মেইন ম্যেনু

পেটের ভিতর পাওয়া গেলো ২০ ফুট লম্বা ফিতা কৃমি

ফিতাকৃমি পেটের ভেতরে বেড়ে ওঠে এবং তা দেহে নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিতাকৃমির দৈর্ঘ্য এত বেশি হতে দেখা যায় না। কিন্তু চীনের এক ব্যক্তির পেটে দীর্ঘ ফিতাকৃমি পাওয়া গেছে, যা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে চিকিৎসকদের। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।

সম্প্রতি চীনে এক ব্যক্তির পেটে ২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি পাওয়া গেছে। ৩৮ বছর বয়সী সে ব্যক্তির কয়েকদিনের মধ্যে ২২ পাউন্ড ওজন কমে যায়। আর এ কারণেই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যান। চিকিৎসকরা তার মল পরীক্ষা করে তার পেটে ফিতাকৃমি থাকার প্রমাণ পান।

তার পেট থেকে এ কৃমির বিষয়টি পরবর্তীতে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয় ওজন কমে যাওয়ার পাশাপাশি তার দেহে যেসব লক্ষণ দেখা যায় সেগুলো হলো পেটব্যথা, দুর্বলতা ও বমি। দীর্ঘ দুই বছর ধরে তার এসব শারীরিক সমস্যা ছিল।

চিকিৎসকরা তার পেটে ফিতাকৃমির লক্ষণ পাওয়ার পর তাকে কৃমির ওষুধ খেতে দেন। এছাড়া অন্য এক ডাক্তারের কাছে তার পেটব্যথা ও অন্য সমস্যার জন্য দেখা করতে বলা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর কৃমিটি পেটের ভেতর থেকে বের করা হয়।

মানুষের পেটের ভেতর এত বড় কৃমি কিভাবে এল এ প্রশ্নে চিকিৎসকরা জানান, এ ফিতাকৃমিটির নাম টায়নিয়া স্যাগিনটা। এটি মূলত গরুর পেটে হয়। তার পেটে এটি গরুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে এসেছে বলে তারা ধারণা করছেন।

সে ব্যক্তি জানান, অতীতে তার কাঁচা গরুর মাংস খাওয়ার অভ্যাস ছিল। পরবর্তীতে তিনি এ অভ্যাস ত্যাগ করেন। কিন্তু সম্ভবত সে সময়েই তিনি কৃমিতে আক্রান্ত হন।

ফিতাকৃমিটি অপসারণের পর সে ব্যক্তি দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তার এ কৃমিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে চিকিৎসক লি বলেন, ‘এটা শারীরিকভাবে, আবেগগতভাবে ও আর্থিকভাবে তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল।’

চীনে গত তিন দশকের মাঝে এটিই ফিতাকৃমির সবচেয়ে জটিল রোগের ঘটনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে কাঁচা মাংস খাওয়া বর্জন করার পাশাপাশি কাচা মাংস সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি মাংস কাটার ছুরি, রাখার পাত্র ও সংস্পর্শে থাকা অন্য জিনিসগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই