মেইন ম্যেনু

ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চুরি-ডাকাতির শঙ্কা

দুই বছর পর আবারো রাজধানীতে বসবাসকারী ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে ‘ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম’ বিতরণ শুরু করেছে ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে এই ফরমটিতে পুলিশের কোনো মনোগ্রাম নেই। তাই সাধারণ মানুষ এই ফরম নিয়েও এক ধরনের আতঙ্কে আছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, এই ফরম বিতরণের কথা বলে ভুয়া পুলিশ সেজে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে অপরাধ ঘটানোর সুযোগ পাবে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে এই আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে ২০১৩ সালে এই কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে তা স্তিমিত হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে বেশ কিছু অঘটন ঘটে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আবারো এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার এসব বিষয় নিয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। ক্রাইম কনফারেন্সে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া নগরবাসীর তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়।
এরপরই এ বিষয়ে ডিএমপির প্রতিটি থানায় কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা ছদ্মনামে বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। এরপর সুযোগ বুঝে অপরাধ কর্মকাণ্ড করে বাড়ির ভাড়া পরিশোধ না করেই পালিয়ে যান। অনেক সময় বাড়ি মালিকরাও তাদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেন না। আবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে কিংবা মেস হিসেবে ভাড়া নিয়ে অনেক ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালানোর তথ্যও আছে গোয়েন্দাদের কাছে।

2015_11_15_17_44_54_MoFsKwfZSVO8w68BItlhaLMniGmT6q_original

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরপুর, ওয়ারী ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বেশ কিছু বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়ার সঙ্গে পুলিশের এই কার্যক্রম নিয়ে আলাপকালে তারা তুলে ধরেন তাদের প্রতিক্রিয়া। তারা পুলিশের এই উদ্যেগকে স্বাগত জানালেও একটি বিষয়ে তাদের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশ থেকে যে ফরম দেয়া হয়েছে তাতে মহানগর পুলিশের কোনো মনোগ্রাম বা সিল নেই। এক্ষেত্রে যারা তথ্য সংগ্রহ করতে আসবেন তারা আসলেই পুলিশ কি না এবং প্রকৃত অর্থেই তথ্য সংগ্রহ করছেন কি না সে বিষয়ে সংশয় দেখা দেয়। কারণ, যে পুলিশ কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করতে আসেন তাদের বেশিরভাগই নির্ধারিত পোশাক পরে আসেন না। রাজধানীতে পুলিশ বা ডিবি পরিচয়ে বাসায় ঢুকে অপরাধ সংঘটনের অনেক ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে এ কার্যক্রম শুরু হলেও মাঝে কিছু সময় স্থিমিত ছিল। কিন্তু এখন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আর ফরমে পুলিশের মনোগ্রাম বা সিল থাকার প্রয়োজন নেই। যদি কারো সন্দেহ হয় তিনি নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করতে পারবেন। আর যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ফরম বিতরণ ও তথ্য সংগ্রহ করতে যাবেন তাদের পোশাক (ইউনিফর্ম) পরে এবং নিজেদের পরিচয় দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশের কাছে এসব তথ্য থাকা উচিৎ। তাতে অপরাধীদের ধরতেও সুবিধা হয়।






মন্তব্য চালু নেই