মেইন ম্যেনু

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কয়েকটি লাইব্রেরী

বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই লাইব্রেরিতে যায় না। কারণ কাগজের তথ্যের চেয়ে ইন্টারনেটের তথ্য এখন অনেক সহজলভ্য। লাইব্রেরী অনেক সুন্দর একটি স্থান যেখানে শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে মনোযোগ দিয়ে বই পড়া যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কিছু লাইব্রেরীর কথা আজ জেনে নেই আসুন।

১। অ্যাবে লাইব্রেরী
সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গালেন এ অবস্থিত অ্যাবে লাইব্রেরীটি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর লাইব্রেরীগুলোর একটি। এই সুদৃশ্য গ্রন্থাগারটি শুধুমাত্র সুইজারল্যান্ডেরই নয় বরং বিশ্বের ও সবচেয়ে প্রাচীন ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোনাস্টেরি লাইব্রেরী। ১ লক্ষ ৬০ হাজার বই ধারণে সক্ষম এই লাইব্রেরীটিতে অষ্টম শতকের বই আছে।

২। স্ট্রাহোব মঠ লাইব্রেরী
চেক প্রজাতন্ত্রের স্ট্রাহোব মঠ লাইব্রেরীটি বিশ্বের আর একটি সুন্দর লাইব্রেরী। এই চিত্তাকর্ষক লাইব্রেরীটিতে বই এর ২ লক্ষ ভলিউম আছে যাতে ৩ হাজার মূল পান্ডুলিপি আছে। অসাধারণ সিলিং এর জন্য সুপরিচিত এই লাইব্রেরী। সংকলন চাকার মাধ্যমে এর বইয়ের শেলফগুলোকে ঘুরানো যায় যার জন্য বই খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

৩। স্টকহোম পাবলিক লাইব্রেরী
সুইডেনের আর্কিটেক্ট গানার অ্যাসপ্লান্ড এই লাইব্রেরীটির নকশা করেছেন যিনি বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান উডল্যান্ড সিমেট্রির নকশাবিদ এবং স্কেন্ডিয়া সিনেমাটিতে কাজ করে সুপরিচিত। বৃত্তাকার প্রধান কক্ষটিতে নরডিক ভাষার বই রাখা আছে এবং এর সাদা ও নকশা করা ছাদটিকে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যে দেখতে মেঘের মত মনে হয়।

৪। অ্যাডমন্ট অ্যাবে লাইব্রেরী
১৭৭৬ সালে অষ্ট্রিয়াতে তৈরি করা হয় অ্যাডমন্ট অ্যাবে লাইব্রেরীটি। এটি ৭০ মিটার দীর্ঘ, ১৪ মিটার প্রশস্ত ও ১৩ মিটার উঁচু। এই লাইব্রেরীর নকশাটি আদর্শ ও জ্ঞানের আলোক সম্পাত করছে। এই লাইব্রেরীর ধারণক্ষমতা দুই লক্ষ ভলিউম।

৫। ট্রিনিটি কলেজ লাইব্রেরী
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ট্রিনিটি কলেজ লাইব্রেরীটি অবস্থিত। অদ্ভুত সুন্দর এই লাইব্রেরীটির তাক গুলো ওকে গাছের কাঠ থেকে তৈরি। এখানে সব ধরণের বই খুঁজে পাওয়া যায়। এটি আয়ারল্যান্ডের কপিরাইট লাইব্রেরী হিসেবে পরিচিত কারণ এই দেশে যা কিছুই ছাপানো হোক তার একটি কপি এই লাইব্রেরীতে পাঠাতে হয়।

৬। বিব্লিওথেক ন্যাশনাল ডি ফ্রান্স
ফ্রান্সের জাতীয় লাইব্রেরী বিব্লিওথেক ন্যাশনাল ডি ফ্রান্স প্যারিসে অবস্থিত। ১৯৮৮ সালে লাইব্রেরীর পুরোনো ভবনের সাথে নতুন ভবন সংযুক্ত করে লাইব্রেরীটিকে বর্ধিত করা হয়। এখানে ৫০০০ গ্রীক পান্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।

৭। ব্রিস্টল সেন্ট্রাল লাইব্রেরী
ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলের কলেজ গ্রিন এর দক্ষিণ পাশে ব্রিস্টল সেন্ট্রাল লাইব্রেরীটি অবস্থিত। এটি ১৯০৯ সালে তৈরি করা হয়। ব্রিস্টল পাবলিক লাইব্রেরীর প্রধান কালেকশন গুলো এখানে আছে। এটি তৈরি করা হয়েছিলো একটি ঢালের উপরে এবং এর সামনের অংশটি তিন তলা বিল্ডিং এর সমান আর পেছনের অংশটি পাঁচ তলা।

৮। ষ্টেট লাইব্রেরী অফ সাউথ অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেইডে অবস্থিত ষ্টেট লাইব্রেরী অফ সাউথ অস্ট্রেলিয়া। এই লাইব্রেরীটি বাহিরের দিক দিয়ে অতি আধুনিক কাঁচের বাক্সের মত কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হবে হ্যারি পটার ছবির সেটের মত। এই লাইব্রেরীতে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, আদিবাসী লেখকদের কাজ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আছে মানচিত্র। আধুনিকতাবাদীদের জন্য এখানে ফ্লিকার অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা আছে যেখানে তারা তাদের ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক জীবনের ছবি জমা দিতে পারেন।
আরো কিছু বিখ্যাত লাইব্রেরী : যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিস্কোতে স্ক্যাই ওয়াকার রেঞ্চ লাইব্রেরী, জার্মানির ওইবলিনজেন মোনাস্টেরি লাইব্রেরী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার হারস্ট গোথিক স্টাডি লাইব্রেরী, স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর দ্যা মেকিন্টোস লাইব্রেরী।






মন্তব্য চালু নেই