মেইন ম্যেনু

পাহাড়ি ঢলে মৎস্য খামারীদের ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

বান্দরবানের লামায় একই মাসে পর পর তিনবারের বন্যায় মৎস্য খামারীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা সরকারী, বেসরকারী ও ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রায় ৫ শতাধিক মৎস্য খামার, পাহাড়ি ঢলে ও বন্যায় জলাবদ্ধতার কারণে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। টানা তিনবারের লোকসানে মূলধন হারিয়ে ব্যাংক ঋণের ভোজা মাথায় নিয়ে অনেকে নিঃস্ব ও দেওলিয়া হয়ে গেছে।
লামা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসের তিনবারের বন্যায় মৎস্য অফিসের তালিকাভুক্ত ও স্ব উদ্যোগে তৈরি ৫ শতাধিক মৎস্য প্রকল্প ও খামার ভেঙ্গে যায়। পুকুর, খামার, গোদা ও পাহাড়ি লেকে চাষ করা কয়েক কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে যায়। তাছাড়া সকল মৎস্য খামার ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মাছ চাষীদের। অনেকে আজ দেওলিয়া। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের চাপে অসহায় মাছ চাষীরা ভিটে বাড়ি ও একমাত্র মৎস্য খামার হারাতে বসেছে। উপজেলায় মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা।
ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষী আলহাজ্ব মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, লামা সদর ইউনিয়নের মেউলারচর আমঝিরি এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লামা শাখার হতে ৫ লক্ষ টাকা ব্যাংক ঋণ ও নিজস্ব ৩৫ লক্ষ টাকা দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তোলা চৌধুরী মৎস্য খামারটি ২৫ জুলাই ২০১৫ইং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাধঁ ভেঙ্গে তার খামার থেকে রুই, কাতল, মৃগেল, নাইলেটিকা, তেলাপিয়া ও সরপুটিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ বন্যার পানির সাথে ভেসে যায়। এতে করে তার ১০-১১ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। বড় অংকের এই ক্ষতির কারণে তাকে হয়ত ঋণের ভোজা নিয়ে সর্বস্ব হারাতে হবে। মনে শংকা আরো নিয়ে বলেন, বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগকে (ব্যাংক ও মৎস্য অফিস) জানালেও কোন সুপরামর্শ পায়নি। তিনি সরকারী সহায়তা কামনা করেন।
লামা ফিসারী কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান আমির হোসেন বলেন, লামা উপজেলার সর্ব বৃহৎ এই মৎস্য খামারটি তিনবারের বন্যায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মাছ মাতামুহুরী নদীর পানিতে ভেসে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেয়া ৩ কোটি টাকার ঋণ ও নিজস্ব অর্থে পরিচালিত খামারটি আজ অর্থের অভাবে ধ্বংসের মুখোমুখি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, লামায় ব্যাক্তি মালিকানাধীন তৈয়ব আলী মৎস্য প্রকল্প (গোদা) শ্রাবণের টানা বর্ষনের কারণে বন্যার তৃতীয় দিনে পাহাড়ের পানি ও বন্যার পানি পুকুরে প্রবেশ করে বাধঁ ও ড্রেন ভেঙ্গে তিন লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লামা উপজেলা মৎস্য অফিসার ছাবেদুল হক জানান, সম্প্রতি সময়ে টানা তিনবারের বন্যায় লামা উপজেলায় মৎস্য খাতে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে। সরকারী ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীদের আর্থিক ও নানান উপকরণ সহায়তার মাধ্যমে পুণরায় আত্মনির্ভরশীল করতে প্রচেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছি।
এ ব্যাপারে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদ মাহমুদ এ প্রতিবেদককে বলেন, সদ্য লামা উপজেলায় বন্যায় অতিমাত্রায় ক্ষতি সাধিত হয়। গতকাল আমরা লামা উপজেলার ২জন সফল মৎস্য চাষীকে পুরষ্কিত করি। ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষীদের নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ও আর্থিক সহযোগিতা করতে মৎস্য অফিস লামাকে বলা হয়েছে। ব্যাংক ঋণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গুলোর সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই