মেইন ম্যেনু

পিঁপড়ার ভয়ংকর প্রতিশোধ

প্রকৃতির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেই আজকের এই মানবসভ্যতার যত বাড়বাড়ন্ত। মানুষ তার নিজের সুবিধার জন্য প্রকৃতির নানান অনুসঙ্গের উপর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে স্বাভাবিকতা নষ্ট করে দিচ্ছে। এমন এক সময় যখন, লক্ষাধিক পিঁপড়াকে ফুটন্ত অ্যালুমিনিয়ামে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক উপাদান। অগুনতি প্রাণের বিনিময়ে কোন শৈল্পিক উপাদানটি মানবের উপকারে উপস্থাপন করা হচ্ছে তা বোধকরি বোঝা খুব একটা মুশকিল নয়। কিন্তু যেহেতু পিঁপড়াও এই বৃহত প্রকৃতিরই অংশ, তাই পিঁপড়েরও আছে প্রতিশোধের স্বভাব। নদীতে বাধ দেয়ার ফলে বন্যার সৃষ্টি হয় এবং জনপদ হুমকির কবলে পড়ে, তেমনি পিঁপড়ের দলেও প্রতিশোধপরায়নতার কারণে রেললাইনের তার ছিড়ে দেয় তাদের তীক্ষ্ণ দাত দিয়ে।

সম্প্রতি ভারতের ব্যস্ত নগরী মুম্বাইয়ের স্থানীয় একটি রেললাইনের নির্ধারিত রেলের ড্যাশবোর্ডের মধ্যকার তার কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। যে তারগুলো কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় সেগুলো দিয়ে মূলত ট্রেনের প্রথম ব্রেকগুলো কাজ করে। বিষয়টি রেল কর্মকর্তাদের নজরে আসলে দেখা যায়, তারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই একটু একটু করে কেটেছিল পিঁপড়ার দল। অর্থাৎ, যদি কর্তৃপক্ষ তার কেটে যাওয়ার বিষয়টি না দেখতেন তাহলে ওই ট্রেনের যাত্রীদের সকলেরই প্রাণ সংশয় ছিল।

ভারতের কেন্দ্রিয় রেল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘রেলটি মাতুঙ্গা অতিক্রম করার সময় একজন মোটরম্যান ড্যাশবোর্ডটি খেয়াল করেন, যেখান দিয়ে একটি তার বের হয়ে ছিল। পরে দেখা যায় ট্রেনের প্রাথমিক ব্রেকটি কাজ করছে না।’ পরবর্তীতে ওই ব্রেক ছাড়াই রেলটি নিরাপদে পরবর্তী স্টেশনে পৌছায়। সেখানে পৌছানোর পরই মূলত নতুন ড্যাশবোর্ড লাগানো হয়। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ড্যাশবোর্ড সংক্রান্ত সমস্যাকে কোনো ব্যাতিক্রমী সমস্যা বলে চিহ্নিত করা হয়নি, উল্টো একে খুবই সাধারণ বলে মন্তব্য করা হয়।

দেশটির চেন্নাইয়ে এর আগে একই কারণে একটি রেল লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত ছাড়াও অনেক আহত হয়। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার কারণে জানা না গেলেও পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্টে দেখা যায় ড্যাশবোর্ডের ব্রেক তার পুরনো হয়ে ছিড়ে যাওয়ার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিয়ম অনুযায়ী, কয়েক মাস পরপর রেলের মোটরম্যানরাই ওই তারগুলো পাল্টে নেন। কারণ জলবায়ু এবং তাপমাত্রার কারণে কোনো বাহ্যিক কারণ ছাড়াই অনেক সময় ওই তার ছিড়ে যেতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই