মেইন ম্যেনু

পৃথিবীর কাছে তুমি হয়তো কিছুই নও, কিন্তু কারও কাছে তুমিই তার পৃথিবী…

একটা মেয়ে ছিল, একটা ছেলেকে অনেক ভালোবাসতো ।
ছেলেটি প্রথমে মেয়েটিকে অবহেলা করত । পাত্তা দিত না । আস্তে আস্তে দুজনের বন্ধুত্ব গভীর হতে থাকে, ছেলেটি ধীরে ধীরে মেয়েটির ভালোবাসায় সারা দেয়। দুজন জীবনটাকেসুন্দরভাবে পার করতে থাকে । কিন্তু হঠাৎ মেয়েটি খেয়াল করে ছেলেটি বদলে যাচ্ছে । তার সাথে কথা কম বলে । মোবাইল বন্ধ থাকে । একদিন মেয়েটি জানতে পারে ছেলেটির জীবনে অন্য কেও আছে । মেয়েটি ভেঙ্গে পড়ে। কি করবে বুঝতে… পারে না । অনেক চেষ্টা করে ছেলেটিকে তার জীবনে ফিরিয়ে আনার কিন্তু ছেলেটি এমনি ওর থেকে আরো দূরে চলে যেতে থাকে ।

একদিন এক রাতেমেয়েটি নিজের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে। মেয়েটি মারা যায়। রেখে যায় তার পরিবারের জন্যে অসীম কষ্ট । মেয়েটির বাবা মেয়েটিকে খুব ভালোবাসতো । কিন্তু তার আত্মহত্যার পর থেকে তার বাবা পাগল হয়ে যায়। ১০ বছর পর আজো মেয়েটির পরিবার তার বাবার চিকিৎসা একটি মানসিক হাসপাতালে করাচ্ছে । মেয়েটির মা এবং বড় বোন কোনমতে তাদের সংসার চালাচ্ছে।

ছেলেটি কি হয়েছে তা আমি জানি না । হয়ত বিয়ে করে সুখে আছে । অথবা কোন কারনে কষ্টে আছে । ছেলেটি তো মেয়েটিকে ধোঁকা দিয়ে গুনাহ করেছেই । কিন্তু মেয়েটিও কি ভুল করেনি ? এমন আমরা অনেকেই করি। অনেকেই আত্মহত্যার চেষ্টাকরি । কেও মারা যায়, কেও বেঁচে থাকে । একটা ছেলে বা মেয়ের ভালোবাসা আমাদের কাছে এত বড় হয়ে যায় যে সৃষ্টিকর্তার দেয়া জীবন মূল্যহীন হয়ে যায় ? বাবা মার ভালোবাসা কি এতই সস্তা ? তাদের ত্যাগ কি কোন মানেই রাখে না আমাদের জন্যে ? যে আত্মহত্যা করে সে তো চলে যায়, কিন্তু পেছনে রেখে যায় এক অভিশাপ । যা তার পরিবার, কাছের মানুষকে ধ্বংস করে দেয় । দু বছরের প্রেম ২৫ বছরের বাবা মার সকল ভালোবাসা, ত্যাগ থেকে বড় হয়ে যায় । আপনাদের বলছি যারা ভালোবাসায় কষ্ট পেয়েছেন তাদেরকে বলছি, জীবনে সেই মানুষটিকে সবকিছু ভাববেন না,যে আপনাকে কষ্ট দিয়েছে । ভালোমতো তাকিয়ে দেখুন আশেপাশে এমন অনেকেই আছে যে শুধু আপনারমুখের হাসি দেখে বেঁচে থাকে । কারো জন্য আপনি কিছুই না, কিন্তু আপনার বাবা মার জন্যে আপনি তার পৃথিবী । সেই পৃথিবীকে এভাবে নষ্ট করবেন না ।






মন্তব্য চালু নেই