল যোগ করা হলো। রসায়নে নোবেল পাওয়া রিয়োজি নোইওরি দি গার্ডিয়ানকে জানান, “বিজ্ঞানিদের কাছে এই ঘটনা অলিম্পিকের মেডেল পাওয়ার চাইতেও গুরুত্বপুর্ণ।” এর সাথে IUPAC এর অজৈব রসায়ন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ইয়ান রিডিক যোগ করেন, রসায়ন সমাজের সবাই এই পর্যায় সারণীর সপ্তম সারি পূরণ হবার ব্যাপারটা দেখতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

মৌল ১১৩ পেয়েছে জাপানের রাইকেন ইন্সটিটিউট। আপাতত এর নাম রাখা হয়েছে আনানট্রিয়াম এবগ্ন এর প্রতীক হলো Uut। মৌল ১১৫ এবং ১১৭ পায় রাশিয়ার জয়েন্ট ইন্সটিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ, ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং টেনেসির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবোরেটরির গবেষকেরা। এই দুটো মৌলের নাম হলো আনানপেন্টিয়াম এবং আনানসেপ্টিয়াম। ১১৫ এর প্রতীক হলো Uup এবং ১১৭ এর প্রতীক হলো Uus। মৌল ১১৮ পেয়েছেন রাশিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকেরা। এটার নাম আপাতত আনানঅক্টিয়াম, প্রতীক হলো Uuo।

আপাতত এসব নাম এবং প্রতীক ব্যবহার করা হলেও, যারা এসব মৌল পেয়েছেন সেসব গবেষক এদের জন্য স্থায়ী নাম ও প্রতীক দিতে পারেন। তবে এই স্থায়ী নামের সাথে পৌরাণিক ধারণা, খনিজ, স্থান, দেশ বা গবেষকদের যোগসূত্র থাকতে হবে।

দ্যা ভার্জ থেকে জানা যায়, মৌল ১১৩ হবে এমন প্রথম মৌল যার নাম দেবেন এশিয় গবেষকেরা।

মনে প্রশ্ন আসতে পারে, মানুষ কী করে এসব মোউল তৈরি করলো। হালকা মৌলের নিউক্লিয়াস একে ওপরের সাথে সংঘর্ষ ঘটিয়ে এসব মৌল পাওয়া সম্ভব হয়।

রাইকেন গ্রুপের গবেষকদের নেতৃত্বে থাকা কোসুকে মরিতা জানান প্রায় এক দশকের কঠিন পরিশ্রমের ফলে এই কাজ করা সম্ভব হয় তাদের পক্ষে। এমন আরও মৌলের সন্ধান চলতে থাকবে বলে তিনি জানান। মৌল ১১৯ এবং এর পরের মৌলগুলো নিয়ে তারা গবেষণা চালিয়ে যাবেন।






মন্তব্য চালু নেই