মেইন ম্যেনু

পেয়েছেন পেনশনের টাকা, ভরাট করেন রাস্তার খানাখন্দ (ভিডিও সহ)

চেনার মতো ব্যক্তি তিনি নন কিন্তু হায়দরাবাদের রাস্তায় যারা বেরোন, তাদের কাছে চেনামুখ বছর ৬৭-এর বৃদ্ধ গঙ্গাধরা তিলক কাতনাম। চাকরিজীবন থেকে অবসর নিয়ে আর পাঁচজনের মতো পরিবার ও স্বজন-বন্ধু নিয়ে হইচই করে সময় কাটাতেই পারতেন। কিন্তু না, গঙ্গাধরা অন্য ধারার মানুষ। রেলের চাকরি থেকে অবসর নিলেও কাজ যে তার এখনো ফুরোয়নি।

রাস্তার যেখানে গর্ত, সেখানেই নিজের গাড়ি নিয়ে হাজির হন তিনি। খন্দপথে পিচখোয়ার প্রলেপ না দেয়া পর্যন্ত স্বস্তি পান না তিনি। গাড়িতেই মজুত থাকে সব। এটাই তার নেশা। কে করবে কাজ সে অপেক্ষায় না থেকে নিজেই চটপট রাস্তার ক্ষতে প্রলেপ দেন। তার স্বতঃপ্রণোদিত দায়িত্ব তাকে করে তুলেছে Man On a Mission।

গঙ্গাধরা তিলক কাতনামকে যারা দেখেছেন, তারা এও দেখেছেন গাড়ির পেছনেই রাখা থাকে খোয়ায়-মাখা পিচবস্তা। আট থেকে দশ বস্তা। সারাদিন হায়দরাবাদের রাস্তায় খুঁজে বেড়ান খানাখন্দ, যেভাবে খ্যাপা পরশপাথর খোঁজে, সেভাবেই।

রাস্তায় গর্ত চোখে পড়লেই গাড়ি থামিয়ে দেন তিনি। কারো অপেক্ষায় থাকেন না। বেলচা হাতে নিজেই সেই গর্তে পিচমাখা খোয়া ফেলে তাপ্পি দেন। আবার এগিয়ে চলেন সামনের পথ ধরে। এভাবেই হায়দরাবাদের রাস্তাকে সুরক্ষিত করে চলেছেন একাহাতে।

কেন তার এই মিশন? গঙ্গাধরার কথায়, সেদিন আমিই গাড়ি চালাচ্ছিলাম। চাকা গিয়ে পড়ে গর্তে। জল থাকায় বুঝতে পারিনি। অদূরেই কতগুলো বাচ্চা দাঁড়িয়েছিল। নোংরা জল ছিটকে লাগে তাদের গায়ে।

লজ্জিত হয়ে পড়েন গঙ্গাধরা। সেদিনই প্রথমবার পকেট থেকে পাঁচ হাজার টাকা বের করে রাস্তার সেই গর্তটি ভরাট করেন। এরপর আর থেমে থাকেননি। এর মধ্যেই ১.১২৫টি খন্দ তিনি ভরাট করেছেন একাই। পেনশনের যে টাকা পান তা দিয়েই ধরে রেখেছেন নিজের মিশন।

তবে সেদিনের ‘অপ্রস্তুত’ হয়ে পড়াই একমাত্র কারণ ছিল না। রেলের অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মী কয়েকটি করুণ দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও। দেখেছেন, রাস্তার গর্ত কীভাবে মৃত্যুফাঁদ বিছিয়ে রাখে।

go goo

খন্দপথে বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক যুবক তো দুটে পা-ই হারিয়ে ফেলেছেন। অটো পড়েছে বাসের নিচে। এরপরই নিজের কাজ নিয়ে আরো সিরিয়াস হয়ে পড়েন। কাউকে পাশে পাননি। কেউ বাধাও দেননি। তো কী! তিনি চলেছেন একলা পথে। ‌

সূত্র : এই সময়






মন্তব্য চালু নেই