মেইন ম্যেনু

পাহাড়তলী-সৈয়দপুরে বগি মেরামতের ধুম

আগামী ৯ জুলাই থেকে আসন্ন ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করবে রেলওয়ে। ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে টিকিট বিক্রি। ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ট্রেন চালুরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাড়তি অতিরিক্ত ৮০ হাজার যাত্রীসহ আড়াই লাখ যাত্রী বহনের টার্গেট নিয়ে প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যেসব ট্রেন চলছে তার সঙ্গে ১৪টি বিশেষ ট্রেন যুক্ত হবে। এসব বিশেষ ট্রেনে ১৬৯ টি কোচ যুক্ত করা হবে। এ নিয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপে কোচ মেরামতের ধুম পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৮৬টি এবং সৈয়দপুর রুটে (পশ্চিমাঞ্চল) ৮৩ টি বগি যুক্ত হবে।

পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর রুটের কোচগুলোর মধ্যে ১০৯টি এমজি (মিটারগেজ) এবং ৬০টি ব্রডগেজ রয়েছে। এসব ঈদপূর্ব প্রস্তুতিসহ রেলওয়ের নানা দিক নিয়ে শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন। এসময় মন্ত্রী জানান, প্রতিদিন আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহনের টার্গেট নেয়া হয়েছে। তিনি এ সময় রেলওয়ের প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন।

তবে রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরনো যন্ত্রপাতি ও শতকরা ৪৮ জন জনবল সঙ্কট নিয়েই ওয়ার্কশপগুলোতে কোচ মেরামতের কাজ হচ্ছে। জনবল বৃদ্ধি এবং পুরনো যন্ত্রপাতির পরিবর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতি হলে দ্রুত অধিক (প্রতিদিন ২টি করে ) কোচ মেরামত করা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ হলে গত হরতাল অবরোধের সময় যেসব কোচ ও ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলোও মেরামত সম্ভব হবে। এতে যাত্রীসেবার মানও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে জানান সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী ওয়ার্কসশপের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

রেল কর্মকর্তারা জানান, সারা বছর এ খাতে মাত্র ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

রেলওয়ে সূত্রে আরও জানা গেছে, শত বছরের পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছে রেলওয়ের ওয়ার্কশপগুলো। প্রতিনিয়ত ওয়ার্কশপগুলোতে জমা হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ কোচ ও ইঞ্জিন। কিন্তু পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে এই কোচ-ইঞ্জিনগুলো মেরামত সম্ভব হচ্ছে না। মেরামত না করার কারণে চাপের সময় যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

জানান গেছে, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে ওয়ার্কশপগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে দিন দিন। এছাড়া ওয়ার্কশপগুলোতে দক্ষ লোকবল সঙ্কটের কারণে অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে যাচ্ছে বলে জানান রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, রেলওয়ের ইঞ্জিন, কোচ ও ওয়াগন মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপ রয়েছে তিনটি। এগুলো হলো- পার্বতীপুর লোকমোটিভ ওয়ার্কশপ, সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ ও পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ। এর মধ্যে সৈয়দপুর ওয়ার্কশপটি ব্রিটিশ আমলে ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাহাড়তলী ওয়ার্কশপটি তৈরি করা হয় ১৯৪৭ সালে।

এই ওয়ার্কশপ দুটি যাত্রীবাহী কোচ, পণ্যবাহী ওয়াগন ও ইঞ্জিন মেরামতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এগুলোর আধুনিকায়নে খুব বেশি উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সৈয়দপুর ওয়ার্কশপে মেরামত কাজে ব্যবহারের জন্য ৭৪০টি যন্ত্রপাতি থাকলেও মাত্র ৭৪টি যন্ত্রের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (২০ বছর) আছে। বাকিগুলোর মধ্যে ২৬৫টি যন্ত্রের বয়স ২০-৫০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ৪০১টির বয়সই ৫০ বছরের বেশি।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকা, চাহিদা অনুযায়ী সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ না নেয়া, খুচরা যন্ত্রাংশের অভাব, আধুনিক যন্ত্রপাতি না কেনা, অপর্যাপ্ত বাজেট ইত্যাদি কারণে ওয়ার্কশপগুলো ক্রমশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ব্রডগেজ ও মিটারগেজ উভয় ধরনের কোচ ও ওয়াগন মেরামতে রেলের প্রধান ভরসা সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ। তবে নানা সমস্যা জর্জরিত এ ওয়ার্কশপের কার্যক্ষমতা ক্রমেই কমছে। পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়েই চলছে কোচ মেরামতের কাজ ।

বছরে ৯০০ কোচ ও ২ হাজার ৫শ ওয়াগন মেরামতের সক্ষমতা থাকলেও ২০১২-১৩ অর্থবছরে মাত্র ১৪৭টি কোচ ও ১৬৮টি ওয়াগন মেরামত করা হয় সৈয়দপুরে। অথচ ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ওয়ার্কশপটিতে ৩২০টি কোচ ও ২৫৪টি ওয়াগন মেরামত করা হয়। কার্যক্ষমতা কমতে থাকায় ২০০৯ সালে সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ আধুনিকায়ন প্রকল্প নেয় রেলওয়ে। ১২২ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ায় কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুনে সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ আধুনিকায়ন প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। এর জন্য ব্যয় হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। এর ফলে কিছুটা হলেও সৈয়দপুরের ওয়ার্কসশপে কাজের গতি ফিরে এসেছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ২০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ওয়ার্কশপ দুটি আধুনিকায়ন ছাড়াও আরও তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এগুলো হলো চট্টগ্রাম ব্রিজ কারখানা আধুনিকায়ন, ডিজেল কারখানা আধুনিকায়ন ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপের অভ্যন্তরে নতুন ক্যারেজ কারখানা স্থাপন করা।

রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল বলেন, ‘রেলের সীমিত সম্পদের মধ্যেই ঈদের সময় দৈনিক আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যান্য সময় দিনে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়।’

ঈদের সময় কালোবাজারি রোধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় রেলওয়ে পুলিশ, ডিআরপিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে বলেও জানান মন্ত্রী।






মন্তব্য চালু নেই