মেইন ম্যেনু

পুরো বংশেরই পেশা যৌনকর্ম!

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ভরতপুরে খকরানাগলা গ্রাম। জয়পুর রাজপ্রাসাদের পাশ ঘেঁষে থাকা এই গ্রামে বাস করে বেদিয়া বংশের লোকেরা। আর এই পুরো সম্প্রদায়ের পেশাই যৌনকর্ম!

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গ্রামের বর্তমান করুণ চিত্র। বেদিয়া বংশে মেয়ে হয়ে জন্মালে তাকে হতেই হবে যৌনকর্মী। ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে ২০০ কিমি দূরের এই গ্রামে মেয়েরা বংশপরম্পরায় যৌনকর্মের পেশা গ্রহণ করে।

প্রতিবেদনে বেদিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান বা ‘মুখিয়ার’ বরাত দিয়ে জানানো হয়, অনেককাল আগে থেকেই বেদিয়া এবং নাট উপজাতির মেয়েরা ছিলেন রাজস্থানের নর্তকী। রাজা‚ সামন্তপ্রভু এবং অভিজাতদের মনোরঞ্জন করতে হতো তাঁদের।

কালের আবর্তে লোপ পেয়েছে রাজতন্ত্র এবং জমিদারি প্রথা। পেশাদার নর্তকীর কাজ হারিয়েছেন অতীতের ‘নাচনেওয়ালিরা’। কিন্তু সম্মান ফিরে আসেনি তাঁদের জীবনে। বদলেছে শুধু পেশার নাম। কিন্তু অলিখিতভাবে দেহ বেচাই যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের নিয়তি।

আর কালের পথপরিক্রমায় সেদিনের নর্তকীরা আজ ‘যৌনকর্মী’। বেদিয়া সমাজের অলিখিত নিয়ম হলো খকরানাগলা গ্রামে বেদিয়াদের মেয়েদের দেহ ব্যবসা করতেই হবে। আর সেই অনুযায়ী কিশোরীবেলা থেকেই শুরু হয়ে যায় এর প্রস্তুতিপর্ব।

বেদিয়া সম্প্রদায়ের মেয়েরা রাজস্থানে স্থানীয়ভাবে এই পেশায় নিয়োজিত থাকেন। অনেকে আবার চলে যান দিল্লি-মুম্বাইয়ে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী ‘নিষিদ্ধ’ এলাকায় হরহামেশাই দেখা যায় রাজস্থানি বেদিয়া মেয়েদের। যাদের পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে বিক্রি করতে হয় নিজের শরীর!

বেদিয়া সম্প্রদায়ের গোত্রপ্রধান হরেকৃষ্ণ জানান, তাঁর সম্প্রদায়ের মেয়েদের বিয়ে হয় খুব কম। একবার বিয়ে হলে সে নারী আর দেহব্যবসা করতে পারে না। আর এ কারণে বিয়েতে আগ্রহী হন খুব কম নারীই। তাঁদের মতে, একমাত্র পেশাটি বন্ধ হয়ে গেলে খাবেন কী?

হরেকৃষ্ণ জানান, বেদিয়া নারীদের কারণেই এখনো তাঁদের গ্রামের লোকজন পেট পুরে খেতে পারছে। যেসব মেয়ে বিভিন্ন রাজ্যে যৌনকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তাঁদের হাত ধরে খকরানাগলা গ্রামে সচ্ছলতা এসেছে ঠিকই কিন্তু বেড়েছে সামাজিক লাঞ্ছনা।

আর এই লাঞ্ছনার শিকার হয়ে হামেশাই নির্যাতিত হন বেদিয়া নারীরা। হরেকৃষ্ণ অভিযোগ করে বলেন, নামের পাশে ‘বেদিয়া’ পদবি দেখলেই সামাজিক যে কোনো অনুষ্ঠানে তাঁদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। খকরানাগলা গ্রামের কেউ এখনো পর্যন্ত সরকারি চাকরি পাননি। পাবেন কী করে, গ্রামে নেই একটি স্কুলও। আর তাই সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্যুত বেদিয়াদের কাছে অধরাই থেকে যাচ্ছে শিক্ষার আলো।

এনডিটিভির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, রাজস্থানের বেদিয়াদের মতো একই চিত্র ভোপালের বাচদা সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর মাঝেও। সেখানেও মেয়েরা ঐতিহ্য মেনে যৌনকর্মী হয়। ভোপালের মান্দাসোর থেকে রাজস্থানের চিতোরগড় পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কের দুই পাশে দোকানে মজুত থাকেন বাচদা মেয়েরা। কিশোরী থেকে মধ্যবয়সী। চাইলেই পাওয়া যায় তাঁদের সেবা।

এটাই রাজস্থান আর ভোপালের আসল চিত্র বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের মানবাধিকারকর্মী সুশান্ত প্রকাশ। তিনি জানান, বাচদা ও বেদিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ সরকার ‘জাবালা যোজনা’ কর্মসূচি শুরু করেছিল। কিন্তু ওই কর্মসূচি থেকে গেছে খাতা-কলমে। আর বংশানুক্রমিকভাবে পঙ্কিল আবর্তেই পড়ে থাকতে হচ্ছে ওই অঞ্চলের নারীদের।






মন্তব্য চালু নেই