মেইন ম্যেনু

প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর প্রেম অতঃপর অপহরণ

প্রথমে বন্ধুত্ব পরে প্রেম এরপর নিয়মিত ডেটিং। প্রেমিককে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এনে তোলা হয় নগ্ন ছবি, ভিডিও। এরপর এসব দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীতে বেশ কিছু চক্র এরকম প্রতারণা করে আসছিল। এরকমই একটি প্রতারক চক্রকে কাফরুল থেকে আটক করেছে র‌্যাব-৪ এর একটি দল।

মালদ্বীপ প্রবাসী ধনাঢ্য এক ব্যক্তির সঙ্গে যুবতীর আপত্তিকর ছবি তুলে এ প্রতারক দল প্রাণনাশের ও সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল। র‌্যাব অপহৃত প্রবাসী জিয়াউল হককে (৩৫) উদ্ধার করেছে। আটক করা হয়েছে চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকের। তাদের কাফরুল থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

আটককৃতরা হলো : আব্দুল মালেক (৪৫), তার স্ত্রী রাশেদা বেগম মিনু (৩৫), শিরিন আক্তার মৌ (২৫), খাইরুল আলম (৩৫), ফারুক হোসেন (২৮), আপন দু’ভাই শহিদুল ইসলাম (২৫) ও আরিফুল ইসলাম বাবু। আরও তিন জন পালিয়ে গেছে। র‌্যাব সদস্যরা প্রতারক চক্রের কাছ থেকে ৩২ হাজার ২০০ টাকা, ৩৩ মার্কিন ডলার, দুই ক্যান বিয়ার ও ৮টি দামি মোবাইল সেট উদ্ধার করেছে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৪ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মাদ আবু সাইদ খান জানান, আব্দুল মালেক এবং তার স্ত্রী রাশেদা বেগম মিনু ৪২৮, উত্তর ইব্রাহিমপুর (বর্ণমালা সড়ক) নিচতলায় ভাড়া বাসায় থাকতো। শিরিন আখতার মৌ কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রবাসী জিয়াউল হকের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব এবং পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে ভিকটিমকে বেড়ানোর কথা বলে নিজ বাসায় ডেকে আনে।

পরিকল্পনা মতে, বাকিরা আকস্মিভাবে বাসায় প্রবেশ করে নিজেদেরকে পুলিশ, সাংবাদিক, এলাকার বড় ভাই পরিচয় দিয়ে জিয়াউল হককে আক্রমণ করে এবং জোরপূর্বক শিরিন আক্তার মৌয়ের সঙ্গে তার আপত্তিকর ছবি তোলে। ছবিগুলো পত্রিকায় প্রকাশ এবং তাকে থানা পুলিশে সোপর্দ করার ভয় দেখানো হয়। এক পর্যায়ে জিয়াউল হককে মারধর করে তার কাছে থাকা নগদ ৩২ হাজার ২০০ টাকা, ৩৩ ডলার এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এছাড়া ভিকটিমকে খুন করা হবে এমন ভয় দেখিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তার আত্মীয়-স্বজনকে ফোন করে। পরে তার পরিবারের সদস্যরা র‌্যাবের সহযোগিতা চাইলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সেখানে অভিযান চালায়। এরা এর আগেও অন্য আরোও প্রবাসীর সঙ্গে এমন প্রতারণা ও মুক্তিপণ আদায় করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে।






মন্তব্য চালু নেই