মেইন ম্যেনু

পশ্চিমে পাড়ি জমাচ্ছে চীনা ধনীরা

গত কয়েক বছর ধরেই পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন চীনের পুঁজিপতিরা। নিজের দেশ ছেড়ে ভিন্নদেশে আশ্রয়ের প্রবণতা প্রতি বছরই বাড়ছে। গত এক বছরে লগ্নিকারী ভিসা পাওয়ার জন্য আমেরিকায় যতগুলি আবেদনপত্র জমা পড়েছে, তার ৮০ শতাংশই চীন থেকে এসেছে। দেশটির সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও পশ্চিমাদের লোভনীয় প্যাকেজ অফারে চীনের ধনীরা তল্পিতল্পা গুটিয়ে এখন পাড়ি দিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও স্পেনের মতো দেশে।

চীনের পুঁজিপতি ও উচ্চবিত্তের মানুষের ভাষ্য, চীনে এত কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কাম্য নয়। সন্তানদের ভবিষ্যতের দোহাইও দিচ্ছেন অনেকে। এছাড়া চীনের বাতাস খুব দূষিত। বিশুদ্ধ পানীয় জলেরও অভাব। সরকার চীনা পড়ুয়াদের ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়তে দেয় না। তাই সন্তানের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রতিষ্ঠার কথা ভেবেই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন তারা। বিদেশে সন্তান জন্মালে আরও সুবিধা। জন্মসূত্রে বিদেশি নাগরিক পড়ুয়া যদি দেশে ফেরে, তা হলে ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়তেও বাধা থাকবে না।

বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে চিন ছেড়ে পুঁজিপতিদের বিদেশে চলে যাওয়া। প্রবণতা বছর বছর বাড়ছে। কারণ পুঁজিপতিরা চিন ছাড়তে চাইছেন বুঝেই তাদের আশ্রয় দেয়ার লোভনীয় প্যাকেজ ঘোষণা করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। যে দেশের প্যাকেজ পছন্দ হচ্ছে, চিনের বিভিন্ন অংশ থেকে সেই দেশেই পাড়ি দিচ্ছেন ধনী মানুষজন।

৫০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করলেই বিদেশি আশ্রয়প্রার্থীকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়ে দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ইনভেস্টমেন্ট ভিসা দেয়া হচ্ছে বিদেশি পুঁজিপতিদের। পরিকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে ষথেষ্ট উন্নত অস্ট্রেলিয়া চিনা পুঁজিপতিদের কাছে সব সময়ই বেশ লোভনীয় জায়গা। তাই সবচেয়ে বেশি চীনা পুঁজিপতি গত কয়েকবছরে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে গ্রিন কার্ড জরুরি। গ্রিন কার্ড পেতে মাত্র ১০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়। ২ বছরের জন্য ১০ জনের কর্মসংস্থান করতে পারে এই অর্থ। দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্যই মার্কিন সরকার এইভাবে বিদেশ থেকে পুঁজি টানতে চাইছে। বিনিয়োগ করে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে পাড়ি জমানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে একটি প্রকল্পে। শহরাঞ্চলে বিনিয়োগ করলে ১০ লাখ মার্কিন ডলারই দিতে হবে। যারা একটু ঝুঁকি নিয়ে গ্রামীণ আমেরিকায় বিনিয়োগ করবেন, তাদের জন্য বিনিয়োগের পরিমাণ অর্ধেক। তার বিনিময়ে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের ছাড়পত্র মিলবে। গত এক বছরে লগ্নিকারী ভিসা পাওয়ার জন্য আমেরিকায় যতগুলি আবেদনপত্র জমা পড়েছে, তার ৮০ শতাংশই চীন থেকে এসেছে।

ব্রিটেনে বসবাসের শর্ত একটু শক্ত। ১০ লাথ পাউন্ড বিনিয়োগ করলে সেখানে ৫ বছরের জন্য থাকার ছাড়পত্র মিলবে। স্পেনে পাড়ি দেয়া আবার খুব সহজ। ন্যূনতম ৫ লাখ ইউরো মূল্যের একটি সম্পত্তি সে দেশে কিনতে পারলেই হল। সারা জীবন স্পেনে থাকার অনুমতি মিলে যাবে।

কানাডা অবশ্য উল্টো পথে হেঁটেছে। বলা ভাল হাঁটতে বাধ্য হয়েছে। আগে সহজ শর্তে কানাডার লগ্নিকারী ভিসা মিলত। তাতে চিনের ধনী শ্রেণির এত বিপুল হারে মানুষ কানাডায় ভিড় জমাতে শুরু করেন, যে এ বছরের গোড়াতেই নিজেদের লগ্নিকারী ভিসা নীতি বাতিল করেছে কানাডার সরকার।






মন্তব্য চালু নেই