মেইন ম্যেনু

পাতালে যাওয়ার রাস্তা!

মহাকাশ নিয়ে যেমন মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই, তেমনটা বলা যায় পাতাল নিয়েও। ভূপৃষ্ঠের অনেক নিচে কী আছে? এ নিয়ে কম জল্পনা-কল্পনা হয়নি। প্রযুক্তিও এতটা উন্নত হয়নি যে মানুষ সেটা পরীক্ষা করে দেখতে পারবে। তাই এবার হয়তো প্রকৃতিদেবী নিজেই সুযোগ করে দিচ্ছেন।

সাইবেরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রতি দেখা মিলেছে বিশাল সব গর্তের, যেগুলো চলে গেছে গভীর পাতালে। স্থানীয়রা এগুলোকে পাতালে যাওয়ার রাস্তা হিসেবেই চেনে। সাইবেরিয়ান টাইমস থেকে পাওয়া যায় এই চমকপ্রদ তথ্য।

সাইবেরিয়ার সাখা রিপাবলিকের রাজধানী শহর ইয়াকুটস্ক। এর ৬৭৬ কিলোমিটার উত্তরে বন কেটে সাফ করার সময় আশপাশের বেশ কিছুটা জমি নিয়ে মাটি দেবে যাওয়া শুরু করে। শুরুতে কেউ অতটা পাত্তা না দিলেও এখন ব্যাপারটি বিজ্ঞানীদের জন্য বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাইবেরিয়া বিশ্বের শীতলতম অঞ্চলগুলোর একটি। যে জায়গায় এই গর্ত তৈরি হয়েছে, সেটি আরো বিরান অঞ্চল। কাজেই প্রথম দিকে অতটা আলোড়ন তোলেনি এ ঘটনা। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে প্রতিবছর প্রায় ১৫ মিটার এলাকা এই গর্তে বিলীন হচ্ছে, বাড়ছে এর বিস্তৃতি আর গভীরতা।

শুধু তা-ই নয়, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সেখান থেকে মাঝেমধ্যেই ভেসে আসে রহস্যময় শব্দ। সব মিলিয়ে রীতিমতো ভৌতিক ব্যাপার। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাতাগাইকা ক্রেটার’। প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা আর ৩০০ ফুট গভীর এটি। আয়তন আর গভীরতাও বাড়ছে ক্রমশ।

বিজ্ঞানীরা অবশ্য এ নিয়ে বেশ কিছু ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন। সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলিয়ান মুরটনের ভাষ্যমতে, ওই অঞ্চলের বরফ জমাট মাটি গলে যাওয়ার কারণে প্রচুর মিথেন গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ক্রমে মাটি ধসে এই বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে।
নোভোসিবিরস্কের ত্রোফিমুক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের মত আবার অন্যরকম। তাঁরা বলছেন, ভূগর্ভে গ্যাসের মজুদে বড় রকমের বিস্ফোরণই মূল কারণ।

তবে মূল কারণ যা-ই হোক, রাশিয়ায়ও নাকি এ রকম পাতালমুখী গর্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গেল ২০১৪ সালেই তাইমির আর ইয়ামাল অঞ্চলে এ রকম তিনটি গর্ত দেখা দেয়। আরো আগে, সোভিয়েত আমলে তুর্কমেনিস্তানে গ্যাস অনুসন্ধানের সময় বিশাল এর গর্তের উদ্ভব হয়, স্থানীয়দের কাছে যেটা ‘নরকের দরজা’ হিসেবে পরিচিত।

কল্পনাবিলাসীরা স্বভাবতই বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। কেউ বলছেন, রুশিদের গোপন কোনো সামরিক পরীক্ষা আছে এর পেছনে। কেউ কেউ আরেক কাঠি সরেস, দায় চাপিয়েছেন ভিনগ্রহের আগন্তুকদের ওপরে।

মূল কারণ যা-ই হোক, প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ অঞ্চলে এ রকম বিশাল সব গর্ত দেখা দেওয়ার ব্যাপারটি বিজ্ঞানীদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।






মন্তব্য চালু নেই