মেইন ম্যেনু

পাক-ভারতসহ পৃথিবীর আলোচিত যত সীমান্তরেখা

একটি দেশের জন্য তার বর্ডার বা সীমান্তরেখা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক সীমানা আছে যেগুলো কেবল একটি বা দুইটি দেশের জন্য নয়, বরং পুরো পৃথিবীর জন্য মজার ও আকর্ষণের। আলোচনার প্রথমদিকে যেগুলোকে এগিয়ে রাখতে ভালোবাসে মানুষ। চলুন, আজ দেখে আসি এমনই কিছু আলোচিত ও মজার সীমান্তরেখা সম্পর্কে—

ভারত ও পাকিস্তান:
১৯৪৭ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা আর সংঘাতের ওপর ভিত্তি করে আলাদা সীমান্ত তৈরির মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে দুটো দেশ সৃষ্টি করে দিয়ে যায় ব্রিটিশরা। আর দেশ দুটি হলো ভারত ও পাকিস্তান। তবে দেশ আলাদা হলেও কিন্তু সংঘাত থেমে থাকেনি। একের পর এক সংঘর্ষ হয়ে চলছে এই দুটি দেশের ভেতরে নিজেদের সীমান্ত নিয়ে। আর ধর্ম সংক্রান্ত কিছু ব্যাপার জড়িত থাকায় সংঘর্ষগুলো হয়ে পড়ছে আরো মারাত্মক। মোট ৩টি যুদ্ধ হয়েছে এই দুটি দেশের মধ্যে। তবে শেষ অবধি লাইন অব কন্ট্রোলের মাধ্যমে এই বিবাদমান দুটি দেশের ভেতরকার ঝামেলার সাময়িক সমাধান দেওয়া হয়। যেখানে কাশ্মিরের তিনটি অঞ্চল ভারতের আর দুটি অঞ্চল পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় দেওয়া হয়। যদিও দুটি দেশই অপরপক্ষের শাসনে থাকা অংশকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।

এ তো গেল আগের কথা। বর্তমানে সামনা-সামনি খুব বেশি ঝামেলা না করলেও প্রায়ই ভারত ও পাকিস্তানের সৈন্যরা কাশ্মির সীমান্তে দিয়ে গোলাগুলি করে থাকে। মাঝখানে ২০০৪ ও ২০০৭ সালে সাময়িক দেশ দুটির ভেতরে চলা গোপন কিছু আলাপ-আলোচনা কাশ্মিরের সমস্যাটি সমাধানের ব্যাপারে সবার মনে আশা জাগিয়ে তুললেও শেষ অবধি পুরোটাই ভেস্তে যায় ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে লষ্কর-ই-তাইয়্যেবার ঝটিকা আক্রমণে। এতে মারা যান ১৬৩ জন মানুষ। এরপর জুনের ২৩ তারিখে আবার সবার মনে আশা জাগিয়ে প্রকাশ্যে দু-দেশ আলাপে বসলেও সেটা খুব কমই আশা পূরণ করতে পেরেছিল। বর্তমানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নতুন নতুন ঘোষণায় অনেকে এটা মনে করছেন যে, পারমানবিক শক্তিকে হয় এরইমধ্যে হাতে পেয়ে গেছে তারা অথবা খুব দ্রুতই পাবে। যদিও আগে থেকেই বেশ শক্তিশালী ছিল পাকিস্তান এদিক দিয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের খুব সহজ হিসেবে পাকিস্তান নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে ভারতকে। আর তাই ভারতও চেষ্টা করে চলছে নিজেদেরকে আরো উন্নত করার।

মাউন্ট এভারেস্ট:
অবাক হলেন? ভাবছেন সীমানা নিয়ে পড়তে এসে পাহাড়ের কথা কেন? কারণ মাউন্ট এভারেস্টকে তার উচ্চতার জন্য সবাই চিনলেও অনেকে জানেন না যে, এটি কেবল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থানই নয়, উচ্চতম সীমানাও। মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ার ঠিক ওপর দিয়ে চলে গেছে ভারত ও চীনের সীমানা। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু সীমান্তরেখা এটিই, এমনটাই মনে করা হয়।

