মেইন ম্যেনু

পশ্চিমে দরকার ১৯ লাখ প্রোগ্রামার; বাংলাদেশ তৈরি তো?

যোগ্য ও দক্ষ কম্পিউটার প্রোগ্রামারের সংকটে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক জানিয়েছে এ খবর। ফেসবুক বলছে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রেই ১০ লাখ কম্পিউটার প্রোগ্রামারের পদ খালি থাকবে; ইউরোপের দরকার হবে ৯ লাখ। সেসব পদে কাজ করার মতো যোগ্য কর্মী পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফেসবুক।

সম্প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ প্রোগ্রামার তৈরির ব্যাপারে সচেতনতা, সহায়তা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে একটি নতুন উদ্যোগ চালু করেছে। ‘টেকপ্রেপ’ শীর্ষক এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বিশ্বে কম্পিউটার প্রোগ্রামারের ঘাটতি মোকাবেলা করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় আছে ৫ বছর। এর মধ্যে দক্ষ প্রোগ্রামার তৈরি করতে না পারলে ২০২০ সালে বিদেশে প্রোগ্রামার পাঠানো তো দূরে থাক, বাংলাদেশকেই উল্টো বিদেশ থেকে ৫০ হাজার প্রোগ্রামার নিয়ে আসতে হবে। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, ওই সময়ে বাংলাদেশের প্রোগ্রামারের প্রয়োজন হবে ১ লাখ ২০ হাজার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদ বলেন, আমাদের ভালো মানের প্রোগ্রামার তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ মানের নয়, বিশ্বমানের। তাহলেই সংকট মোকাবেলা করতে পারব। ব্যাংকিংসহ অন্যান্য সফটওয়্যার কেনার নামে প্রতিবছর বিদেশে কোটি কোটি টাকা চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সফটওয়্যার দেশেই তৈরি করতে হবে। তা না হলে দেশে সফটওয়্যার খাতের প্রসার হবে না। আমরা মুখে বলব ডিজিটাল কিন্তু ভরসা করব বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর, সেটা হবে না।

ড. এম. কায়কোবাদ আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি বেশি করে এসিএম-আইসিপি, এনসিপিসি-এর মতো প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, ই-এশিয়া বেশি বেশি না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল সিটি তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। সেই প্রতিযোগিতায় তারা দেখাবে কিভাবে বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনাকে ডিজিটাল করা যাবে। তারা ডিজিটাল হাসপাতাল, ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। হাতে-কলমে কাজ করতে পারলেই ভালো প্রোগ্রামার বের হয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন। প্রদর্শনী বা মেলার আয়োজন করে বিদেশ থেকে বক্তা এনে তাদের কথা না শুনে আমাদের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে যোগ্য করে তুলতে হবে। তা নাহলে আমাদের আগে সৌদি আরব, কাতার ডিজিটাল হয়ে যাবে।

জানা যায়, আমাদের দেশে প্রতি বছর সাড়ে ৯ হাজার কম্পিউটার গ্র্যাজুয়েট বের হয়। এরমধ্যে সবাই প্রোগ্রামার হতে চায় না। আগ্রহীদের সংখ্যা একেবারেই কম। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৪ বছরের গ্র্যাজুয়েশন কোর্সে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এর মধ্য থেকে মাত্র ৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রোগ্রামিংয়ে আসে। তিনি মনে করেন, সংখ্যাটা বাড়াতে না পারলে অন্য দেশের প্রোগ্রামাররা বাংলাদেশ দখল করে নেবে। তিনি বলেন, আমাদের কোর প্রোগ্রামিংয়ে যেতে হবে। ৪০ হাজারে ৩ হাজার নয়, সংখ্যাটিকে ২০ হাজারে নিতে হবে।

মুনির হাসান বলেন, আমাদের দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠান একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামারকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ দিয়েছে। এরকম অন্তত আরও ৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের ৬০ হাজার টাকা বেতন দিতে চায় কিন্তু তারা যোগ্য প্রোগ্রামার পাচ্ছে না। সুতরাং উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য বিদেশেই যেতে হবে, এমনটা নয়। দক্ষ হলে দেশেই মিলবে মোটা অংকের বেতন।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশে স্কুল পর্যায় থেকে প্রোগ্রামিং শুরু করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি দেশে হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া এবং আগ্রহ জাগাতে সক্ষম হয়েছি।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রোগ্রামারদের ঘাটতি মেটাতে না পারলে ঠিকই এইচওয়ান-বি ভিসা ছেড়ে সারাবিশ্ব থেকে প্রোগ্রামার নিয়ে নেবে। ওই তোড়ে তখন আমাদের প্রোগ্রামাররাও চলে যেতে পারে। সে সময় পরে ভারত থেকে আমাদের ৫০ হাজার প্রোগ্রামার আনতে হবে। তখন বিশাল অংকের টাকাও দেশ থেকে বেরিয়ে যাবে।






মন্তব্য চালু নেই