মেইন ম্যেনু

প্রথম সৌরবিদ্যুৎ চালিত বাস

শিশু পল আইজাক মুসাসিজির শৈশব কেটেছে ভাঙ্গা আর গড়ার মধ্য দিয়ে। শৈশবেই বাড়ির একমাত্র টেলিভিশনটিকে খুলে সেই টেলিভিশনে থাকা উপাদান এবং পুরনো ক্যাসেট প্লেয়ারের মোটর দিয়ে আইজাক তৈরি করেছিলেন খেলনা গাড়ি। অবশ্য আজ বয়সের হিসেবে মধ্য তিরিশে এসে আইজাক নিজেই এখন কিরা মোটরস করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্তাব্যাক্তি। গোটা উগান্ডার জনগণ আজ তাকিয়ে আইজাকের দিকে, কারণ হাজারো মানুষের জীবনযাপনের সহজলভ্যতা নির্ভর করছে তার উপর।

শৈশবের দুরন্ত আইজাক যে শুধু আজ একজন সফল ব্যবসায়ি তা নয়। পুরো আফ্রিকার প্রথম সৌরবিদ্যুত চালিত গাড়িটিও তিনিই তৈরি করেছেন। চলতি মাসের ১৬ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে বাসটির যাত্রা শুরু হয়। নিজের অনুভূতি প্রকাশে ৩০ বছর বয়সী আইজাক জানান, ‘উগান্ডাতে আমাদের সর্বক্ষণ সূর্যের তাপ আছে। উগান্ডার মতো অন্যান্য দেশগুলো গাড়ি উৎপাদন করে না। তাই আমাদের আসলে উদযাপন করা উচিত এবং ব্যবসাকে আরও বাড়ানো দরকার।’

আইজাকের তৈরিকৃত বাসটির নাম দেয়া হয়েছে কায়োলা। ৩৫ আসনবিশিষ্ট গাড়িটি দুই ব্যাটারি নিয়ে টানা ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ব্যাটারি দুটোর মধ্যে একটি ছাদে সৌর প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত এবং অন্য ব্যাটারিটি রাতের জন্য চার্জ হতে থাকে। আইজাকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাটারি চার্জ হতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দীর্ঘ রাস্তা চলতে পারে গাড়িটি।

কিরা মোটরস সম্প্রতি একটি প্রোটোটাইপ গাড়ি তৈরি করেছে এবং পরীক্ষামূলক হিসেবে কাম্পালার নিকটবর্তী জাতীয় স্টেডিয়াম পর্যন্ত চলাচল করে। উগান্ডার জন্য কায়োলার রাস্তায় নামা এক বিরাট সংবাদ। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়োরি মুসেভেনি নিজে এই গাড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন। স্থানীয়দের মতে, উগান্ডায় এই বাস বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে পেট্রোলের উপর চাহিদা অনেক কমে যাবে মানুষের। কারণ দেশটির জনগণ অধিকাংশেই সরকারি বাসের উপরই নির্ভর করেন যাতায়াতের জন্য।

উগান্ডার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আইজাকের এই বাস এক মাইলফলকের নাম। অনতিবিলম্বেই এই সৌরচালিত গাড়ি শুধু উগান্ডার বাজারেই নয়, বিশ্বের বাজারেও বাজারজাতকরণ করা হবে বলেও আইজাক আশা করছেন। পাশাপাশি তার মতে, মরক্কোর অনুকরণে উগান্ডারও উচিত বিশাল সৌর প্যানেল তৈরি করে দেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধান করা। উল্লেখ্য, মরক্কো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল তৈরি করেছে মরুভূমির মধ্যে।

কায়োলা নির্মানে আইজাকের ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজার ডলার। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে গেলে প্রতিটি বাস নির্মানে ব্যয় হবে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারেরও কম। কিরা মোটরসটি পুরোপুরি সরকারি হওয়ায় এর যাবতীয় ফান্ড আসে প্রেসিডেন্টের বিশেষ তহবিল থেকে। এখন আশা করা হচ্ছে, কিরা মোটরসের সাফল্যে উৎসাহী হয়ে হয়তো বড় কোনো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে।






মন্তব্য চালু নেই