আমেরিকা ও মেক্সিকো:
ঘটনাটির শুরু হয় ২০০৬ সালে। হুট করেই মেক্সিকান রাষ্ট্রপতি ফিলিপ ক্যালডেরোন সিদ্ধান্ত নেন মেক্সিকান বর্ডারের সব ধরনের মাদক চোরাচালান বন্ধের। ফলে তিনি নিয়োগ দেন ফ্রান্সিসকো রেমিরেজ এ্যাকুনাকে। আর এপর থেকেই পুরো ব্যাপারটি হয়ে দাঁড়ায় রক্তা-রক্তির। মেক্সিকান সীমান্ত দিয়ে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে মাদক পাচার হতো, একে একে ধরা হয় তাদের সবাইকে। কেবল সীমানার এপারে নয়, রক্ত ছড়ায় ওপারেও। সীমান্তের দু-পাশই মাদক চোরাচালানীদের রক্তে ভিজে ওঠে। এখন অবধি মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত বিষয়ে গত ৪ বছরের কড়া চাপের মুখে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ মারা গেছেন পুরো মেক্সিকোতে। আর ৪৫ শতাংশই হয়েছে মেক্সিকান সীমান্তবর্তী দেশ বাজা ক্যালিফোর্নিয়া, চিহুয়াহুয়া, কোয়াহুইলা, ন্যুয়েভো লিওন, সোনোরা ও তামাউলিপাস। সংঘর্ষের মুখে পড়ে হাজার হাজার মেক্সিকানকে প্রাণ ভয়ে পালাতে হয়ে আমেরিকায়। কেবল তামাউলিপাস ও চিহুয়াহুয়া থেকেই ২০১০ সালে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। যদিও এতোদিন খুব কম মানুষই মেক্সিকোর ওপারে মারা যেত, এবার সেটাও অনেকটা কমে গেছে। এখন কেবল মেক্সিকোর সীমান্তই নয়, প্রচুর পরিমাণে মানুষ মারা যাচ্ছে এল পাসো ও টেক্সাসেও। যার মাধ্যমে মেক্সিকোর সরাসরি সীমান্তের যোগাযোগ আছে আমেরিকার সাথে।

বার্লে নাসাউ ও বারলে হার্টগ:
নেদরল্যান্ডের শহর বার্লে নাসাউয়ে প্রতিবছর পর্যটকরা ভিড় করেন। ভাবছেন কী এমন আছে সেখানে? তেমন কিছু না। কেবল একটি সীমানাই আছে এই শহরে দেখার মতো। যেটি কি-না বেলজিয়াম শহর বারলে হার্টগকে আলাদা করে দিয়েছে নেদারল্যান্ড থেকে। এই সীমানা দেখতে যদি আপনিও যেতে চান তাহলে বেশ সতর্ক থাকতে হবে আপনাকে। ছোটখাটো ঘর, রেষ্টুরেন্ট কিংবা রাস্তা কোথায় নেই সীমানা! এতোটাই অদ্ভুতভাবে তৈরি করা হয়েছে সীমানাটি যে, নেদারল্যান্ডে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে আপনি বেলজিয়ামে পৌঁছে গেছেন সেটিও বোঝার সময় পাবেন না।

বির তাউলি:
১৮৯৯ সালে মিশর আর সুদানের ভেতরে একটি সীমানা আঁকা হয়। তবে ১৯০২ সালে ৭৯৫ বর্গ কিলোমিটারের এই সীমানাটি বদলে ফেলা হয়। ফলে দুটো ভিন্ন স্থান জন্ম নেয় সেখানে। প্রথমটি বির তাউলি আর দ্বিতীয়টি বির হালাইব। মজার ব্যাপার হলো, মিশর বা সুদান কোনো দেশই বির তাউলিকে নিজেদের সাথে নিতে আগ্রহী নয়। দুটি দেশের আগ্রহই কেবল বির হালাইবকে ঘিরে। কারণ বির হালাইব যতটা সম্পদে ভরপুর, বির তাউলি ঠিক ততোটাই সম্পদহীন। তাই নিজে নিজ স্বার্থ রক্ষায় মিশর ১৯০২ সালের সীমানা মানলেও সুদান মানতে চায় ১৮৯৯ সালের সীমানা। তবে যে যে সীমানাই মেনে থাকুক না কেন, এখন অবধি এ্যান্টার্কটিকা বাদে বির তাউলি পৃথিবীর একমাত্র স্থান হিসেবে রয়ে গেছে, যাকে কোনো দেশই নিজের বলে দাবি করেনি।

ডার্বি লাইন:
আমেরিকা ও কানাডার ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া ডর্বি লাইন সম্বলিত শহরের বাসিন্দাদের জীবনটা বেশ অদ্ভুত। শহরের ঠিক মাঝখান দিয়ে, এমনকি কিছু ঘর আর রাস্তার মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া এই সীমান্তরেখার কারণে মাঝে মাঝেই বেশ বিপাকে পড়তে হয় সবাইকে। এমনটাও হয় যে, কোনো বাড়ির মানুষ রান্না করছেন আমেরিকায় আর খাচ্ছেন কানাডায়। শহরটির অপেরা হাউজ আর গ্রন্থাগারের ভেতর দিয়েও চলে গেছে এই সীমানা। অপেরা হাউজের ভেতর দিয়ে যাওয়া সীমান্তরেখা এতোটাই অদ্ভুতভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, হাউজের স্টেজটি কানাডায় অবস্থিত হলেও তাতে প্রবেশ করার ও বসার আসনগুলো আমেরিকায়। এমনকি এসব ঘর-বাড়ির ঠিকানাও দুটি করে। একটি আমেরিকার আর অন্যটি কানাডার। -ইত্তেফাক।






মন্তব্য চালু নেই