মেইন ম্যেনু

প্রতিদিন ব্রেকিং নিউজ খুঁজি আজ নিজেই ব্রেকিং নিউজ হয়ে গেলাম!

বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারী সাংবাদিককে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে ভারতের আসামের বৈদ্যুতিক সংবাদ মাধ্যম ‘আসাম টকস’ এর প্রধান সম্পাদক অতনু ভুইয়া ও নিউজ লাইভ-এর দিল্লির সংবাদ দাতা লুইত নীল ডনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ।

শিখা (ছদ্মনাম) নামের ওই নারী সাংবাদিক ভারতীয় দন্ড বিধির ৩৭৬/৩৫৪/৫০৯/৩৪ ধারায় দিল্লির রাজৌরি গার্ডেন থানায় মামলা দায়ের পর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত ৯ জানুয়ারি দায়ের করা মামলার এজহার সূত্রের জানাগেছে, আসামের দেবগাঁওয়ের বাসিন্দা লুইত ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিখাকে গুয়াহাটির হাতিগাঁওয়ের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিবাহিত সংবাদিকটি নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিখার সঙ্গে শারিরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এরপর ২০১৪-র জুলাইয়ে লুইত আসামের অপর একটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে শিখার চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।

এরপর কোনও অজ্ঞাত কারণে ২০১৫-তে নারী সাংবাদিকটি ওই চাকরি ত্যাগ করে আসামের গোলাঘাটে নিজের বাড়িতে চলে যান। এরপর একই বছরের জুলাই মাসে লুইত দিল্লি থেকে ফোন করে ‘আসাম টকস’ এর মুখ্য সম্পাদক অতনু ভূইয়ার সঙ্গে দেকা করতে বলেন শিখাকে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল, অতনু ভুইয়া এর আগে নিউজ লাইভ এর মুখ্য সম্পাদক ছিলেন। সে সময় থেকেই দিল্লিতে সংবাদ দাতা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন লুইত। ২০১২ সালের জুলাই মাসে গুয়াহাটির জিএস রোডে শ্লীলতাহানির খবর প্রকাশের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় উঠে আসাম রাজ্যজুড়ে। বাধ্য হয়েই অতনুকে নিউজ লাইভ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। বলতে গেলে সেসময় থেকে লুইত ও অতনুর মধ্যে ব্যাপক সখ্যতা তৈরি হয়। সেই সুবাধেই লুইতের কতা মতো অতনুর সঙ্গে দেখা করেন শিখা।

মামলার সূত্র অনুযায়ী, প্রথম সাক্ষাতেই অতনু ভুইয়া তাকে কু-ইঙ্গিত দেন। একটি চাকরির তারনায় শিখা সবরকমের মানসিক অত্যাহার সহ্য করতে থাকেন। গত ডিসেম্বরে শিখাকে তার সঙ্গে কাশ্মীরের শ্রীনগর বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে সম্মতি না দিয়ে বিষয়টি ‘আসাম টকস’এর মালিক বর্তমান আসামের মন্ত্রী রকিবুল হোসেনের কাছে অভিযোগ করেন শিখা। এই ঘটনার পরই ৫ ডিসেম্বর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন ভুইয়া। এই ঘটনার পরই শিখা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন।

জানাগেছে, জামিনঅযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে লুইত নীল ডনের আইনজীবী মুকেশ কালিয়া স্থানীয় ক্রিস হাজারি আদালতে অগ্রিম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু আদালতের অতিরিক্ত সেশন জজ সঞ্জয় জিন্দার তা খারিজ করে দেন।

এদিন শিখার পক্ষে সরকারি আইনজীবী ছিলেন ঘনশ্যাম শ্রীবাস্তব এবং দিল্লি মহিলা কমিশনের আইনজীবী শ্রব্র মেন্ডি রোখতা। তবে দিল্লি পুলিশ লুইত নীল ডনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও অতনু ভুইয়ার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

দিল্লির পুলিশ ছাড়াও শিখা তার বিরুদ্ধে হওয়া অপরাদের বিচার চেয়ে দিল্লি মহিলা কমিশন, প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া, জাতীয় মহিলা কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগকারী সাংবাদিক শিখা জানিয়েছেন, ‘ এ লড়াই আমার একার নয়, বিশ্বে কর্মরত সব মহিলা সাংবাদিকদের জন্য, যারা প্রতিনিয়ত তাদের সিনিয়রদের হাতে নির্যাতিত হন। আর মুখ বুজে সহ্য করে যান। তার বক্তব্য, প্রতিদিন ব্রেকিং নিউজ খুঁজে বেরিয়ে আজ নিজেই ব্রেকিং নিউজ হয়ে গেলাম।






মন্তব্য চালু নেই