মেইন ম্যেনু

পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় আহত ৪ ॥ থানায় মামলা দায়ের

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা: নওগাঁর রানীনগরে বিবাদমান পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় স্কুল ছাত্রী সহ ৪ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের কসবাপাড়া গ্রামের পুকুরের পাহাড়াদার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে জাহের আলী (৪৮), স্ত্রী রেশমা (৩০), স্কুল পড়–য়া মেয়ে জেমি (১৪), ছেলে আজিজার রহমান (১২)।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কালীগ্রামের কসবাপাড়া গ্রামে। খবর পেয়ে রাণীনগর থানাপুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে প্রায় ৭কেজি পোনা জাতের ছোট মাছ, একটি চার্জার ভ্যান ও মাছ মারা জাল থানায় নিয়ে আসে। এব্যাপারে রাণীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জন সহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কালীমগ্রাম ইউনিয়নের কসবাপাড়া গ্রামের ১ একর ৬২ শতাংশ পরিমাপের পুকুরটি আবাদপুকুর গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে গোলাম কাদের খাজা বাৎসরিক ৪৬ হাজার টাকায় ৩ বছরের জন্য উপজেলা ভূমি অফিস থেকে লিজ নেওয়ার দাবি করে মাছ চাষ শুরু করে। অপর দিকে একই উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের আলমগীর হোসেন চৌধুরীর ছেলে আযম চৌধুরী তার পৌতিক সূত্রে পুকুরের মালিকানা দাবি করে প্রায় দুই বছর যাবৎ অনেক দেন-দরবার করে কোন সমাধান না হওয়ায় ২০১৪ইং সালে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে যার নং- ১৭২/১৪। বিজ্ঞ আদালত পুকুরটি স্থিতি অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেয়। আদালতের নিদের্শ অমান্য করে গোলাম কাদের খাজা মাছ চাষ করার চেষ্টা অব্যহত রাখে। এরপর থেকে কয়েক দফায় পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও খাজা’র দাবি গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাতোয়াল গ্রামের আলমগীর চৌধুরী’র ছেলে আযম চৌধুরী, কসবাপাড়া গ্রামের নূর শেখের ছেলে রুহুল (২৩), মাহবুব (২০), তমিজ দপ্তরীর ছেলে কুদ্দুস সহ আরো বেশ কয়েক জন পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরতে গেলে পাহাড়াদার জাহের আলীর পরিবারের সাথে মারপিটের ঘটনায় ৪ জন আহত হয়।

খবর পেয়ে রাণীনগর থানাপুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে প্রায় ৭কেজি পোনা জাতের ছোট মাছ, একটি চার্জার ভ্যান ও মাছ মারা জাল থানায় নিয়ে আসে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এব্যাপারে রাণীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জন সহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এব্যাপারে আযম চৌধুরী জানান, মালিকানা সূত্রে ওই পুকুরের মালিক আমার পিতা। পুকুরটি আইনগত ভাবে সমাধানের জন্য আদালতে একটি মামলা করলে বিজ্ঞ আদালত স্থিতি রাখার নির্দেশ দেয়।

আব্দুল কুদ্দুস জানান, ওই পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে কখন মারামারি হয়েছে আমি জানি না। তবে খাজা অন্যায় ভাবে সমাজে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এই ধরণের মামলায় আমাকে ও আযম সহ ৮জনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ খান জানান, পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় গোলাম কাদের খাজা বাদি হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করেছে। বিষয়টি তদন্ত স্বাপেক্ষে আসামীদের গ্রেফতার সহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই