মেইন ম্যেনু

পৃথিবীর সবচাইতে দামী পাঁচ চিত্রকর্ম!

ঘরের দেয়ালে, এখানে ওখানে রোজই অবহেলায়, অনাদরে ফেলে রাখি আমরা কত-শত চিত্রকর্ম। কতটা অসাধারণ হাতের ভালোবাসার ছোঁয়ায় বিমূর্ত থেকে মূর্ত হয়ে উঠেছে সেগুলো ধীরে ধীরে সেটাও আমাদের চোখের আড়ালেই চলে যায়। কিন্তু বাস্তবে এমন চিত্রকর্ম রয়েছে যেগুলোর প্রতি ভালোবাসাটা কেবল এর স্রষ্টারই নয়, আছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত জুড়ে থাকা মানুষের। কোন কোনটা ঘরের কোণায় অনাদরে পড়ে থেকেও হঠাৎ করে আকর্ষণ করেছে সবার মনযোগ, আবার কোনটা শুরু থেকেই নিজেকে বসিয়েছে সবার আকর্ষণের মধ্যবিন্দুতে। আসুন দেখে আসি এমনই কিছু বিখ্যাত আর সবচাইতে দামী চিত্রকর্মের কথা।

১. দ্যা কার্ড প্লেয়ার্স

খুব সাধারন চিন্তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চিত্রকর্মগুলোও যে একটা সময় পৃথিবীর সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে তার প্রমাণ এই দ্যা কার্ড প্লেয়ার্স চিত্রকর্মটি। নিজের শেষ বছরে তৈরি করা পল সেজানের এই চিত্রকর্মটি শেষ করা হয় ১৮৯০ সালে। পাঁচটি ধাপে নিজের এই ছবিটি শেষ করেন পল। এর ভেতরেই একটিকে কিনে নেয় কাতারের এক রাজপরিবার। সেখানে এটি বিক্রি হয় ২৫০- ৩০০ মিলিয়ন ডলারে (ডেইলি মেইল)! তালিকার প্রথমে থাকা সবচাইতে বেশি দামে বিক্রিত এই চিত্রকর্মটিতে দেখা যায় স্থানীয় কৃষককে তাস খেলায় মত্তাবস্থায়।

২. দ্যা স্ক্রিম

নরওয়ের চিত্রশিল্পী এডওয়ার্ড মনের আঁকা এই দ্যা স্ক্রিম চিত্রকর্মটির মোট চারটি ধরন রয়েছে। দুটি প্যাস্টেলের, আর দুটি পেইন্টিংসের। এছাড়াও নিজের এই ছবিটির বেশকিছু বিভাগ করেন এই শিল্পী। কিন্তু খুবই অদ্ভূতভাবে কেবল ১৮৯৫ সালে দ্যা স্ক্রিমের প্যাস্টেল ছবিটিতেই রংগুলো সবচাইতে ভালো খেলে যায় আর তাক লাগিয়ে দেয় সবাইকে। এই চিত্রকর্মের মাধ্যমেই ১১৯,৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেন মনে (ডেইলি মেইল)। নিজের আঁকা চিত্রকর্মটি নিয়ে বলতে গিয়ে এই চিত্রশিল্পী জানান যে, একদিন সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ সূর্যের লালচে রং আর চারপাশের প্রকৃতিকে দেখে তার মনে হয়েছিল একটা চিৎকার বুঝি ভেসে যাচ্ছে সবখানে। বর্তমান সময়ে মানুষের ভেতরে জমে থাকা উদ্বিগ্নতা আর হতাশার চিৎকারকে নিজের দ্যা স্ক্রিম ছবিটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন বলে জানান শিল্পী।

৩. . গারকন অ্যা লা পাইপ

২৪ বছর বয়স্ক তরুন পাবলো পিকাসো তার আঁকা এই চিত্রকর্মটির মাধ্যমেই সবাইকে খুব সহজে বুঝিয়ে দেন যে প্রতিভা তার ভেতরে সেই অল্প বয়স থেকেই বিকশিত হয়েছিল। সেসময় পিকাসো অত বড় আর নামী আঁকিয়ে হননি। তখন পিকাসোর চিত্রকর্মের খুব বড়রকমের ভক্ত ছিল ছোট্ট এক বাচ্চা লুইস। প্রায় ছবি আঁকার সময় পিকাসোর আশপাশে গিয়ে ঘুরে বেড়াতো সে। একসময় এই লুইসকে মডেল হিসেবে ভেবেই একটি চিত্রকর্ম তৈরি করবেন বলে ভাবেন পিকাসো আর করেও ফেলেন। আর সেদিনের সেই চিত্রকর্মটিই হচ্ছে আজ ১০৪ মিলিয়ন ডলারে বিক্রিত গারকন অ্যা লা পাইপ (ওয়ান্ডার লাস্ট)। যদিও সমালোচকদের মতে ছবিটি আদতে একটুও পিকাসোর সত্যিকারের উৎকৃষ্ট চিত্রের ধারে কাছেও যায়নি। এ ব্যাপারে হতাশাও প্রকাশ করেন অনেকে।

৪. পোট্রেট অব আদেলে ব্লচ-বাওয়ার ১

বিখ্যাত অস্ট্রিয়ান চিত্রকার গুস্তাভ ক্লিমটের আগ্রহের সবটা ছিল নারীকে ঘিরে। নারীদের আঁকতে পছন্দ করতেন এই শিল্পী। আর সেই আগ্রহকে কেন্দ্র করেই আদেলে ব্লচ বাওয়ারের ছবিটি আঁকেন তিনি। মূলত চিত্রকর্ম ও বিশেষ করে গুস্তাভের চিত্রকর্মের প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল এই বিশাল পরিবারের বধু ব্লচ বাওয়ারের। আর তাই নিজ থেকেই গুস্তাভের ছবির মডেল হন তিনি। ১৯০৭ সালে এ ছবিটি তৈরি করেন গুস্তাভ। আর সেই প্রথমবার ও শেষবারই তিনি কোন নারীকে দুইবার আঁকেন। আদেলে ব্লচ-বাওয়ার ২ নামেও আরেক চিত্রকর্ম আঁকেন এই চিত্রকর। বিম্বযুদ্ধের পর অস্ট্রিয়া মোটেও এই চিত্রকর্মকে সঠিক মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে রাজী হয়নি। অনেক মামলার পর অবশেষে একে নিলামে তোলে এর প্রকৃত মালিক আর অবিশ্বাস্যভাবে ১৩৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে যায় এটি (ওয়ান্ডার লিস্ট)।

৫. থ্রি স্টাডিজ অব লুসিয়ান ফ্রয়েড

আইরিশ চিত্রকার ফ্রান্সিস বেকনের খুব ভালো বন্ধু ছিলেন লুসিয়ান ফ্রয়েড। আরেক চিত্রশিল্পী। নিজেদের চিত্রকর্মের জন্যে প্রায় সময়েই একে অন্যের মডেল হতেন বলে এই দুই বন্ধু। তিনটি প্যানেলে বন্ধুর ওপরে এই ছবিটি সম্পন্ন করেন বেকন। যার ভেতরে নিজেদের সম্পর্ক আর বন্ধুত্বকেই প্রকাশিত করেছেন তিনি বলে মনে করেন সমালোচকেরা। ১৯৬৯ সালে আঁকেন বেক চিত্রটি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এর পরের বছর, ১৯৭০ এর মাঝামাঝি সময়েই ভেঙে যায় তাদের ভেতরকার বন্ধুত্ব। এক এক করে বিক্রি হয়ে যায় ছবিগুলো বিভিন্ন মানুষের কাছে। তবে এতে মোটেও স্বস্তি পাননি বেকন। পরবর্তীতে তিনটি ছবিকেই আবার একত্র করেন তিনি। একত্রে এটি বিক্রিত হয়ে আয় করে ১৪২.৪ মিলিয়ন ডলার (ওয়ান্ডার লিস্ট)।

রঙ-তুলি-ছবি, এসবেরই জন্যে একটা আলাদা জায়গা রয়েছে মানুষের মনে সৃষ্টির সেই শুরু থেকে। আর তাই পার্থিব জগতে টাকার দামে এই ছবিগুলোর মূল্যায়ন করা হলেও আদতে এর ক্রেতাদের কাছে কিংবা শিল্পের সমঝদারদের কাছে এগুলো কোন একটি ছবি নয়, বরং অমূল্য সব রত্ন।






মন্তব্য চালু নেই