মেইন ম্যেনু

পৃথিবীর মঙ্গল গ্রহে আট মাস কাটিয়ে ফিরলেন ওরা ছয়জন !

পৃথিবীর মঙ্গলে আট মাস কাটিয়ে ফিরলেন ওরা ছয়জন। হাজার ফুটের একটা গুহা বা তাঁবু। ওর মধ্যেই হাজির একটা আস্ত মঙ্গল গ্রহ। ছয় বিজ্ঞানী আট মাস ধরে পৃথিবীর মধ্যে গড়ে তোলা সেই মঙ্গল গ্রহেই কাটিয়ে ফিরলেন। লক্ষ্য একটাই, মঙ্গলে যাওয়ার আগে পুরোপুরি তৈরি হয়ে নেয়া।

আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের এক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির ওপর তৈরি হয়েছিল এই কৃত্রিম মঙ্গল গুহা। যার মধ্যে আট মাস ধরে লাল গ্রহে থাকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ট্রেনিং সারলেন ছয় বিজ্ঞানী। এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে জিনিউজ।

গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেনিং ‘সেশনে ‌মহাকাশচারী’ খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে স্নান, হাঁটাচলা সবই হরো একেবারে মঙ্গল গ্রহের আদলে।

মানে হাজার ফুট এই তাঁবুর ভেতর ছয় বিজ্ঞানা কাটালেন একেবারে ঠিক যেভাবে মঙ্গল গ্রহে পৃথিবীর মানুষ থাকতে পারে ঠিক সেই কায়দায়। গুহার বাইরে তারা যে ক’বার বেরিয়েছেন তাদের অনুমতি নিতে হয়েছে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের। স্পেস স্যুট পরে একেবারে মঙ্গলে হেঁটে চলা বেরানোর মত করে তারা হাওয়াই দ্বীপের ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির ওপর হেঁটে চলে বেরালেন।

এই আট মাস ধরে বিজ্ঞানীদের শারীরক অবস্থা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টা ভালো করে নজরে রাখা হলো। যাতে আসল মঙ্গল অভিযানের সময় ঠিক কী কী সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই অভিযানের সদস্য তথা বিজ্ঞানী তথা পারডু ইউনিভার্সিটির ছাত্রী জোসেলিন ডান জানালেন, পৃথিবীতে ফিরে এসে তার দারুণ লাগছে, তবে এই ক’মাস সহকর্মীদের সঙ্গে ‘মঙ্গল’-এর সম্পর্কটা মিস করব।

এই আট মাস কৃত্রিম মঙ্গলে বিজ্ঞানীরা কী খেলেন? মহকাশচারীরা যেমন শুকনো ফল খান তেমনই খেলেন এই ছয় বিজ্ঞানী। গ্রাউন্ড কন্ট্রোলে যোগাযোগের ২০ মিনিট পর উত্তর এল। ঠিক যেমনটা হবে মঙ্গলে গেলে। সপ্তাহে মাত্র ৬ মিনিটে স্নানের সুযোগ মিলবে। কারণ মূল্যবান জলকে যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে রাখা।

সবার এখন প্রশ্ন ঠিক মঙ্গলের মত করে তৈরি হওয়া এই গুহাতে ঠিক কী কী ছিল? প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে হাওয়াই ইউনিভার্সিটির প্রফেসর কিম বিনস্টেড জানালেন, ভূতত্ত্বগতভাবে গুহাটিকে যতটা সম্ভব মঙ্গলের মত করা হয়েছে। কোনো প্রাণীর চিহ্ন নেই, ছোট উদ্ভিদ কিংবা কিট পতঙ্গও পর্যন্ত নেই।

তবে মহাকাশ যানে যেমন রান্নাঘর, ডাইনিং, বাথরুম, ল্যাব, শরীরচর্চা, কাজের জায়গা ভাগ করা থাকে এই গুহাতেও ঠিক তাই ছিল।






মন্তব্য চালু নেই