মেইন ম্যেনু

পাখিদের অদ্ভুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো

পাখির অগ্রপদ রূপান্তরিত হয়ে পাখায় পরিণত হয় যা তাদেরকে উড়তে সাহায্য করে। বেশিরভাগ পাখিই উড়তে পারে যা তাদের আত্মরক্ষার একটি কৌশল। কিছু পাখি উড়তে পারেনা, কিন্তু তারা খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে। কিছু পাখির আছে অগতানুগতিক প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া। চলুন জেনে নেই কিছু পাখির অনন্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে।

১। ফালমার(Fulmar)

এরা সামুদ্রিক পাখি। এই পাখিটির নাম হচ্ছে নরস ফর ফোল গাল। এরা দুর্গন্ধের জন্য কুখ্যাত। এদের ডিমেও বোটকা গন্ধ থাকে। এই দুর্গন্ধ তাদের শিকারি প্রাণী যেমন- মানুষের হাত থেকে বাঁচায়। কিন্তু এটি দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কারণ কিছু শিকারি পাখির গন্ধের অনুভূতি খুবই কম থাকে। ছোট পাখি কমলা রঙের দুর্গন্ধযুক্ত তেল বমি করে যা শিকারি প্রাণীর পালকে আঠার মত লেগে জট পাকিয়ে যায় ও অন্তরক বৈশিষ্ট্য হারায় এবং এটি শিকারি প্রাণীর জন্য বিপদজনক। এই তেল ফালমারদের নিজেদের জন্য নিরাপদ। ৩ সপ্তাহ পরে যখন বাচ্চা পাখি পিতা-মাতাকে চিনতে পারে তখনই তেল নিক্ষেপ করতে পারে।

২। হুপো (Hoopoe)

ঝুঁটিওয়ালা এই পাখিটি ইসরাইলের জাতীয় পাখি। জঘন্য আত্মরক্ষামূলক কৌশলের জন্য এটি সুপরিচিত। এর পায়ু পথের কাছে একটি গ্রন্থি আছে যা নোংরা গন্ধের এক প্রকার বস্তু উৎপাদন করে। এরা এই পদার্থটি তাদের পালকে ঘষে নেয়। এর ফলে এদের সারা শরীরে অ-মুখরোচক পচা মাংসের গন্ধে ভরে যায় যা শিকারি প্রাণীকে বিতাড়িত করে। এই পদার্থটি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট যা পরজীবীকে ধ্বংস করে এবং পাখিকে রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। পূর্ণ বয়স্ক পাখি ডিমে তা দেয়ার সময় এবং বাচ্চার দেখাশোনা করার সময় এই পদার্থ নিঃসৃত করে, অন্যসময় এটা বন্ধ রাখে। বাচ্চা পাখি যখন একা থাকে তখন অবাঞ্ছিত দর্শকের মুখে মল নিক্ষেপ করে আত্মরক্ষা করে।

৩। কিলডিয়ার (Killdeer)

এটি একটি কোলাহলমুখর পাখি। এরা ভূমিতে বাসা তৈরি করে যা তাদের শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তাদের আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে তারা “ভাঙ্গা পাখনার অভিনয়” করে। তাদের বাসার কাছাকাছি কোন শিকারি প্রাণী দেখলে তারা মিথ্যা পীড়াদায়ক চিৎকার করে এবং এমন ভান করে যে তাদের পাখা ভেঙ্গে গেছে। বড় কোন শিকারি প্রাণী দেখলে বয়স্ক পাখিরা ঠোকর দিতে আসে।

৪।ফেরুগিনাস পিগমি আউল (Ferruginous Pigmy Owl)

এরা শক্তিশালী শিকারি পাখি। এই প্যাঁচা শুধু ইঁদুরই খায়না বরং পাখিও খেয়ে থাকে। এরা এদের খাদ্য হিসেবে অন্য পাখিকে নিচে নামিয়ে আনতে পারে। ছোট প্যাঁচা ভয় পেলে ভিড় করে। মোবিং ছোট প্যাঁচার জন্য খুবই বিপদজনক। তারা আত্মরক্ষার জন্য মাথার পেছনের বড় দুটি চিহ্নকে ব্যবহার করে। অন্য পাখিরা এগুলোকে চোখ ভেবে ভুল করে।

৫। ইউরেশিয়ান কাক্কু (Eurasian Cuckoo)

এই কোকিল তার ডিম অন্য পাখির বাসায় রেখে দেয়। যখন বাচ্চা পাখি জন্মগ্রহণ করে তখন অন্য পাখির বাচ্চাদের মেরে ফেলে যাতে তাদের কোন প্রতিযোগী না থাকে। ছোট পাখির বাসায় তাদের ডিম রাখাটা কঠিন কাজ। ইউরেশিয়ান কাক্কু দেখতে অনেকটাই বাজ পাখির মত। আত্মরক্ষা ও শিকারের জন্য তারা এটা কাজে লাগায়।

এছাড়াও আত্মরক্ষার জন্য হুটজিন পাখির ছানার ডানায় নখর থাকে ও গোবরের মত গন্ধ থাকে, হুটেড পিটুহুই একটি বিষাক্ত পাখি, এরা ডিম ও ছানার গায়ে বিষ মাখিয়ে রাখে, পটো ভয়ংকর দর্শন পাখি, এদের অনন্য আওয়াজ ও চেহারার জন্য এদের “ঘোস্ট বার্ড” বা “ভূত পাখি” বলে।






মন্তব্য চালু নেই