মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাই আইএসবির টার্গেট!

‘সরকার উৎখাতের ছকের কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাত বা হত্যাই হচ্ছে তাদের আসল টার্গেট।’ কারণ শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বিএনপি-জামায়াতসহ ইসলামী দল ও জঙ্গী সংগঠনগুলো দেশে সংগঠিত হতে পারছে না। বিদেশে, বিশেষ করে সিঙ্গাপুরে সংগঠিত হতে হচ্ছে। জঙ্গী সম্পৃক্ততায় সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানোর পর ঢাকায় আটক পাঁচ জঙ্গী জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা জানিয়েছে।–জনকণ্ঠ।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হরকত-উল-জিহাদ (হুজি), জামা’আতুল মুজাহিদীন (জেএমবি), হিযবুত তাহরীর প্রত্যেককেই সিঙ্গাপুরে ‘ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ (আইএসবি)’ একটি জঙ্গী সংগঠনের ব্যানারে ও প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়ে তৎপরতা চালাতে হচ্ছে। সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানোর পর পাঁচজনকে ঢাকায় গ্রেফতারের পর সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো আটকদের কাছ থেকে যে তালিকা পাওয়া গেছে তার মধ্যে ১৩ ধরনের পেশা-বর্ণের মানুষকে হত্যার ছকের কথা রয়েছে। তালিকার ওপরে লেখা, ‘শত্রু : যাদের হত্যা করা প্রয়োজন। এরা হচ্ছে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশ, সিভিল ইনফরমেশন ডিফেন্স (সিআইডি), এয়ারফোর্স, নেভিফোর্স, এমপি (সম্ভবত সংসদ সদস্য), মন্ত্রী, চেয়ারম্যান (কিসের তা বলা নেই), সরকারী কর্মকর্তা (সচিব পর্যায়), লিডার্স অব গবর্নমেন্ট রিপাবলিক (কোন দলের নেতা পরিষ্কার করা নেই), গণমাধ্যমকর্মী, অবিশ্বাসী (হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, নাস্তিক, মুনাফিক ইত্যাদি)। এসব তালিকা তৈরি করা হলেও তাদের আসল টার্গেট হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই দেশে বিএনপি-জামায়াতসহ জঙ্গী সংগঠনগুলো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। গত ২৮ বছরে শেখ হাসিনাকে অন্তত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান ডিবির তদন্ত কর্মকর্তারা। আটক ‘আইএসবি’ নেতা রহমান মিজানুরের কাছ থেকে যে দলিল উদ্ধার করেছে সিঙ্গাপুর পুলিশ তাতে লেখা আছে ‘উই নিড ফর জিহাদ ফাইট’ শীর্ষক কাগজপত্র। এতে হামলার লক্ষ্যবস্তু কারা, তাদের তালিকা দেয়া হয়েছে।

ডিবি সূত্র মতে, বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের ছক, গুপ্তহত্যা, নাশকতার চক্রান্তের অভিযোগে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো পাঁচ জঙ্গী মিজানুর রহমান ওরফে গালিব হাসান, রাহা মিয়া পাইলট, আলমগীর হোসেন, তানজিমুল ইসলাম ও মাসুদ রানা ওরফে সন্টু খানকে সাত দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ভারতীয় উপমহাদেশের আল কায়েদার শাখা আনসার আল ইসলাম নামে ইতোপূর্বে সংগঠিত হয়ে সিরিয়া-ইরাকে গিয়ে আইএসে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণ জটিলতাপূর্ণ হওয়ায় তারা বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

সহিংস কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের চক্রান্ত করে। সিঙ্গাপুরে গ্রেফতারকৃতরা বাংলাদেশে ফিরে সিরিয়া-ইরাক ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন আইএসের আদলে সিঙ্গাপুরে ‘ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ(আইএসবি) গঠন করে সদস্য সংগ্রহ করে যাচ্ছিল। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে হত্যার তালিকা ও চক্রান্তের পাশাপাশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিষয়ক বইও উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি বাংলা বইও আছে, যেখানে লেখা, ‘কীভাবে ক্রিয়া-বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিস্ফোরক বানাতে হয়?’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এর আগে যে ২৬ জনকে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে রিমান্ডে আনা ৫ জনের দেয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আনসারুল্লাহ বাংলাটিম, জেএমবি, হুজি, হিযবুত তাহরীর সদস্যদের সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। এমনকি আটকের কিছুক্ষণ আগেও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যদের সঙ্গে সে সভা করছিল। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাত ও খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে একসঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনগুলোর বদলে তারাই ‘ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ (আইএসবি)’ নতুন নামে জঙ্গী সংগঠনের ব্যানারে একজোট হয়ে বড় ধরনের নাশকতারও ছক করছিল।






মন্তব্য চালু নেই