মেইন ম্যেনু

প্রত্যুষার মৃত্যুর আগে কি ঘটেছিল? বললেন রাহুল

আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবনের ইতি টানা ভারতীয় অভিনেত্রী প্রত্যুষা ব্যানার্জীর মৃতদেহ উদ্ধারের পর আঙুল উঠেছে প্রেমিক রাহুল রাজ সিং-এর দিকেই। পুলিশও বলছে, প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরেই আত্মহননের পথ বেছে নেন প্রত্যুষা। তবে রাহুলের দাবি, মনোমালিন্য থাকলেও প্রেমিকাকে ভালবাসতেন তিনি; এমনকি বিয়ের কথাও ভাবছিলেন তারা।

প্রত্যুষার মৃতদেহ উদ্ধারের পরদিনই রাহুল রাজ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাঙ্গুর নগর পুলিশ। রাহুলের সঙ্গে তার এক মেয়ে বন্ধুর ঘনিষ্ঠতা না মানতে পারাটাই আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে প্রত্যুষাকে- এমনটাই ধারণা তাদের। জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিলেও, রাহুলকে নজরদারিতেই রাখছেন তারা।

“আমরা রাহুলকে আবারও ডাকবো, তার জবানবন্দী নেওয়ার জন্য। তাকে এখনও খালাস দেওয়া হয়নি।”

এদিকে, প্রত্যুষাকে সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসতেন বলে দাবি করেছেন রাহুল। বেশ কিছুদিন ধরে একই ছাদের নিচে বসবাস করা রাহুল ভারতীয় দৈনিক মিড-ডের কাছে খুলে বলেন আত্মহত্যার আগে কি ঘটেছিল।

“বৃহস্পতিবার রাতে প্রত্যুষা এবং আমি গোরেগাওয়ের ফ্ল্যাটে ছিলাম এবং আমাদের এক মেয়ে বন্ধু আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। সে রাতে আমরা হালকা মদ্যপান করি। পরদিন সকালে আমাদের বন্ধুটি বান্দ্রার মাউন্ট মেরি গির্জায় ঘুরতে যেতে চায়। আমি তার সঙ্গে গিয়েছিলাম কিন্তু প্রত্যুষা থেকে গিয়েছিল। আমি ভোর চারটায় ফিরে আসি এবং আমাদের ঘরে প্রত্যুষার সঙ্গেই ঘুমাতে যাই।”

“পরদিন সকালে আমরা যখন ঘুম থেকে উঠি, আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। প্রতুষ্যা মদ্যপান করতে শুরু করে এবং আমি তাকে এত সকালে এটা করতে মানা করি। সে আমার কথা শোনেনি। এর কিছু পরে আমিও তার সঙ্গে যোগ দিই।”

“দুপুর একটায় আমি কিছু কাজের জন্য বাইরে যাই। এক ঘণ্টা পর আমি প্রত্যুষাকে কল করি, কিন্তু ওর ফোন বন্ধ পাচ্ছিলাম। অনেকবারের চেষ্টার পর ও ফোন ধরে; জানতে চাই দুপুরের খাবার সঙ্গে করে নিয়ে আসবো কিনা। ও নিষেধ করে দেয়।”

“যখন আমি বাসায় ফিরি, দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। আমার প্রতিবেশীর কাজের লোককে বলি বারান্দা দিয়ে বাসায় ঢুকে দরজা খুলে দিতে। যখন সে ভেতরে ঢোকে, তখন আবিষ্কার করে বসার ঘরের ফ্যান থেকে প্রত্যুষার মৃতদেহ ঝুলছে। হতবাক হয়ে প্রথমে আমি আমার চাচাকে কল করি, তারপর প্রত্যুষার বাবা-মাকে কল করি। প্রত্যুষাকে আন্ধেরির কোকিলাবেন হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ওকে মৃত ঘোষণা করা হয়।”

রাহুল দাবি করেছেন, হাসপাতাল থেকে তিনি চলে যান, প্রতুষার বন্ধুদের এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে।

“আমার বিরূদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আমি ঠিক নয়। পুলিশকে আমি আমার নাম্বার দিয়ে এসেছি। যে আইনজীবীর সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখছিলাম, তিনিই আমাকে বুদ্ধি দেন ওখান থেকে সরে পরার। তিনি বলেছিলেন, প্রত্যুষার বন্ধু এবং গণমাধ্যমকর্মীরা আমাকে আক্রমণ করে বসতে পারে। তার কথামতো ওখান থেকে চলে যাওয়াটা অবশ্যই একটা ভুল ছিল।”

রাহুল নিজেদের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন।

“আমি ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে প্রত্যুষার সঙ্গে প্রেম করছি, তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিলাম। আমি এখনও বিশ্বাস করি যে, সে আমার স্ত্রী। আমি যদি সেদিন ঘর ছেড়ে না বেরুতাম, তবে হয়তো সে এখনও বেঁচে থাকতো।”






মন্তব্য চালু নেই