মেইন ম্যেনু

পৃথিবীতে এখনও ৪ কোটির অধিক দাস

উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে আইন করে বিলুপ্ত করা হয়েছিল দাসপ্রথা। মানুষ হয়ে অন্য মানুষের দাসবৃত্তি করাকে অমানবিক এবং অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছিল সেদিন। কিন্তু তাই করে কি দাসপ্রথা একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে? সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একটি সংস্থা দ্য গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্স একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে এই আধুনিক দাসত্বের উপর। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীতে এখনও প্রত্যক্ষভাবেই সাড়ে চার কোটির বেশি মানুষ দাস হিসেবে জীবন যাপন করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, বিশ্বে এখনও এমন কিছু দেশ রয়েছে যে দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশই বিভিন্নভাবে দাসবৃত্তির সঙ্গে জড়িত। উত্তর কোরিয়ার ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং উজবেকিস্তানের ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ মানুষ আজও দাস হিসেবে জীবন যাপন করছে। আর এই দাসদের অধিকাংশই বিভিন্ন ভারি শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত্রে কাজ করছে। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দাসের সংখ্যা সবেচেয়ে বেশি প্রাচ্যের দেশ ভারতে। দেশটিতে দাসের সংখ্যা বলা হয়েছে ১৮ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন এবং চীন ও পাকিস্তানে পর্যায়ক্রমে রয়েছে ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ২ দশমিক ১৩ শতাংশ।

২০১৫ সালে যুক্তরাজ্য নতুন স্লেভারি অ্যাক্ট চালু করে। ফাউন্ডেশনটি মনে করে, বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই উচিত যুক্তরাজ্যের অনুকরণে এই আইন প্রনয়ন করা। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফরেস্ট বলেন, ‘২০১৬ সালের বাস্তবতায় বিশ্বে আধুনিক দাসত্বের যে অবস্থা তাতে যুক্তরাজ্যকে মডেল হিসেবে গ্রহন করলে আধুনিক দাসত্ব মোকাবেলা করা সহজ হবে। আর এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে পারে। আমার বিশ্বাস করি, উল্লেখযোগ্য নয়টি দেশের নেতৃবৃন্দ যদি এই আইন প্রনয়নে এগিয়ে আসে তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও এগিয়ে আসবে।’

তবে ফরেস্ট যতই বলুন না কেন আধুনিক দাস ব্যবস্থা রহিত করতে যুক্তরাজ্য অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে, তাতে কিন্তু এটা বোঝা যায় না যে ব্রিটেনে কোনো দাস নেই। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ব্রিটেনে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ দাস হিসেবে আছেন। সম্প্রতি হলিউডের বিশিষ্ট অভিনেতা রাসেল ক্রো এই তথ্য প্রকাশে সহায়তা করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই