মেইন ম্যেনু

পারিশ্রমিক ছাড়া ঝরে পড়াদের শিক্ষায় ওরা

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : অভিজাত বেষ্টনীতে বস্তি এলাকা। ধনী শ্রেণির সন্তানরা দামি ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে গাড়িতে চড়ে স্কুলে যায়। পাশে বস্তির ছেলেদের ভাগ্যে তা জোটে না। লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ে তারা। অনেকই আবার স্কুলেই যাওয়ার ভাগ্যও জোটে না। অভাবি পিতা-মাতা ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস। সন্তানকে লেখাপড়া শেখানোর ইচ্ছে থাকলেও অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে পেরে উঠে না। সেই সব শিশুদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আলোর পথে বিদ্যা নিকেতন।

উদ্যামি কয়েকজন যুবক মিলে নগরীর ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়ার কৌইটা পুকুরে ২০১০ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করে। প্রথমে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করানো হতো। ২০১৫ সালে ৩ কাটা জায়গা লিজ নিয়ে টিনের কয়েকটি ঘর তুলে শিশুদের পাঠদান করানো হচ্ছে।

ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আবু জাফর। সহযোগিতা হিসেবে আছে তারই বন্ধু সাব্বির, রাসেল, আবু বক্কার সিদ্দিক, জাকিউল হোসেন (জনি)। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিকশিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব। এ উপলদ্ধি থেকে এ স্কুলের প্রতিষ্ঠা। বর্তমানে ওই স্কুলে ১৫০ জন সুবিধা বঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। শুধু শিশুরা নয়, ৮ থেকে ১০ জন শিশুর অভিভাবকরাও সেখানে লেখাপড়া করেন।

বস্তির প্রতিটি ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে ঝরে পড়া শিশুদের তুলে এনে স্কুলটিতে লেখাপড়া করানো হয়। সঙ্গে ইচ্ছুক অভিভাবকদেরও। স্কুলটিতে শিক্ষক ৪ জন। শিক্ষকরা হচ্ছেন শরিফা বেগম, আবু ওবায়েদ, আবু বক্কর সিদ্দিক, শামীম হোসেন। নামে মাত্র সম্মানি নিয়ে তারাও নিরলসভাবে শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। উদ্যোক্তরা তাদের বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে স্কুলটি চালান।

আবু জাফর জানান, আশেপাশে বস্তিগুলোতে যেসব শিশু স্কুলমুখি না তাদের অভিভাবকদের বুঝিয়ে স্কুলে নিয়ে আসা হয়। শিশুদের কোনো বেতন দিতে হয় না।

পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত শিশু ও তাদের পরিবারকে বিনামুল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে এগিয়ে এসেছেন এম জি আজম নামে এক হোমিও চিকিৎসক। সপ্তায় দুই দিন তিনি স্কুলের উপস্থিত হয়ে শিশুদের স্বাস্থ্য পরিক্ষা করেন ও প্রয়োজনিয় চিকিৎসা দেন। যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

এতো কিছুর মধ্যে স্কুলটি সমস্যায় পড়ে আছে। স্কুলটিতে টয়লেটের সমস্যা আছে। নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ নেই। অনেক সময় অর্থের অভাবে খাতা, কলম ও বই দিতে অসুবিধা হয়। নিয়মিত সম্মানিটাও দিতে অসুবিধা হয় তাদের।

এতো কষ্টের মধ্যেও সুবিধাবঞ্চিত শিশু আগামী বছর থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন উদ্যাক্তরা। পাশাপাশি সমাজের ধনী শ্রেণির মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।






মন্তব্য চালু নেই