মেইন ম্যেনু

পোকামাকড়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার উদ্ভট কিছু প্রচেষ্টা

যখন যুদ্ধের কথা আসে তখন অদ্ভুত কিছু ধারণা নিয়ে পরীক্ষা করতে পিছপা হয়না মানুষ। যুদ্ধের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অস্ত্র হিসেবে পোকামাকড় ব্যবহার করারও চেষ্টা করা হয়ে থাকে। প্রাচীন রোমান যুগে প্রথম এই প্রকার চেষ্টা করা হয়েছিলো। সিজারের সৈন্যবাহিনী শত্রু সৈন্যদলের উপর মৌচাক ছুড়ে দিয়েছিলো। বৈজ্ঞানিকভাবে একে এন্টোমলজিক্যাল “যুদ্ধবিগ্রহ” বলে। পোকামাকড়ের পাশাপাশি মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে দেয়ারও মত পদক্ষেপ ও নেয়া হত যেমন- কলেরা বা প্লেগ ভাইরাস অথবা শস্য খাওয়ার পোকা ছেড়ে দেয়া হত শত্রুবাহিনীর খাদ্য নষ্ট করার জন্য। এই রকম আরো কিছু উদ্ভট প্রচেষ্টার কথাই আজ আমরা জেনে নেই আসুন।

১। দ্যা জাপানিজ ইউনিট ৭৩১
যখনই এক্সপেরিমেন্টের কথা আসে তখন দ্যা জাপানিজ ইউনিট ৭৩১ এর উল্লেখ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের অপরাধের কথা যখন চিন্তা করা হয় তখন নাৎসি বাহিনীর ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণে আসে। কিন্তু জাপানের ভয়ানক নৃশংসতার কথা অনেক কম মানুষই জানে যেমন- জীবন্ত মানুষের ব্যবচ্ছেদ, শিশুদের উপর এক্সপেরিমেন্ট, কৃত্রিম প্রজনন ও গণহত্যা। জাপানের সেনাবাহিনী চীনের মূল ভূখণ্ড আক্রমণ করে এবং মাঞ্চুরিয়ার পিংফেন এ একটি গোপন ইউনিট স্থাপন করে যা দ্যা জাপানিজ ইউনিট ৭৩১ নামে পরিচিত। এটি নাৎসি বাহিনীর এসএস বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ারের মতোই একটি বিভাগ। ৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিলো এই দ্যা জাপানিজ ইউনিট ৭৩১। যা চারপাশে ছিলো উঁচু দেয়াল, বৈদ্যুতিক কাঁটাতারের বেড়া ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের পাহারা ছিলো। সেখানে জাপানী গবেষকরা মানুষের দেহে কলেরা, টাইফয়েড, প্লেগ এবং অন্য ভয়ানক অসুখের সংক্রমণ ঘটিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতো। তাদের সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম ছিলো মাছি। জাপানের জীববিজ্ঞানীরা পরিমাপ করে দেখেছেন যে, একটি মাছি তার এক কামড়েই ২০০০০-২৪০০০ প্লেগ ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। তারা রাশিয়ান, আমেরিকান ও ব্রিটিশ যুদ্ধ বন্দীদের মেরেছিলো। হাজার হাজার মহিলা ও শিশুকে হত্যা করেছিলো জাপানীরা। পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে মেরে ফেলার মত প্লেগ ও কলেরার ভাইরাস উৎপাদন করার মত ক্ষমতা ছিলো তাদের। দিনে ৩০০ কেজি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস উৎপাদন করতে পারতো এই ইউনিট। জাপানীরা বেলুনের ভেতরে প্লেগ আক্রান্ত মাছি ভরে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলো। এই ইউনিটের যে বিজ্ঞানিরা পরবর্তীতে ধরা পড়েছিলো তাদের মাধ্যমে জানা যায় যে ৩০০০ এর বেশি মানুষকে তারা মেরেছিলো। এই ইউনিটে হাজার হাজার সংক্রমিত মশা, মাছি ও ইঁদুর ছিলো। মিত্রবাহিনী এলাকাটি দখল করার আগেই জাপানীরা এই ইউনিটের সকল প্রমাণ ও গবেষণাপত্র ধ্বংস করে ফেলে। যে সমস্ত মশা, মাছি ও ইঁদুর পালিয়ে যায় তাদের দ্বারা আনুমানিক ৩ লক্ষ মানুষ বিশেষ করে চীনারা মারা যায় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে।

