মেইন ম্যেনু

পেশীর ব্যথা দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে

আমাদের শরীরের একটি জটিল তন্ত্র হচ্ছে পেশী। শরীরের যেকোন অংশের পেশীতেই ব্যথা হয়। এটি খুব সাধারণ একটি অভিযোগ। অনেক বেশি শ্রমসাধ্য কাজ করার ফলেই পেশীর ব্যথা হয়। সাধারণত কাজের ১২-৪৮ ঘন্টা পরে এই ধরণের ব্যথা হয়। কিছু ক্ষেত্রে পেশীর ব্যথা কম কষ্টের হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে যার ফলে দৈনন্দিন কাজ করাটাও কঠিন হয়ে পরে।
যদি আপনি পেশীর ব্যথায় ভুগে থাকেন তাহলে আপনার যে কাজটি সর্বপ্রথম করা উচিৎ তা হচ্ছে পর্যাপ্ত পানি পান করে হাইড্রেটেড থাকা। যদি আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকে তাহলে আপনার পেশীগুলো আঁটসাঁট ও নরম হয়ে যায় ফলে খুব সহজেই আঘাত প্রাপ্ত হয়। এছাড়াও কিছু ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে পেশীর ব্যথা কমানো যায়। সেই ঘরোয়া প্রতিকার গুলো সম্পর্কে জেনে নিই আসুন।

১। ঠান্ডা প্যাক
আক্রান্ত পেশীতে ঠান্ডা প্যাক লাগালে ব্যথা ও প্রদাহ কমতে সাহায্য করে। এর ফলে আক্রান্ত স্থানে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্ত প্রবাহ কমায়। একটি পাতলা তোয়ালের মধ্যে বরফের টুকরা নিয়ে পেঁচিয়ে নিন। আক্রান্ত স্থানে এটি রাখুন ১৫ মিনিট পর্যন্ত। পেশীর ব্যথার ২৪-৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রতিঘন্টায় এর পুনরাবৃত্তি করুন। যদি আইস কিউব না থাকে তাহলে ফ্রিজের ঠান্ডা সবজির ব্যাগ দিয়েও কাজ চালাতে পারেন।

২। গরম জলে সিক্ত করা
পেশীর ব্যথা হওয়ার ২৪ ঘন্টা পরে আক্রান্ত স্থানটি গরম জলে সিক্ত করতে পারলে খুব দ্রুত ব্যথা কমে। এটি রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে ও নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। বাথ টাবে অথবা বড় বোলে সহনীয় মাত্রার গরম পানি দিয়ে পূর্ণ করে নিন এবং এককাপ ইপসম লবণ মিশিয়ে নিন। ইপসম লবণের ম্যাগনেসিয়াম পেশীকে শিথিল হতে সাহায্য করে। শরীরের যে অংশের পেশীতে ব্যথা সেই অংশটি এই পানিতে চুবিয়ে রাখুন ২০ মিনিট যাবত। ১/২ দিন এই প্রক্রিয়াটি দিনে কয়েকবার করে করুন শক্ত ও ব্যথাযুক্ত পেশীকে শিথিল করার জন্য।
সতর্কতা : তবে প্রথম ২৪ ঘন্টায় এই পদ্ধতি প্রয়োগ করবেননা।

৩। চেরি
কটু বা টক চেরি ফল ব্যয়ামের ফলে সৃষ্ট পেশীর ব্যথা দূর করতে পারে। ২০১০ সালের দ্যা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জার্নাল অফ মেডিসিন এন্ড সাইন্স ইন স্পোর্টস এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, কটু বা টক চেরিতে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লামেটরি যৌগ থাকে যা প্রদাহ কমাতে পারে, সেই সাথে পেশীর ব্যথাও কমতে সাহায্য করে। পরিশ্রমের পরে এক কাপ বা আধা কাপ চেরি ফল খেলে পেশীর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়াও এক কাপ চেরির জুসও খেতে পারেন পেশীর প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর জন্য।

৪। আপেল সাইডার ভিনেগার
আপনার পেশীর ব্যথা কমানোর আরেকটি চমৎকার উপায় হল আপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার। আপেল সাইডার ভিনেগারে প্রদাহরোধী ও সেই সাথে ক্ষারীয় উপাদানও আছে যা ব্যথা ও প্রদাহ কমতে সাহায্য করে। গোসলের জন্য সহনীয় মাত্রার গরম পানিতে দুই কাপ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। তারপর এই পানিতে ১৫-২০ মিনিট শরীর ডুবিয়ে রাখুন। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এই কাজটি করুন। অথবা এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে এক চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার ও সামান্য মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন এক সপ্তাহ যাবত।

পেশীর প্রবণতা হচ্ছে সে যা করতে থাকে তাই করতে চায় যদিনা তাকে বল প্রয়োগ করা হয়। এজন্যই এক নাগাড়ে অনেকক্ষণ বসে থাকলে মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায়। তাই হালকা ব্যয়াম করুন যেমন- হাঁটা, দৌড়ানো, বাগান করা ইত্যাদি। সব সময় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন।






মন্তব্য চালু নেই