মেইন ম্যেনু

পল্লিকবির ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

পল্লিকবি জসীমউদদীনের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯০৩ সালের আজকের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

কবির পুরো নাম জসীমউদদীন মোল্লা। বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। সাধারণ মানুষকে নিয়ে কবিতা লিখে জসীমউদদীন অর্জন করেছেন পল্লিকবির খেতাব।পল্লীর মানুষের সংগ্রামী জীবন-জীবিকার কথা সাহিত্যের পাতায় তুলে ধরে গেছেন তিনি। ‘ওইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে/ তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’, ‘তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়/ গাছের ছায়া লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়’, ‘বাবু সেলাম বারে বার, আমার নাম গয়া বাইদ্যা বাবু বাড়ী পদ্মার পাড়’- এমন শত কবিতা, গল্প, নাটক আর গানের মাধ্যমে পল্লি মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরেছিলেন জসীমউদদীন।

তার লেখা ‘কবর’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য অবদান। জসীমউদদীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরবর্তী সময়ে ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে পড়ালেখা করেন। এখান থেকে তিনি তার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৯২১ সালে উত্তীর্ণ হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং এমএ শেষ করেন যথাক্রমে ১৯২৯ এবং ১৯৩১ সালে। ১৯৩৩ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের অধীনে রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী পদে যোগ দেন। এরপর ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে।

পল্লিকবি জসীমউদদীন বাল্যবয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ১৪ বছর বয়সে নবম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় তৎকালীন কল্লোল পত্রিকায় তার একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী। তার অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, বালুচর, ধানক্ষেত, রঙিলা নায়ের মাঝি, এক পয়সার বাঁশি ইত্যাদি। নকশী কাঁথার মাঠ কবির শ্রেষ্ঠ রচনা যা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কবি ১৯৭৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি এবং ১৯৭৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

বিভিন্ন আয়োজনে পল্লিকবির ১১৩তম জন্মবার্ষিকী পালন করছে জসীম ফাউন্ডেশন ও ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। সকালে ফরিদপুর শহরতলীর অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়া মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আজো কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কবির বাড়িতে প্রতিনিয়ত ছুটে আসে সাধারণ মানুষ। মাটি ও মানুষের কবির জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।






মন্তব্য চালু নেই