মেইন ম্যেনু

প্রতি মাসে স্বল্প প্রশিক্ষিত ৫০ হাজার কর্মী চায় মালয়েশিয়া

বিজনেস টু বিজনেস (বি টু বি) বা বেসরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। স্বল্প প্রশিক্ষণে প্রতি মাসে ৫০ হাজার কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ সক্ষম কিনা তা জানতে চেয়েছে ঢাকা সফররত মালয়েশিয়ার কারিগরি প্রতিনিধি দল। জবাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি ডাটাবেজে ১৪ লাখ কর্মীর তালিকা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের ৭১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এ সব কেন্দ্র থেকে ১৫ দিনে ৩০ হাজার কর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো সম্ভব।

জনশক্তি রফতানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জনশক্তি রফতানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কনফারেন্স রুমে সোমবার দুপুরে ঢাকায় সফররত মালয়েশিয়ার কারিগরি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএমইটির কারিগরি প্রতিনিধি দলের দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বিএমইটির মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার ও মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) মুস্তফা বিন ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন।

সদ্য বিদায়ী প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গত জুন মাসের শুরুতে মালয়েশিয়া সফরে যায়। ওই সফরে মালয়েশিয়ার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী) আহমেদ জাহিদ হামিদীর সঙ্গে বৈঠক করে। এরপর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, সরকারিভাবে (জি টু জি) মালয়েশিয়ায় কর্মী নেওয়ার পাশাপাশি দেশটি বেসরকারিভাবে (বিজনেস টু বিজনেস/বি টু বি) বছরে ৫ লাখ কর্মী নেবে। আগামী তিন বছরে তারা বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নিতে এমওইউ (সমঝোতা) সই করবে। এর আগে মালয়েশিয়ার কারিগরি একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে। এরই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) মুস্তফা বিন ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল রবিবার দুপুরে ঢাকা সফরে এসেছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার এই তথ্য জানিয়েছেন।

সফররত মালয়েশিয়ার কারিগরি প্রতিনিধি দল রবিবার সকাল সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ বৈঠক করে। বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানোর কারিগরি নানা প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। বিএমইটির সঙ্গে বৈঠক শেষে সফররত মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলটি রাজধানীর দারুস সালামে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ পরিদর্শনে যান।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ড. সাখাওয়াত আলী বলেন, মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল আমাদের প্রশিক্ষণের ধরন ও পাঠদান পদ্ধতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছে। দেশের ৭১টি প্রশিক্ষণ সেন্টারে মালয়েশিয়ান ভাষা শিক্ষার প্রশিক্ষক আছেন কিনা তা জানতে চায়। আমাদের মালয়েশিয়া ভাষা শিক্ষার কারিকুলাম তারা নিয়েছেন। রড বাইন্ডিং, টাইলস ফিটিংস, রাজমিস্ত্রি ও ইট বিছানোসহ নির্মাণ খাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কিনা তাও জানতে চেয়েছে।

সাখাওয়াত আলী বলেন, তাদের প্রশ্নের জবাবে বলেছি, নির্মাণ খাতে প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর আছে। সামগ্রিকভাবে তারা আমাদের (প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিএমইটির মহাপরিচালক (ডিজি) বেগম শামসুন নাহার বলেন, প্রতিনিধি দল বলেছে যে, তারা যদি এক সাথে ৫০ হাজার লোক চায় তাহলে আমরা এ পরিমাণ লোক প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠাতে পারব কিনা। আমি বলেছি, আমাদের ৭১টি ট্রেনিং সেন্টার আছে। প্রতিটি সেন্টার থেকে আড়াই শ’ জন করে ১০ দিনের ট্রেনিং দিলে ১৫ হাজার দিতে পারব। প্রয়োজনে বিকেলে আরেকটা শিফট করব। তাতে আরও ১৫ হাজার হবে। সবমিলিয়ে ১৫ দিনেই ৩০ হাজার কর্মী দিতে পারব। তারা যদি বছরে ৫ লাখও নেয় তাহলে ডিমান্ড পূরণ করতে পারব। আমাদের সবকিছু দেখে এবং শুনে তারা হ্যাপি। বায়োমেট্রিক, ফিঙ্গার প্রিন্ট, ছবি জি টু জির মাধ্যমে আমরা যে দেই তাতেই তারা সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, জি টু জিতে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে ৩২ হাজার টাকা লাগছে। বি টু বি-তে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকার উপরে যাতে না লাগে সেটা নিশ্চিত করা হবে। এই অতিরিক্ত টাকা ওরা (রিক্রুটিং এজেন্সি) যাতে এদিক-ওদিক (বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া) খরচ করতে পারে, কিন্তু এর বেশি না।

এজেন্সিগুলো যদি এর বেশি নেয় তাহলে কী হবে— জানতে চাইলে বিএমইটির ডিজি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটা আমরা উভয় দেশের পক্ষ থেকে মনিটরিং করব।

২০০৯ সালের পর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার লোক নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর শুধুমাত্র প্লান্টেশন বা গাছ রোপণের কাজে সরকারিভাবে (জি টু জি) কর্মী নিতে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আলোকে ২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাচ্ছে। গত দুই বছরেরও বেশি সময়ে এ পদ্ধতিতে মাত্র ৮ হাজারের মতো কর্মী যায় মালয়েশিয়াতে।

জি টু জি ফ্লপ করায় বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ ও দাবি তোলা হয় জি টু জি চুক্তি বাতিল করে মালয়েশিয়ায় প্লানটেশনসহ অন্যান্য খাতেও লোক পাঠানোর জন্য। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বৈধপথে সুযোগ না পেয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ সাগরপথে জীবনবাজি রেখে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। সম্প্রতি মানবপাচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সুবাদে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ও উদ্বেগ তৈরী হয়।

বঙ্গোপসাগরে জাহাজে ভাসমান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূল থেকে হাজার হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় অসংখ্য গণকবরও আবিষ্কৃত হয়। মানবপাচারের শিকারদের অধিকাংশই বাংলাদেশের নাগরিক।

মানবপাচার ইস্যুটি নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তালমাতাল অবস্থা, তখনই মালয়েশিয়া সফরে যান বিদায়ী প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চপদস্থদের সঙ্গে বৈঠক করার পরই সুখবরটি আসে বাংলাদেশের জন্য।

সফররত মালয়েশিয়া প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসিসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বায়রা নেতাদের সঙ্গেও মালয়েশিয়ার কারিগরি প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সফররত মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল বুধবার দেশে ফিরে যাবে। কারিগরি ওই প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদন অনুযায়ীই এরপর উভয় দেশের মধ্যে বিজনেস টু বিজনেস (বি টু বি) সমঝোতা (এমওইউ) সই হবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়া সফর করবে এবং ওই সফরের সময়ই সমঝোতা সই হতে পারে বলে জানা গেছে।

মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব খোন্দকার ইফতেখার হায়দার বলেন, বিপুলসংখ্যক কর্মী কোন পদ্ধতিতে যাবে, বাছাই প্রক্রিয়া কেমন হবে, সামগ্রিক বিষয়গুলো ঠিক করতেই প্রতিনিধি দল এসেছে।

এর আগে বিদায়ী প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, বি টু বি পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় যেসব কর্মী যাবে তাদের বেতন হবে ৯ শ’ রিঙ্গিত। জি টু জির মতোই স্বল্প খরচে তারা মালয়েশিয়া যেতে পারবেন।দ্য রিপোর্ট



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই