মেইন ম্যেনু

‘পোধানমন্ত্রীর বাড়িত যাইতাছি’

বিউটি, লাভলী আর রিয়াদ তিন ভাই-বোন। বিউটি বড়, বয়স ১৮ ছুঁই-ছুঁই। বাবা বেঁচে নেই তাদের। সবচেয়ে ছোট ১ বছরের ভাই রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছে ভিক্ষা করতে।

শনিবার সকালে তাদের সঙ্গে কথা হয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাড়ি গণভবনের সামনে। ঈদ কীভাবে কাটাচ্ছে জানতে চাইলে বিউটিই বলেন, পোধানমন্ত্রীর বাড়িত যাইতাছি, সেমাই খাইতে।

বিউটিদের বাড়ি শরীয়তপুর। নদী ভাঙনের কারণে তাদের বাবা ঢাকায় পাড়ি জমান। তাদের বাবা মহরম আলী ঢাকায় এসে রিকশা চালাতেন। আর মা করতেন মেস বাড়িতে রান্নার।

আট বছরের লাভলী এবং কোলে থাকা রিয়াদ কখনও যায়নি গ্রামে। ২০১২ সালে বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর তাদের মাও অসুস্থ হয়ে যান। পেট চালাতে তাই তিন ভাই-বোন বেছে নেয় ভিক্ষাবৃত্তি।

ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়েই ভিক্ষা করে বিউটি ও লাভলী। মাঝে মাঝে বিউটি ট্রাফিক সিগনালে ফুলও বিক্রি করে। ফুল বিক্রির সময় অন্য দুজন করে ভিক্ষা।

ঈদের কথা জিজ্ঞেস করতেই চোখের কোনে দুঃখ ফুটে ওঠে বিউটির।

আব্বা যহন আছিল তখন ঈদে বাড়িত থাকতাম। বিকালে আব্বা সংসদ ভবনে নিয়া যাইত। শিশু পার্কেও গেছি একবার, বলেন পঞ্চম শ্রেণির পর স্কুলের পাট চুকিয়ে ফেলা বিউটি।

এত সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে কেন যাচ্ছ- জানতে চাইলে এই তরুণী হেসে বলে, আমাগো মতো সবাই যায়। তাই যাই। বড় মাইনসের বাড়ি, বড় খাওন। ভাইডারেও নিয়া যাই। মার অসুখ। বাড়িতেই থাকে। ভাই আর বোনডারে সেমাই খাওয়াইতে যাইতাছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের দিন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যেখানে আপ্যায়নের ব্যবস্থাও ছিল।

গণভবনের সামনেই কথা হয় হাবীব শেখের সঙ্গে। এক সময় ঢাকায় বাস চালাতেন। এখন চাঁদপুরের হাইমচরে বাড়িতে থাকেন। এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে।

কী করেন জানতে চাইলে হাবীব বলেন, “টুক-টাক কাজ করি। সকালে লঞ্চ থেকে নামছি। এখন সংসদ ভবনে ঈদের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়াব।”

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটু হজে যাইতে চাই। উনি তো (শেখ হাসিনা) অনেকের জন্য অনেক কিছু করেন। তাই একবার কইতে চাই। একবার হজে গেছি, আরেকবার যাইতে চাই। কিন্তু সাধ্য নাই। দেখি নেত্রীরে বইলা।

ঈদের দিন পরিবার ছেড়ে কেন জানতে চাইলে হাবীব বলেন, “যদি হজে যাইতে পারি তাইলে সওয়াব বেশি পাব।”

রিকশাচালক নজরুল ইসলাম। বাড়ি ভোলার চর ফ্যাশনে। গত ১৫ বছর ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় রিকশা চালান।

ঈদের এই সময়ে বাড়ি যাবেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কাল (রোববার) যাব। থাকব কয়দিন।”

ঈদের পরে বাড়িতে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে নজরুল বলেন, “রোজার মাসে আর ঈদের দিন ভাড়া মারলে টাকা বেশি ওঠে। ছেলে-মেয়ে দুইটারে পড়াই। টাকার দরকারও বেশি। একটু বেশি টাকা নিয়ে যাই।”

গত ১৫ বছরই এভাবে ঈদ করছেন বলেও জানালেন তিনি।

ঈদের দিন আয় কত হয় জানতে চাইলে প্রথমে বলতে দ্বিধা করলেও পরে বলেন, “কোনও কোনও ঈদে ১৫০০ টাকা পাই। কোনও কোনও ঈদে ৮-৯শ। শইল (শরীর) যেমন থাকে আরকি।”

মহাখালী রেল গেইট এলাকায় কথা হয় লেগুনার হেলপার কিশোর জামিলের সঙ্গে। বাড়ি গাজীপুর।

ঈদ কিভাবে কাটে- জানতে চাইলে একটু বিরক্ত হয়ে উত্তর দেয়, “দ্যাখতাছেন তো।”

ঈদে বাড়ি যায় না কেন জানতে চাইলে আবারও বিরক্তি নিয়েই উত্তর- “যামু তো। রাইতে। টেকা নিয়া হের পর।”

এভাবে ঈদ আসে রাজধানীতে নিরানন্দে থাকা মানুষগুলোর জন্য। বিডিনিউজ






মন্তব্য চালু নেই