মেইন ম্যেনু

পানির তলার রহস্যময় স্থাপনা: সবচাইতে পুরোনো ডুবন্ত শহর “পাভলোপেত্রি”!

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে নানারকম স্থাপনা। মানুষ সবসময়েই চেষ্টা করেছে নিজের কারিগরী দিয়ে আরো সুন্দর আর মনরোম কিছু তৈরি করতে। কিন্তু সেসবই মাটির ওপরে। কিন্তু প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ মাঝে মাঝে মাটির ওপরের এই স্থাপনাগুলোকে টেনে নিয়ে গিয়েছে নীচে। তাদের কোনটা গিয়েছে হারিয়ে। আর কোনটা রয়ে গিয়েছে পানির তলাতেই। জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। আসুন জেনে নিই এমনই প্রশ্নে ভরা রহস্যময় পাঁচ ডুবন্ত স্থাপনার কথা। আজকে রইল সিরিজের চতুর্থ পর্ব- পাভলোপেত্রি!

পৃথিবীর সবচাইতে পুরোনো শহরের নাম কি? মাটির ওপরে থাকা রোদে পোড়া কোন শহরের নাম নিশ্চয়ই উঁকি ঝুঁকি মারছে আপনার মাথায়? কিন্তু এখন আর সেই চিরাচরিত শহর নয়, শোনাবো লোনা পনিতে ভেজা এক শহরের কথা, যেটা কিনা ৫,০০০ বছরের পুরোনো আর পৃথিবীর সবচাইতে পুরোনো ডুবন্ত শহর হিসেবেও পরিচিত। আর সেই শহরটির নাম হচ্ছে পাভলোপেত্রি!

অবস্থান

গ্রীসের পেলোপনেশিয়ার দক্ষিণ ল্যাকোনিয়ায় পানির নীচে অবস্থিত পাভলোপেত্রির সত্যিকারের নামটা কখনো জানা হয়ে ওঠেনি কারো। নতুন করেই নাম দিয়েছে শহরটিকে মানুষ। ১৯০৪ সালে ফোকিয়োনোস নেগ্রিস প্রথম আবিষ্কার করেন এই পানির নীচের শহরটিকে। এরপর তার আবিষ্কারকে ১৯৬৭ সালে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন নিকোলাস ফ্লেমিং। বর্তমানে এটি এলাফোনিসস গ্রাম আর পাভলোপেত্রি নামক একটি ছোট্ট দ্বীপের মাঝখানে রয়েছে।

শহরের টুকিটাকি

৫,০০০ বছর পুরোনো হলে কি হবে, বর্তমান শহরগুলোর চাইতে কোনো দিক দিয়েই কম নয় পাভলোপেত্রি। কি নেই এখানে? ৩২২,৯১৭ বর্গমাইলের এই শহরে রাস্তা, দালান, মন্দির- মোটকথা, পুরো শহরের নকশাই সাজানো আছে এতে। যা দেখলে চোখ কপালে উঠবে অনেকেরই। ব্রোঞ্জ যুগের এই শহরটি ১০০০ বিসিতে পরপর ঘটে যাওয়া তিনটি ভূমিকম্পের কবলে পড়ে একেবারের মতন ডুবে যায়। যেটা এরপর আর জেগে ওঠেনি কখনোই। তবে ডুবে যাওয়ার আগেই কৃষি, কাপড় বোনাসহ আরো অনেক অনেক দক্ষতা দেখিয়ে গিয়েছে এখানকার মানুষেরা তাদের কাজে। শুধু তাই নয়, পাভলোপেত্রির মানুষেরা ব্যবসা নিয়েও বেশ এগিয়ে ছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে নৌকো করে চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন পর্যটকেরা এই অসম্ভব সুন্দর স্থাপনাটি থেকে। তবে কেবল পর্যটকদেরই নয়, ইউনেস্কোর কাছ থেকেও বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হওয়ার সম্মান মিলেছে পাভলোপেত্রি শহরের ভাগ্যে।

চিরচেনা আটলান্টিস রহস্য

অনেক অনেক কাল আগে আটলান্টিস বলে এক সভ্যতার কথা জানতে পারা যায় গ্রীকদের পৌরাণিক কাহিনী থেকে। যার সত্যতা নিয়ে লিখেছেন প্লেটোও। সেই প্রাচীন কাল থেকে মানুষ খুঁজে ফিরছে আটলান্টিসকে। যখনই ডুবন্ত কোন শহরকে পাওয়া যায় সেটার সাথে আটলান্টিসের যোগসূত্র বের করার চেষ্টা করে মানুষ। আর তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি পাভলোপেত্রির ক্ষেত্রেও! যতোটা পারা যায় চেষ্টা করেছেন বিশেষজ্ঞরা পাভলোপেত্রি আগে কেমন ছিল সেটা দোখানোর। চেষ্টা মোটামুটি সফলও হয়েছে। তবে এটা আটলান্টিসের কোন অংশ ছিল কিনা সেটা আজ অব্দি বের করতে পারেন নি তারা।

তথ্যসূত্র-List of 5 Most Mysterious Underwater Structures (historylists.org )

The Pavlopetri Underwater Archaeology Project (nottingham.ac.uk)

The submerged town of Pavlopetri (elafonisostour)

তথ্যলিংক- http://historylists.org/other/list-of-5-most-mysterious-underwater-structures.html

http://www.nottingham.ac.uk/pavlopetri/index.aspx

http://www.elafonisostour.com/uk/article/pavlopetri






মন্তব্য চালু নেই