মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রীকে বিপুল সংবর্ধনা, জনতার ঢল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বেলা ১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সিলেট থেকে ঢাকায় পৌছানোর পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকেই সংবর্ধনা শুরু হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন- গণভবন পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে ফুল দিয়ে অভিবাদন জানান।

তাদের হাতে ফুল ও বিভিন্ন লেখা সম্বলিত ব্যানার, প্লাকার্ড ও ফেস্টুন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর বিমানবন্দর থেকে মূল সড়কে আসা মাত্রই নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো শুরু করেন। বিমান বন্দর থেকে শুরু করে গণভবন পর্যন্ত পুরো রাস্তায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে। হাজারো মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে জনতার অভিবাদন গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী দুইটার দিকে গণভবনে প্রবেশ করেন।

এরআগে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগদান শেষে লন্ডন হয়ে দেশে ফিরেন। শুক্রবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে সিলেটে পৌঁছান তিনি।

সিলেটে এক ঘণ্টা যাত্রা বিরতি শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানের ফ্লাইটটি বেলা পৌনে একটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। সিলেটে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে সংবর্ধনা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এবং ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ দাঁড়িয়ে সর্বস্তরের জনগণ গণসংবর্ধনা জানাবে।

আওয়ামী লীগ এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংবর্ধনায় লাখো জনতার ঢল নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে শুরু করে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে ফুল নিয়ে দাঁড়িছে জনতা। প্রধানমন্ত্রী আসলেই শুরু হবে ফুল দিয়ে বরণের পালা।

বেলা ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে বিমানবন্দর সড়কে জড়ো হতে শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই অনন্য অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ অর্জন গোটা জাতির অর্জন। এটা কোনো দলের একক অর্জন নয়। তাই সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা জানাবে।

বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘ এ পথে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে সর্বস্তরের মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাবেন। বিশাল এ গণসংবর্ধনার আয়োজক আওয়ামী লীগ হলেও দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ তাতে শরিক হবেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। খোলা জিপে করে ঘুরে পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান তদারক করবেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ আজিজ এবং সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। বিশাল এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে আওয়ামী লীগ দফায় দফায় বৈঠক করেছে।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদকে মানব সভ্যতার অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে এ দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনারের কাছ থেকে পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা ২৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব হুলিন ঝাওয়ের কাছ থেকে ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন’ পুরস্কার গ্রহণ করেন। একই দিনে তিনি যোগ দেন জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আয়োজিত সংবর্ধনা ও ভোজসভায়। ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।






মন্তব্য চালু নেই