২। অপারেশন বিগ বাজ
মার্কিন সরকারের একটি পাগলাটে এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে অপারেশন বিগ বাজ। এই এক্সপেরিমেন্টের লক্ষবস্তু ছিলো জর্জিয়ার বাসিন্দারা এবং বাহক ছিলো ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ইয়েলো ফিভার এর মশা। ১৯৫৫ সালের মে মাসে জর্জিয়াতে অসংক্রমিত ইয়েলো ফিভারের মশা ছেড়ে দেয়া হয়। আমেরিকার সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা ছিলো এন্টোমলজিক্যাল যুদ্ধবিগ্রহে কাজে লাগানোর জন্য প্রতিমাসে ১০০ মিলিয়ন ইয়েলো ফিভারে আক্রান্ত মশা উৎপাদন করা। মানব ইতিহাসে অপারেশন বিগ বাজ সবচেয়ে উদ্ভট প্রচেষ্টা ছিলো।

৩। অপারেশন ড্রপ কিক
১৯৫৬ সালের এপ্রিল ও নভেম্বরে অপারেশন ড্রপ কিক পরিচালনা করে মার্কিন সরকার অপারেশন বিগ বাজ এর ধারাবাহিকতায়। আমেরিকান সেনাবাহিনী এই পরীক্ষাটি করে ইয়েলো ফিভার মশার বিস্তারের ধরণ, কামড়ের তীব্রতা এবং প্রতিটা মৃত্যুতে কি পরিমাণ খরচ হয় তা নির্ধারণ করার জন্য। দুইটি ধাপে এই পরীক্ষাটি করা হয়। প্রথম ধাপে জর্জিয়ার সাভানা নামক আবাসিক এলাকায় মশা ছাড়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে অ্যাভন বিমান ঘাটিতে ৬ লক্ষ ইয়েলো ফিভার এর মশা ছাড়া হয়। সেই এলাকায় ইয়েলো ফিভার ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাত জন মারা যায়।

৪। কাঁকড়াবিছার বোমা
হাত্রা দুর্গ রক্ষার জন্য কাঁকড়াবিছার বোমা ব্যবহার করা হয়েছিলো। মেসোপটেমিয়া জয় করার সময় রোমান সম্রাট সেপ্টিমাস সেভেরাস স্করপিওন এর ভয়ে দৌড়ে পালিয়েছিলেন। এই দুর্গটির গঠন ছিলো দুর্বোধ্য। এর ৪০ ফুট দীর্ঘ দেয়াল ও ৫ মাইল দীর্ঘ আত্মরক্ষামূলক ঘের ছিলো। রোমানদের ব্যপক সৈন্য বাহিনী দুর্গটি ঘিরে ফেলেছিলো। তখন রাজা বারসামাইয়া দুর্গটি রক্ষা করেছিলেন কাঁকড়াবিছার বোমা দিয়ে। মাটির পাত্রে কাঁকড়া বিছা ভরে রোমানদের মাথার উপর ফেলা হয়। মরুভূমির স্করপিওন হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী। এই বিছার হুলে মারাত্মক অবস্থা হতে পারে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত।
এছাড়াও স্নিফার মৌমাছি ল্যান্ডমাইন ও অবৈধ ড্রাগ খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহার করা হয়, ডারপাস সাইবার বাগ প্রজেক্ট, অপারেশন বিগ ইচ উল্লেখযোগ্য।






মন্তব্য চালু নেই