মেইন ম্যেনু

পেটভরে খেতে পায় না বিএসএফ জওয়ানরা!

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে জওয়ানরা দুই বেলা পেটভরে খেতে পান না।

সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে পরপর তিনটি ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে এমন অভিযোগ করেছেন ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে নিযুক্ত ২৯তম ব্যাটেলিয়নের জওয়ান তেজ বাহাদুর যাদব।

সোমবার ভিডিওগুলো আপলোড করার পর দ্রুত ভাইরাইল হয়ে যায়। এ পর্যন্ত ৮০ লাখেরও বেশি বার ভিডিওগুলো দেখা হয়েছে।

এদিকে ভিডিও প্রচারের পর বিএসএফের দুর্নীতি নিয়ে ভারতজুড়ে তীব্র সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় খাবার নিয়ে করা অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ শিং।

অন্যদিকে মঙ্গলবার অভিযোগকারী তেজ বাহাদুরকে জম্মু-কাশ্মীর সীমান্ত থেকে সরিয়ে পুঞ্চ শহরে মোতায়েন করা হয়েছে।

তেজ বাহাদুরের পোস্ট করা প্রথম ভিডিওতে দেখা গেছে, বরফ পড়ছে এমন একটি পাহাড়কে পেছনে রেখে দেশবাসীর উদ্দেশে বিএএসফের দুর্দশার কথা তুলে ধরছেন।

তিনি বলেন, আপনাদের এই ছবি দেখে হয়তো ভাল লাগছে। কিন্তু আমাদের অবস্থা কেউ ভাবে না। কেউ দেখেও না। ঝড়-বৃষ্টি, বরফের মধ্যে আমাদের এক নাগাড়ে ১১ ঘণ্টা টানা দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

বিএসএফ জওয়ানরা কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করলেও এর জন্য শারীরিকভাবে সক্ষম থাকার প্রয়োজনীয় খাবার পান না বলে দাবি করেন তেজ বাহাদুর।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার পাঠানো গম, চাল ও ডালসহ জিনিসপত্র গোডাউনে পৌঁছলেও এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা তা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।

‘বিএসএফ জওয়ানের নাস্তা’ শিরোনামের দ্বিতীয় ভিডিওতে তেজ বাহাদুর তাদের খেতে দেওয়া রুটির মান তুলে ধরেন।

তৃতীয় ভিডিওতে বিএসিএফ শিবিরে কিভাবে হলুদ ও লবণ দিয়ে ডাল তৈরি করা হয় তা দেখান তিনি।

বিএসএফের ভেতরকার দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয় সবার নজরে আনতে ভিডিও প্রচার করছেন বলে জানান তেজ বাহাদুর। এ জন্য চাকরি হারানোর আশংকা করে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের হাত অনেক বড়। তারা আমার সঙ্গে যা খুশি করতে পারেন।’

তারপরেও দৃঢ়তার সঙ্গে এই জওয়ান বিএসএফের দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার। তিনি বলেন, ‘আমি থাকি, আর না থাকি, এই ভিডিও যত দূর সম্ভব গোটা দেশে ছড়িয়ে দিন। যাতে সবাই সবকিছু জানতে পারে।’

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী ভারতীয়রা তেজবাহাদুরের আবেদনে সাড়াও দেন। ফলে দ্রুত ভিডিও তিনটি ভাইরাল হয়ে যায়। ফলে বিএসএফের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

টুইটারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেন, ‘বিএসএফ জওয়ানের পোস্ট করা ভিডিওটি দেখেছি। বাহিনীর কাছে দ্রুত প্রতিবেদন চাইতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি।

স্বরাষ্ট্র সচিব কিরেন রিজ্জু টুইট করে বলেন, বিএসএফ জওয়ানের ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু সীমান্ত চৌকিগুলোতে আমার নিয়মিত পরিদর্শনকালে আমি জওয়ানদের মধ্যে বেশ সন্তুষ্টি দেখেছি।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর তেজবাহাদুরের ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার কথা জানিয়েছে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ।

এক টুইটে বিএসএফ বলেছে, জওয়ানদের সর্বোচ্চ কল্যাণের বিষয়ে বিএসএফ অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি কারও মধ্যে কোনও বিচ্যুতি ঘটে তা তদন্ত করে দেখা হয়।এরইমধ্যে একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বিএসএফের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তেজ বাহাদুর স্বভাবগতভাবে শৃংখলাভঙ্গকারী। ১৯৯৬ সালে বিএসএফে যোগ দেয়ার পর গত ২০ বছরে চারবার শাস্তি হয়েছে তার। একজন সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে চাকরি হারাতে বসেছিলেন।

এই কর্মকর্তার দাবি, কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় মোতায়েন করার বিষয়ে অসন্তুষ্ট হয়েই ভিডিও পোস্ট করেছেন তেজবাহাদুর।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা ও বিবিসি।






মন্তব্য চালু নেই