মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রীর জন্য ক্যামেরা কিনতে জার্মানি যাচ্ছেন ৩ কর্মকর্তা

প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ডিজিটাল ক্যামেরা কেনা হবে। বাজেট আড়াই কোটি টাকা। কী ক্যামেরা কেনা যায়, এখন কোন প্রযুক্তি চলছে, সেটা দেখতে জার্মানি যাচ্ছেন তিন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। এরই মধ্যে তাদের টিকিট বুকিং হয়ে গেছে। আগামী ২৫ জুলাই তাদের রওয়ানা হওয়ার কথা। এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড কাভারেজের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে একসেট ডিজিটাল ক্যামেরা ও সরঞ্জামাদির প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনের নিমিত্ত জার্মানিতে গমনের জন্য নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাদের অনুকূলে (ভ্রমণ সময় ব্যতীত) সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করছি।’

ক্যামেরা কেনার বাজেট জানালেও তিন কর্মকর্তার আসা-যাওয়া, থাকা এবং ওই দেশে ঘোরাঘুরিতে কত টাকা লাগবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই বলতে চাইছেন না। তবে এই সব খরচের পাশাপাশি ওই তিন কর্মকর্তাকে আরও কিছু বৈদেশিক মুদ্রা যে দেয়া হবে সেটা নিশ্চিত করেছেন একাধিক কর্মকর্তা।

কেবল এবারই নয়, নানা সময় কেনাকাটা বা অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের বিদেশে ভ্রমণের রীতি আছে। একে সরকারি কর্মকর্তারাই প্রমোদ ভ্রমণ বলে থাকেন। কখনও কখনও পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে যান কর্মকর্তারা আর নানা কৌশলে সেই টাকাও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আদায় করেন তারা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে নানা সময় সমালোচনাও হয়েছে। কিন্তু এই রীতি এখনও চালু আছে।

এই যুগে ক্যামেরা বাছাই করতে বিদেশে কর্মকর্তা পাঠানোর কোনো দরকার নেই বলে মনে করেন দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তে সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া আর কোনো লাভ হবে না। তিনি বলেন, ‘একটি ক্যামেরা কিনতে তিনজন কর্মকর্তা জার্মানিতে যাওয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা আমার জানা নেই। কারণ এখন ইন্টারনেটে ক্লিক করেই যে কোনো প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা যায়। এমনকি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগও করা যায়। তাহলে কেন কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠাচ্ছে সরকার।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন উঠবে। ক্যামেরা কেনার ক্ষেত্রে কতটা স্বচ্ছতা রয়েছে তা জনগণকে জানানো উচিত।’

যারা যাচ্ছেন

ক্যামেরা কিনতে যে তিন কর্মকর্তাকে পাঠানো হচ্ছে তারা হলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রেস) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহা. শিপলু জামান।

এই ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কিনতে এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লিয়াকত আলীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে এক কর্মকর্তা।

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নিউজ কাভারেজের জন্য যে ক্যামেরা রয়েছে তা পুরনো। এজন্য একটি ডিজিটাল ক্যামেরা কিনতে হবে। তাই ২৫ জুলাই আমরা জার্মানিতে যাচ্ছি।’

তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রেস) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের যাওয়া-আসার সব খরচ ব্যয় হবে সরকারিভাবে।’ কত খরচ হবে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারবো না। সব আয়োজন করেছে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)। তারা বলতে পারবে।’

জার্মানিতে গিয়ে আসলে কী করা হবে-জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যামেরা কেনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, আমরা কেবল কী ধরনের ক্যামেরা আছে তা দেখতে যাচ্ছি’।

তথ্য প্রযুক্তি বিকাশের এই যুগে ক্যামেরা দেখতে তিন কর্মকর্তাকে কেন জার্মানি পাঠাতে হবে- জানতে চাইলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মরতুজা আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।






মন্তব্য চালু নেই