মেইন ম্যেনু

পিঙ্ক হলো নিষ্ঠুরতার সঙ্গে কোনো পুরুষাঙ্গ দিয়ে যোনিকে ক্ষতবিক্ষত করা

‘পিঙ্ক’ সিনেমার নাম কেন ‘পিঙ্ক’। এই নিয়ে সিনেমা মুক্তির পর জোর আলোচনা। কারণ, সিনেমার কোথাও ‘পিঙ্ক’ শব্দটা একবারের জন্যও উচ্চারিত হয়নি। তাহলে…

‘পিঙ্ক’ মানে গোলাপি। বাংলায় মানে করলে এমনটাই দাঁড়ায়। অর্থাৎ এক বিশেষ রংকেই বোঝায় এটা। সাধারণত এই ‘পিঙ্ক’ রংটির নানা অর্থ থাকলেও মূলত এটিকে মেলানো হয় নারী চরিত্রের সঙ্গে। একজন নারীর মানসিক শক্তি, তাঁর সৌন্দর্য এবং তাঁর মধ্যে থাকা প্রেমকে বোঝাতে এই ‘পিঙ্ক’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু, এর বাইরেও ‘পিঙ্ক’-এর এমন সাংঘাতিক এক অর্থ আছে যা জানলে অনেকেই চমকে যাবেন। ‘পিঙ্ক’-এর সেই অর্থের সঙ্গে কোনওভাবেই তার গতানুগতিক অর্থের কিন্তু কোনও মিল নেই।

শহুরে জীবনে ‘পিঙ্ক’ মূলত একটি ‘স্ল্যাং ওয়র্ড’ অর্থাৎ চলতি মুখের ভাষা। স্ল্যাং মানেই কিন্তু সব সময় গালাগাল নয়, তবে বেশিরভাগ গালাগালিই স্ল্যাংয়ের মধ্যে পড়ে। এক্ষেত্রে ‘পিঙ্ক’-এর ‘স্ল্যাং’ প্রয়োগের অর্থ জোর করে এবং নিষ্ঠুরতার সঙ্গে কোনও পুরুষাঙ্গ দিয়ে যোনিকে ক্ষতবিক্ষত করা।

পিঙ্ক সিনেমার গল্পলেখক বীরেশ মালিক খোদ তাঁর ব্লগে ‘পিঙ্ক’-এর মানে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই কথাগুলি লিখেছেন। সেইসঙ্গে বীরেশ এও দাবি করেছেন যে বিশ্বের বহু শহরেই ‘পিঙ্ক’ শব্দটিকে গালাগাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং এক্ষেত্রে যোনিতে কোনও কিছু দিয়ে আক্রমণ করাকেই ইঙ্গিত করে।

‘পিঙ্ক’- যে একটি ‘স্ল্যাং ওয়র্ড’ তা কলকাতায় ছবির প্রচারের সময় অমিতাভ বচ্চন এবং সুজিত সরকারও উল্লেখ করেছিলেন। এমনকী, দিল্লির মতো শহরে ‘পিঙ্ক’ শব্দটিকে মহিলাদের সৌন্দর্য বা নারীত্বকে ইঙ্গিত করার চেয়েও নারীদের সম্পর্কে অশ্লীল ইঙ্গিত করতেই পুরুষরা বেশি ব্যবহার করে থাকে।

তবে, শুধু স্ল্যাং-এর জন্যই যে সিনেমার শীর্ষক হিসাবে ‘পিঙ্ক’ শব্দটি ব্যবহার হয়েছে তা নয় বলেও জানান অমিতাভ বচ্চন। এক্ষেত্রে ‘পিঙ্ক’-এর পজিটিভ এবং নেগেটিভ দু’টি অর্থকেই মাথায় রাখা হয়েছিল বলে বিগ বি জানিয়েছিলেন। ‘পিঙ্ক’ একদিকে নারীদের জন্য যেমন গালাগাল তেমনি নারীশক্তি ও নারীর মধ্যে থাকা সৌন্দর্য এবং নারীর লড়াইকেও ব্যাখ্যা করে। তাই নারীদের নিয়ে সমাজের সংকীর্ণ মানসিকতাকে ঘিরে এমন ছবির নামকরণে ‘পিঙ্ক’ শব্দটি ছাড়া আর অন্য কিছু ভাবা যায় না বলেই মনে করেন অমিতাভ।






মন্তব্য চালু নেই