মেইন ম্যেনু

পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে নতুন গম ও আটা

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা “পচা গমের” বদলে পুলিশকে নতুন গম ও আটা দেয়া হচ্ছে।এ নিয়ে পুলিশের আপত্তি মেনে নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তর এখন নতুন আটা ও গম দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দফায় দফায় চিঠি পাওয়ার পর খাদ্য মন্ত্রণাল তার পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের আইজি অফিসকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না। খাদ্য সচিব বেগম মুশফেকা ইকফাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনিও মুখ খুলেননি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিব বলেন, আগামী মাস থেকে পুলিশের গম ও আটা পরির্বতন করে নতুন গম ও আটা দেয়া হবে। এর জন্য নতুন চিঠি প্রস্তুত করা হয়েছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রধানকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে উন্নতমানের চাল-গম সরবরাহের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশ থাকলেও তা সরবরাহ না করতে বলা হয়েছে সব জেলায়।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গত রবিবার দেওয়া সর্বশেষ চিঠিতে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়েছে, খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ করা গমের আটা অত্যন্ত নিম্নমানের। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর এসব নিম্নমানের গম ও আটা খাচ্ছে। এতে তাদের মনোবল দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, উন্নত চাল-গম বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে পুলিশ বাহিনীর মনোবল সুদৃঢ় হবে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো অপর একটি চিঠিতে বলা হয়, খাদ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া চাল ও গম মোটা, দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা ও কাচযুক্ত। পুলিশের পাশাপাশি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশেষ নিরাপত্তা ফোর্সের বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে কর্মরত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ প্রায় ৩৩ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঢাকা মহানগর পুলিশের রেশন স্টোর থেকে এসব গম উত্তোলন করে থাকেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গমের মান নিয়ে পুলিশের আপত্তির বিষয়টি তুলে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে গত দুই মাসে একাধিক চিঠি দিয়েছে। এরপরও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের টনক নড়েনি।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফয়েজ আহমদ বলেন, ব্রাজিলের গমের মান নিয়ে পুলিশ প্রশ্ন তোলায় তাদের আর ওই গম দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং কর্মসূচিতে বণ্টনের জন্য এগুলো দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পুলিশের জন্য উন্নতমানের গম সরবরাহ করতে একটি চিঠি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিরোদ চন্দ্র মণ্ডল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, পুলিশের জেলা/ইউনিটের রেশনসামগ্রী হিসেবে জেলা খাদ্যগুদাম থেকে যে গম সংগ্রহ করা হয়, তা উন্নত নয়। পুলিশ বাহিনী থেকে পাঠানো নিম্নমানের গমের কিছু নমুনাও খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।






মন্তব্য চালু নেই