মেইন ম্যেনু

শাহরাস্তি পৌর নির্বাচন:

পাঁচটি কেন্দ্র দখলের অভিযোগ, একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত, আহত ১০ জন

সুজন দাস, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সাথে বহিরাগতরা যোগদিয়ে পাঁচটি ভোট কেন্দ্র দখলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শাহরাস্তি পৌরসভার স্থানীয় অধিবাসীরা কেন্দ্র দখল ও গোলযোগ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, শাহরাস্তিতে এই প্রথম ভোটের সময় কেন্দ্র দখল ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অতীতে কোন নির্বাচনে এখানে গোলযোগ হয়নি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১নং ওয়ার্ডের কাজির কামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী অহিদুর রহমানের সমর্থকেরা ২০০ ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় রিটানিং কর্মকর্তা আতাউর রহমান খবর পেয়ে কেন্দ্রে যান। তিনি তাৎক্ষনিক ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ৪নং ওয়ার্ডের করফুলেন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বহিরাগতরা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে যোগ দিয়ে কেন্দ্রে হামলা করেন। তারা বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামালের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। এর পর ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিলিং করেন।

মোস্তফা কামালের এজেন্ট আকতার হোসেন ও আবদুল মান্নান অভিযোগ করেন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের সহযোগিতায় পুলিশের উপস্থিতিতে কেন্দ্র দখলে নেয়। তারা পুলিশের সামনে আমাদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। মোস্তফা কামালের ভাই বাবলুকে বেদড়ক মারধর করে আটক রাখা হয়।
কেন্দ্র দখলের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহ কর্মকর্তা সামিউল মাসুদ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে বহিরাগতদের পিটিয়ে বের করে দেন। তারা কেন্দ্র থেকে চলে যাওয়ার সময় নাওড়া রাস্তার উপর বিএনপির কর্মীরা কয়েকজন আওয়ামীলীগ কর্মীকে পেটান। আকতার হোসেন জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রে স্বাভাবিক অবস্থার খবর শুনে আমরা পুনরায় কেন্দ্রে যাই। তখন সেখানে মেয়র প্রার্থী ব্যালট শেষ হয়ে গেছে। পরে আমরা চলে আসি।

কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ শাহ আলম ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা লক্ষ্মী নারায়ন ভৌমিক জানান, সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সে সময় ১৫/২০ মিনিট ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। সারাদিন ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ছিল।

সকাল সাড়ে ১০টায় ৫নং ওয়ার্ডের উপলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যেয়ে দুইটি বুথে কয়েকজন পুরুষ ভোটাদের ভোট দিতে দেখা গেছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আলী আশ্রাফ খান জানান, ১০টার দিকে কিছু সন্ত্রাসী হামলা করে ৭০/৮০ টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে বাক্সে ঢুকিয়েছে। তবে এগুলোতে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল নেই। ভোট গননার সময় এগুলো বাতিল করা হবে। তিনি আরো জানান, সিলিংয়ের খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পিটুনীতি সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট নেওয়া হয়। দুপুর ২টায় পুনরায় ওই কেন্দ্রে যেয়ে ভোটারের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

দুপুর ১টায় পৌরসভার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত ১২নং ওয়ার্ডের নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ৭টি বুথের মধ্যে একটি বুথে শতখানের মহিলা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অন্য বুথগুলোতে ২/৪ জন করে ভোটার আসছেন।

কেন্দ্রে গোলযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ডা. দুলাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, সকাল ১০টায় কিছু উশৃঙ্খল যুবক ৫০টি মত ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে ছিল মেরেছেন। সেগুলোতে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল ছিল না। ভোট গননার সময় এগুলো বাতিল করা হবে। তার কেন্দ্রে ২২৮৭ ভোট রয়েছে। দুপুর একটা পর্যন্ত সাড়ে নয়শ ভোট কাস্ট হয়েছে। এ সময় কেন্দ্রের ৭টি বুথের মধ্যে ৪টিতে ধানের শীষের এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

দুপুর দেড়টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা আতাউর রহমান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হাজির হন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শাহরাস্তিতে ৪টি ভোট কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে। এর মধ্যে একটি কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বাকী ৮টি কেন্দ্রে স্বাভাবিক ভাবে ভোট গ্রহণ চলছে।

ভোট কেন্দ্রের বাহিরে উপস্থিত স্থানীয়রা জানায়, কাউন্সিলর আবুল হোসেন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদেগর সহযোগিতায় কেন্দ্র দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষে রাজন (২২) ও জহির (২৪) নামের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলামের দুই কর্মী আহত হন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
চারটি ভোটকেন্দ্র ছাড়া বাকি আটটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

সকাল ৯টায় ২নং ওয়ার্ডের বাদিয়া এম.হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন ধরে ভোট দিতে দেখা গেছে। এ কেন্দ্রে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। সকাল ১০টায় ৩নং ওয়ার্ডের সুয়াপাড়া জি.কে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, ১১টায় ৭্নং ওয়ার্ডের নিজ মেহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, সাড়ে ১১টায় ৯নং ওয়ার্ডের বাত্ত্বলা দক্ষিণপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র এবং ১২টায় ৮নং ওয়ার্ডের নিজ মেহার নূরানী তালিমূল কোরআন আরাবিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে।

বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামালের প্রধান নির্বাচনীয় এজেন্ট আলী আজগর বলেন, পাঁচটি কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা ৩ হাজার ২০০ ভোট সিলিং করেছে। স্থানীয় সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের বাড়ির সামনে অবস্থিত করফুলেন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে দখল শুরু হয়েছে। আর পৌরসভার সর্বশেষ নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসে দখল শেষ হয়েছে।

তবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোঃ আদেল নিজ মেহার নূরানী তালিমূল কোরআন আরাবিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে কাছে দাবী করেন, ভোটারদের স্বতস্ফুত উপস্থিতিতে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই