মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন রাজনের মা

‘পানির লাগি আমার সন্তানে ছটফট করছিলো’

‘পানির লাগি আমার সন্তানে ছটফট করছিলো। মৃত্যুর আগে এক ফুটা পানিও তারে খাওয়াইছে না তারা। অরা কাফির, অরা মুনাফিক। আমার নিরীহ পোলাডারে যেলাখান (যেভাবে) মারছে, আমিও তারা হকলর (সকলের) ফাঁসি চাই। আমি প্রধানমন্ত্রী’র কাছে সন্তান হত্যার বিচার চাই’।

সন্তানহারা রাজনের মা রুবনা তার বুক ফাঁটা আর্তনাদে উপস্থিত সকলেই অশ্রুসিক্ত হন। সন্তানের বিছানায় লুটিয়ে পড়ে বিলাপ করে বলেন, ‘কি দোষ ছিলো আমার পোলার। তারা আমার পোলারে নির্মম নির্যাতন কইরা মারলো’।

কুটিনা বেগম বলেন, ‘আমার পোলারে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অত্যাচারের পর মাইরা ফালাইছে খুনিরা। আমার ছেলেরে তো আর ফিরৎ পামু না। কিন্তু তার হত্যাকারীর শাস্তি চাই। আমার মতো আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়।‘ এজন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে পিটাইছে, সেই ভিডিও দেইখ্যা জ্ঞান হারাইয়া ফেলি।’ এ কথা বলার পর তিনি আবারও সন্তানের বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার বাদেয়ালী ভাইয়ারপাড় গ্রামের বাড়িতে কথা হয় রুবনা বেগমের সাথে।

গত বুধবার সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চোর সন্দেহে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ওইদিন দুপুরেই একটি মাইক্রোবাসযোগে (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৪-০৫১৬) তার মরদেহ গুম করার চেষ্টা হয়। এ সময় শহরতলীর কুমারগাঁও এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় খুনিদের অন্যতম মুহিত আলমকে আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুহিত আলমের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হলে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেটের মহানগর হাকিম আদালত-২’র বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন।

এর আগে, আটক হওয়ার পর পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দিতে রাজন হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন মুহিত। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়।






মন্তব্য চালু নেই