মেইন ম্যেনু

পানির বোতল কেনার আগে যা দেখে নেবেন

ভীষণ পানির তৃষ্টায় ঝটপট দোকান থেকে এক বোতল পানি কিনে ঢকঢক করে ঢেলে ফেললেন গলায়। কেনার আগে বা পানের আগে একবার দেখেও নিলেন না কী লেখা আছে বোতলের গায়ে। কিংবা কী আছে আসলে এই পানির ভেতরে।

তবে এখন থেকে পানির বোতল কেনার আগে কিছু বিষয় দেখে নেওয়ার জন্য ভোক্তাদের অনুরোধ করেছে লিভিং ট্র্যাডিশনালি নামের একটি ওয়েবসাইট। সেখানে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের বোতলের গায়ে এইচডিপি (HDP), এইচডিপিই (HDPE), পিপিসহ (PP) বিভিন্ন বর্ণ লেখা থাকে। এই বর্ণগুলো দ্বারা বোঝানো হয় যে, এই পানির ভেতরে কিছু রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া যেতে পারে। প্রত্যেক পানি বাজারজাতকারী কোম্পানিকে বোতলের গায়ে এসব বিষয় লিখে জানাতে হয়।

এখন দেখে নিন বোতলের গায়ে লেখা থাকা সাংকেতিক বর্ণ বা শব্দগুলোর অর্থ কী। তাহলে পরের বার পানির বোতল কেনার সময় নিজেই বুঝতে পারবেন পানিতে কী কী আছে বা থাকতে পারে।

পিইটি বা পিইটিই (PET or PETE)

এই শব্দ বা বর্ণ লেখা থাকলে বুঝতে হবে এটি একবার ব্যবহারযোগ্য বোতল। অর্থাৎ পানি পানের পর বোতলটি ফেলে দিতে হবে বা নষ্ট করে ফেলতে হবে। কারণ এই ধরনের বোতল থেকে পরবর্তী সময়ে ভারী ধাতু এবং রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হতে পারে যা মানুষের শরীরের হরমোনের ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে।

পিইটি হচ্ছে ভোগ্যপণ্য বাজারজাতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্লাস্টিক। বেশির ভাগ পানির বোতলই এই ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে বানানো হয়। এটি একবার ব্যবহারের মতো করেই বানানো হয়। কারণ এগুলো বারবার ব্যবহারের ফলে শরীরে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেতে পারে। এই ধরনের বোতল বিশুদ্ধ করা খুবই কঠিন এবং ঠিকমতো পরিষ্কার করতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করতে হয়।

এইচডিপি বা এইচডিপিই (HDP or HDPE)

যেসব বোতলের গায়ে এই বর্ণগুলো লেখা থাকে সেগুলো কার্যত কোনো রাসায়নিক পদার্থ নির্গমন করে না। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এই ধরনের বোতলে বাজারজাত করা পানি কেনার পরামর্শ দেন। কারণ এগুলোকে বাজারের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পানি বলে মনে করা হয়।

এইচডিপিই প্লাস্টিক দিয়ে সাধারণত দুধের বোতল, ডিটারজেন্টের বোতল বা তেলের বোতল তৈরি করা হয়। এ ছাড়া খেলনা ও প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরিতেও এইচডিপিই ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের প্লাস্টিক সহজেই পুনর্ব্যবহার করে কাজে লাগানো যায় এবং ব্যবহারের জন্যও সবচেয়ে নিরাপদ। এ ছাড়া সবচেয়ে কম খরচে এই ধরনের প্লাস্টিক পুনপ্রক্রিয়াজাত করে দ্বিতীয়বার ব্যবহার উপযোগী সামগ্রী তৈরি করা যায়।

পিভিসি বা থ্রিভি (PVC or 3V)

এই ধরনের প্লাস্টিক থেকে দুই ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ বের হয় যা শরীরের হরমোনের ক্ষতি করতে পারে।

পিভিসি হলো এক ধরনের নরম, নমনীয় ধরনের প্লাস্টিক যা দিয়ে খাবার ঢাকার জন্য স্বচ্ছ পাতলা র‍্যাপিং শিট তৈরি হয়। এ ছাড়া ভোজ্য তেলের বোতল, শিশু ও পশুর খেলনাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য বাজারজাত করার বাক্স তৈরি করা হয়। বিশেষত কম্পিউটারের তার, প্লাস্টিক পাইপ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরিতে পিভিসি ব্যবহার করা হয়। সূর্যের আলো প্রতিরোধী হওয়ায় জানালার ফ্রেমসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হয় এই প্লাস্টিক দিয়ে।

এলডিপিই (LDPE)

এই ধরনের প্লাপস্টিক দিয়ে বোতল তৈরি করা হয় না। তবে প্লাস্টিক ব্যাগ তৈরি করা হয়ে থাকে। যদিও পানিতে কোনো রাসায়নিক পদার্থ এই প্লাস্টিক ছড়ায় না।

এলডিপিই দিয়ে সাধারণত ড্রাই ক্লিন করার জন্য ব্যাগ, সংকোচিত করা হয় এমন বোতল ও পাউরুটি বাজারজাতকরণের ব্যাগ তৈরি করা হয়। আজকাল বিভিন্ন মুদির দোকানে বাজার সদাই রাখার জন্য যে সব ব্যাগ ব্যবহার করা হয় তা এই ধরনের প্লাস্টিকের তৈরি।

পিপি (PP)

এই ধরনের আধা স্বচ্ছ ও সাদা রঙের প্লাস্টিক দিয়ে বিভিন্ন রকমের সিরাপ ও দই বাজারজাত করার পাত্র তৈরি করা হয়।

পলিপ্রোপাইলিন ধরনের প্লাস্টিক খুব শক্ত ও হালকা ওজনের হয়। এর রয়েছে তাপ প্রতিরোধের চমৎকার ক্ষমতা। আদ্রতা রক্ষায় এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন শুকনা খাবারের বাক্সের ভেতরে এই ধরনের প্লাস্টিকের আস্তরণ দেওয়া থাকে। এতে বাইরের আদ্রতা থেকে খাবারটি মুক্ত থাকে। ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া যায় এমন ডায়াপার, প্লাস্টিকের বোতলের ঢাকনা, মার্জারিন ও দইয়ের পাত্র, আলুর চিপসের প্যাকেট, পানীয় পানের পাইপসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরিতে এই প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়।

পিএস (PS)

সাধারণত কফি খাওয়ার কাপ ও বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড খাবার বাজারজাত করতে এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের প্লাস্টিক কিছু ক্যান্সারের জন্য দায়ী পদার্থ নির্গমন করে।

তুলনামূলক সস্তা, হালকা ও সহজে ব্যবহারযোগ্য এই প্লাস্টিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। এগুলো দিয়ে সাধারণত একবার ব্যবহার যোগ্য কাপ, প্লেট, গ্লাস, ডিম রাখার পাত্র ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

তো আজ থেকে বোতলজাত পানি বা অন্যান্য খাবার কেনার আগে আরেকবার দেখে নিন। যে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে তা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর কি না।






মন্তব্য চালু নেই