মেইন ম্যেনু

পাল্টে গেছে টেস্ট শিবির!

চট্টগ্রামে বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের বিপক্ষে কি পারফরম্যান্সটাই না করল বাংলাদেশ! দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল্প রানে বেঁধে ফেলার পর তাদের বিপক্ষে ৭৮ রানের লিড। র‌্যাংকিংয়ের সেরা দশ বোলারের মধ্যে তিনজন দক্ষিণ আফ্রিকার- ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডার ও মরনে মরকেল। তাদের বিপক্ষে ব্যাট করে লিড নেওয়া সহজ কথা নয়।

বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামে মাত্র ২২০ ওভার খেলা হয়েছে। যেটুকু সময় খেলা হয়েছে তাতে বাংলাদেশই ছিল এগিয়ে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ড্র টেস্টে ভিন্ন ফলের আশায় ছিলেন টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিম। চট্টগ্রাম ছাড়ার আগে মুশফিকুর রহিম বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রাম টেস্টের আত্মবিশ্বাস ঢাকা টেস্টে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রাণের শহর ঢাকায় ফেরার পর রোববার অনুশীলন করেননি স্বাগতিক দলের ক্রিকেটাররা। সোমবার সকালেই মাঠে নেমে পড়েন তারা। তবে খোলা আকাশের নিচে অনুশীলনের সুযোগ হয়নি। স্টেডিয়ামের পাশের ইনডোরে চলে দুই-আড়াই ঘণ্টার অনুশীলন।

অনুশীলনে ক্রিকেটারদের বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখা গেল। শারীরিক ভাষাতেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটাররা বেশ ফুরফুরে মেজাজে। পুরো দলে ফিরে এসেছে চাঙ্গা ভাব। তারা যেন প্রস্তুতি নিচ্ছেন নতুন শুরুর ইতিহাস সৃষ্টির আশায়।

ওয়ানডে সিরিজ জেতার পরও টেস্টে কী হবে তা নিয়ে বেশ শঙ্কিত ছিল টাইগার শিবির। বিশেষ করে প্রোটিয়াদের স্কোয়াডে যোগ দেওয়া ফিল্যান্ডার ও স্টেইনকে নিয়ে ভয় কাজ করেছে স্বাগতিকদের মনে। তবে নিজেদের পয়মন্ত ভেন্যুতে বেশ দাপটের সঙ্গে এই দুই পেসারকে সামলিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। ভয় দূর হয়েছে তো বটেই, ভালো খেলার আত্মবিশ্বাসও পেয়েছেন ব্যাটসম্যানরা।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে ২০ উইকেট নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ চট্টগ্রামে সে পথেই ছিল। প্রথম ইনিংসে তো ২৪৮ রানে প্রোটিয়াদের অলআউট করে টাইগাররা। তরুণ মুস্তাফিজুর রহমান অভিষেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে ধস নামিয়ে দেন। আর লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন নিজের ভেল্কি দেখান।

11

আলাদা করে বলতে হয় পেসার শহীদের কথা। দুর্ভাগা এই পেসার উইকেট না পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। ১৭ ওভারের মধ্যে ৯টিই মেডেন করেছেন। করেছেন টানা ৫২টি ডট বল। রান দিয়েছেন মাত্র ৩৪টি। একপ্রান্তে ভালো বল করে সফরকারীদের চাপে রাখেন তিনি। অন্য প্রান্তে উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ, লিখন ও সাকিবরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্রিকেটার বলেন,‘চট্টগ্রাম টেস্টে ভালো করার পর বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।ঢাকা টেস্টে ড্র না, জয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।’

চট্টগ্রামে ভালো খেলার সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডের মতো টেস্টেও কি তবে বাজছে পরিবর্তনের সুর? বদলে যাচ্ছে কি বাংলাদেশ টেস্ট শিবির? আগ্রহ কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর।






মন্তব্য চালু নেই