মেইন ম্যেনু

পিছিয়ে পড়েও জিতলো মেসিহীন বার্সা

জার্মানিতে খেলতে গিয়ে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বার্সেলোনা কোচ লুইস এনরিকে জানিয়েছিলেন, বরুশিয়া ম’গ্লাডবাখের বিপক্ষে সাবধানে পা ফেলা দরকার; নইলে বিপদ। স্প্যানিশ এই কোচের কথাই সত্যি হলো। প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে নেমে মান হারানোর পালা বার্সার! কারণ, প্রথমার্ধে যে পিছিয়ে পড়েছিল কাতালান ক্লাবটি।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য মান হারতে হয়নি বার্সাকে। আরদা তুরান ও জেরার্ড পিকের অসাধারণ নৈপুণ্যে এ যাত্রায় মান বাঁচলো সফরকারীদের। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলায় বরুশিয়া ম`গ্লাডবাখের বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেসিহীন বার্সা।

বরুশিয়া পার্কে দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে ছাড়া খেলতে নামা বার্সাকে পথ দেখানোর কথা ছিল নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের। কেননা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতিতে এরাই তো বার্সার আক্রমণভাগের ভরসা। হ্যাঁ, গোল পেতে পারতেন দুজনই (নেইমার-সুয়ারেজ)। কিন্তু ভাগ্যদেবী সহায় হননি বলে তাদের দুর্দান্ত কিছু শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দিয়েছেন নেইমার-সুয়ারেজ।

খেলার ৬ মিনিটের মাথায় বার্সাকে লিড এনে দিতে পারতেন নেইমার। প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল আদায় করে নিতে পারেননি ব্রাজিলিয়ার তারকা। এর ঠিক ৪ মিনিট পর সুয়ারেজের সামনে এসেছিল দারুণ এক সুযোগ। ভাগ্যের কাছে হেরে গেছেন তিনি! উরুগুইয়ান এই স্ট্রাইকারের শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে বরুশিয়ার গোলবার ঘেষে।

নেইমার-সুয়ারেজের ব্যর্থতায় খানিকটা হতাশ হয়ে পড়ে বার্সা। এই সুযোগে গোল আদায় করে নেন বরুশিয়া ম`গ্লাডবাখের থোরগান হাজার্ড। ৩৪ মিনিটে বার্সার জাল কাঁপন স্বাগতিক দলের এই বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড। তাই ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে হয় বার্সাকে।

এদিকে, প্রথমার্ধটা যদি স্বাগতিকদের হয়, তাহলে দ্বিতীয়ার্ধটা ছিল সফরকারী বার্সার। এ অর্ধে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে স্বাগতিক বরুশিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলেন নেইমার-সুয়ারেজ-তুরানরা। তবে কাজের কাজটা করেছেন আরদা তুরানই। মেসির অনুপস্থিতিতে বার্সার একাদশের আক্রমণভাগে দায়িত্বটা ভালোভাবেই পালন করছেন তুর্কি এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বার্সাকে সমতায় ফেরান তিনি। নেইমারের উড়িয়ে দেয়া বলটি দুর্দান্ত এক শটে স্বাগতিকদের জালে জড়ান ২৯ বছর বয়সী তুরান (১-১)।

বার্সার পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন পিকে। খেলার ৭৩ মিনিটে কর্নার-কিক পায় বার্সা। নেইমারের কর্নার-কিক থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নেন সুয়ারেজ। উরুগুইয়ান স্টাইকারের দুর্বল শট রুখে দেন বরুশিয়ার গোলরক্ষক। কপাল মন্দ ওই গোলরক্ষকের। খানিকটা গরিমসি করায় হাত থেকে বল ফসকে যায়। দারুণ দক্ষতায় সেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ‘সুযোগসন্ধানী’ পিকে। পায়ের আলতো ছোঁয়ায় আদায় করেন মহামূল্যবান গোলটি (২-১)।

এই্ জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষেই থাকলো বার্সা। দুই ম্যাচ শেষে তাদের ঝুলিতে জমা পড়লো পূর্ণ ৬ পয়েন্ট। গ্রুপের অন্য ম্যাচে সেল্টিকের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ৪ পয়েন্ট নিয়ে সিটিজেনদের অবস্থান দ্বিতীয়।






মন্তব্য চালু নেই