মেইন ম্যেনু

পুরস্কার ঘোষিত ৬ জঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে ডিবি

১৮ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দিয়ে কাজ হয়নি। একমাসেও কেউ আসেনি আনসার উল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) সেই ছয় সদস্যের সঠিক কোনো তথ্য নিয়ে। তাই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মাঠে নেমে রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থেকে আটক করে সংগঠনের দুই সদস্যকে। তাদের কাছ থেকেই পুরস্কার ঘোষিত ওই ছয় জঙ্গি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে।

বুধবার বিকেলে কথা হলে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘কামরাঙ্গীর চর থেকে আটক হওয়া এবিটির দুই সদস্যকে আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা পুরস্কার ঘোষিত এবিটির ৬ সদস্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। ওইসব তথ্য আমলে নিয়ে এরই মধ্যে ডিবির দুইটি টিম অভিযানে নেমেছে।’ দুই এক দিনের মধ্যেই তাদের আটক করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন এই উপ-পুলিশ কমিশনার।

ডিবির এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি এবিটির এই ৬ সদস্যই বিভিন্ন সময়ে ব্লগার, প্রগতিশীল লেখক ও প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত। তাদের তত্ত্বাবধানেই রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলে ডিবির ওপর হামলা চালানো হয়।’

চলতি বছরের ১৯ মে ব্লগার ও লেখক হত্যায় জড়িত সন্দেহে এবিটির ৬ সদস্যের ছবিসহ তথ্য প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দিতে ১৮ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে ডিএমপি। এরা হলেন- খুলনার শরীফ, উত্তরবঙ্গের সেলিম, সিলেটের সিফাত, কুমিল্লার সামাদ, চট্টগ্রামের শিহাব এবং ঢাকার পাশ্ববর্তী কোনো জেলার সাজ্জাদ। এদের মধ্যে প্রথম দুজনকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও পরের চারজনের জন্য দুই লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে ডিএমপি।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, এবিটির ৬ সদস্যের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক খুলনার শরীফ। সে জাগৃতি প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন, তেজগাঁওয়ে ওয়াশিকুর রহমান বাবু, সূত্রাপুরে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। সিসিটিভি ফুটেজে অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে শরীফের উপস্থিতিরও প্রমাণ পায় ডিবি।

প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা, ওয়াশিকুর বাবু হত্যা, নিলাদ্রী নীলয় হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় সিলেটের সিফাত। আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মিশনের সার্বিক সমন্বয় করে কুমিল্লার সামাদ। সে এবিটির সামরিক শাখার অন্যতম সদস্য।

প্রকাশক আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টায় সরাসরি অংশ নেয় চট্টগ্রামের শিহাব। অভিজিৎ রায় হত্যা, নিলাদ্রী নীল হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় সাজ্জাদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, এই ৬ সদস্যের মাধ্যমে বাড্ডা সাঁতারকুলে সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মোহাম্মাদপুরের বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে এবিটি।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সৈয়দ মো. মোজাহিদুল ইসলাম এবং আরিফুল ইসলাম সোলায়মানীকে আটক করে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট খুরশীদ আলম শুনানি শেষে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।






মন্তব্য চালু নেই